

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


জামায়াতের সমালোচনা করলে তাদের বট টিম অনলাইনে গালাগাল করে, এমনকি কখনও শারীরিকভাবে হামলাও চালায় বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ও রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ।
সম্প্রতি এক বেসরকারি টেলিভিশনের টকশোতে অংশ নিয়ে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ আমলেও ভিন্নমত প্রকাশের স্বাধীনতা ছিল না, এখনো একই অবস্থা চলছে। আগে বলা হতো শেখ মুজিব বা শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে কিছু বলা যাবে না-এখন বলা হচ্ছে আমাদের আমির বা নেতার বিরুদ্ধেও কথা বলা নিষেধ। জামায়াতের সমালোচনা করলেই তাদের বট টিম হাজির হয়ে যায়, গালাগাল করে, কখনও শারীরিকভাবে আঘাত করতেও আসে।
তিনি আরও বলেন, আগে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে সংঘর্ষ দেখা যেত, এখন জামায়াত ও বিএনপির মধ্যে ক্ষমতা দখল ও টিকে থাকার লড়াই চলছে। রাজনীতিতে সহনশীলতার যে সংস্কৃতি প্রয়োজন, তা নেই।
জুলাই সনদ প্রসঙ্গে হান্নান মাসউদ বলেন, যারা জুলাই সনদে সই করেছেন, তাদের অধিকাংশের পরিবার এই দেশে বাস করে না। তারা এই ভূমির বাস্তবতাকে ধারণ করেন না। যদি সত্যিই তারা জুলাই অভ্যুত্থানকে গ্রহণ করতেন, তবে তার আইনি ভিত্তি নিশ্চিত না করে এমন কাগুজে সনদে অংশ নিতেন না।
এনসিপি নেতা আরও যোগ করেন, আমরা জুলাইয়ের আদর্শ ও আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়ন চাই। সেই স্বপ্নের জন্যই আমরা ঝুঁকি নিয়ে লড়েছি। কিন্তু এখনো সেই বাস্তবায়ন হয়নি। সরকার যদি জুলাই সনদ বাস্তবায়নের নিশ্চয়তা না দেয়, তাহলে আমরা আর প্রতারিত হতে চাই না।
তিনি বলেন, “আগে যেমন আওয়ামী লীগের সময় ভিন্নমত দমন করা হতো, এখন বিএনপি ও জামায়াতের রাজনীতিতেও একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। শেখ হাসিনা, বেগম জিয়া বা তারেক রহমান-কেউই সমালোচনার ঊর্ধ্বে নন। কিন্তু এখনো সেই পুরনো ফ্যাসিবাদী রাজনৈতিক সংস্কৃতি টিকে আছে।
জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে হান্নান মাসউদ বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের সময় যারা নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, তাদের অনেকেই এখন ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকারের সঙ্গে রয়েছেন। কিন্তু জুলাই সনদে স্বাক্ষরের প্রশ্নে তারা পিছিয়ে গেছেন। এতে বোঝা যায়, জুলাইয়ের আদর্শকে বাস্তবে রূপ দিতে তারা আন্তরিক নন।
শেষে তিনি বলেন, যুদ্ধ হোক বা রাজনীতি-সব সময় গরিবরাই প্রাণ দেয়, মধ্যবিত্ত দূরে থাকে, ব্যবসায়ীরা লাভের হিসাব করে, আর রাজনীতিবিদরা পরে সমঝোতায় বসেন। এবার আমরা সেই পুরনো ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি চাই না।
মন্তব্য করুন
