

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ও ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে আবারও উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।
রবিবার (১২ অক্টোবর) রাত দেড়টার দিকে ঢাবির স্যার এ.এফ. রহমান হলের এক্সটেনশন শাহনেওয়াজ ছাত্রাবাসের সামনে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে, যা প্রায় দুই ঘণ্টা স্থায়ী হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষের সময় একাধিক ককটেল বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। উভয় পক্ষ ইট-পাটকেল ও লাঠিসোটা নিয়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় লিপ্ত হয়। এতে কয়েকজন শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক আহত হন।
দোকান নিয়ে বিরোধ থেকেই সূচনা: ঢাকা কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল কর্মী শাহিন মৃধা শাহনেওয়াজ হলের গেটসংলগ্ন রাস্তায় আখরস নামে একটি মোবাইল দোকান বসান।
রাতে এ বিষয়ে ঢাবির কিছু শিক্ষার্থী আপত্তি জানালে কথাকাটাকাটি হয়। এরপর শাহিন বিষয়টি কলেজের নেতাদের জানান।
রাত পৌনে ১টার দিকে গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে ঢাবি শিক্ষার্থীরা ঢাকা কলেজের একজন শিক্ষার্থীকে আটকে রেখেছে। এর পরপরই ঢাকা কলেজ থেকে ৬০-৭০ জন শিক্ষার্থী শাহনেওয়াজ হলের দিকে গেলে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।
এসময় বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের মুখপাত্র আশরাফুল হাফিজ ইটের আঘাতে গুরুতর আহত হন এবং তাকে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করা হয়।
সংঘর্ষের সময় নিউমার্কেট এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। তারা উভয় পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম ও অন্যান্য ছাত্রনেতারা ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষকে শান্ত করেন।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) নিউমার্কেট জোনের সহকারী কমিশনার মো. জাহাঙ্গীর বলেন, “ফুটপাতের দোকান বসানো নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি থেকে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছি। তদন্ত চলছে, প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ঢাবির স্যার এ.এফ. রহমান হলের প্রাধ্যক্ষ সহযোগী অধ্যাপক ড. কাজী মাহফুজুল হক শুপণ বলেন, “ঘটনাটি তদন্তে একটি কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। তদন্ত শেষে আসল কারণ জানা যাবে।”
ঢাবির রুটিন প্রক্টর মুহাম্মদ মাহবুব কায়সার জানান, “আমি অসুস্থ থাকায় রাতে ঘটনাস্থলে যেতে পারিনি। সকালে বিষয়টি জেনেছি এবং বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে।”
মন্তব্য করুন
