শুক্রবার
২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জুলাই সনদে স্বাক্ষর করবে না এনসিপি: নাহিদ ইসলাম

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ১৬ অক্টোবর ২০২৫, ১১:৪৪ এএম
expand
জুলাই সনদে স্বাক্ষর করবে না এনসিপি: নাহিদ ইসলাম

জাতীয় রাজনীতির সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম আলোচিত দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জানিয়েছে, তারা জুলাই সনদে স্বাক্ষর করবে না।

দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আইনি স্বীকৃতি ও জনমানসের কাছে স্পষ্টতা না এলে এমন কোনো প্রক্রিয়ায় তারা অংশ নেবে না।

আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বললেন, আইনি ভিত্তি ছাড়া কোনো নাটকে যাবে না দল।

বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) সকালে ঢাকায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই অবস্থান জানান এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

তিনি বলেন, আমরা স্পষ্ট করে বলছি—জুলাই সনদে কোনো ধরণের ছাড় দেওয়া যাবে না। এটা যদি বাস্তব ভিত্তিতে না হয়, তাহলে সেটা কেবল রাজনৈতিক নাটক হয়ে দাঁড়াবে। এনসিপি এমন কিছুর সঙ্গে যুক্ত হতে পারে না।

ঐক্যমত্য কমিশনের বৈঠকের পর থেকেই তৈরি হয় অনিশ্চয়তা।

এর আগের দিন, বুধবার সন্ধ্যায় জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন।

তখন তিনি বলেন—জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিষয়গুলো যদি এখনও অস্পষ্ট থাকে, তাহলে আমরা এই সনদে স্বাক্ষর দিয়ে কী অর্জন করতে চাই তা সামনে গিয়ে অনিশ্চিত হয়ে যাবে। তাই আমরা এখনো সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করিনি।

এ বক্তব্যের পরপরই রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে প্রশ্ন ওঠে—এনসিপি আদৌ সনদে স্বাক্ষর করবে কি না। সেই প্রশ্নেরই আনুষ্ঠানিক জবাব এলো বৃহস্পতিবার সকালে।

পটভূমি: কী রয়েছে ‘জুলাই সনদ’-এ?

উল্লেখ্য, জুলাই সনদ হলো চলতি বছর গণআন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে জাতীয় ঐকমত্য গঠনের একটি প্রস্তাবনা দলিল, যেখানে ন্যূনতম ১০ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—

নির্বাচনী ব্যবস্থার সংস্কার, সেনাবাহিনী নিরপেক্ষকরণ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার করে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ, নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ ইত্যাদি।

এই সনদকে কেন্দ্র করেই গঠিত হয়েছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন, যেখানে একাধিক রাজনৈতিক দল, পেশাজীবী সংগঠন ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন।

এনসিপি: আন্দোলনের ‘মুখ্য শক্তি’ হলেও আলাদা অবস্থানে

প্রসঙ্গত, জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে প্রথম সারিতে ছিল এনসিপি, যারা দীর্ঘদিন ধরে একটি স্বচ্ছ নির্বাচনী ব্যবস্থার দাবি তুলে আসছিল।

তবে রাজনৈতিক এই দলটি শুরু থেকেই বলছে— তাদের অবস্থান ‘জনগণনির্ভর ও আইনি দৃষ্টিভঙ্গিতে সুস্পষ্ট’।

এনসিপি মনে করে, শুধু রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমঝোতা কিংবা কথিত জাতীয় ঐক্যমত্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা, বাস্তব কোনো পরিবর্তন আনবে না যদি তা সাংবিধানিক ও আইনি কাঠামোর বাইরে থাকে।

এনসিপির এ ঘোষণার পর রাজনৈতিক মহলে নানা মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ বলছেন, এতে ঐক্যমত্য প্রক্রিয়ায় ভাঙন দেখা দিতে পারে।

অন্যদিকে এনসিপির পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে, আমরা আলাদা থাকলেও, জনগণের স্বার্থে সব সময় ইতিবাচক সংলাপে আগ্রহী। তবে সেটি হতে হবে সুনির্দিষ্ট ও বাস্তবসম্মত প্রক্রিয়ায়।

সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ ইসলাম জানান, আমরা আগামী সপ্তাহে নাগরিক মতামত গ্রহণে একটি জাতীয় গণশুনানির আয়োজন করব। সেখানে সাধারণ মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি ও পরামর্শ নিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেব।

এনসিপির এমন অবস্থান, রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন করে ভারসাম্য তৈরি করবে বলেই বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন