শুক্রবার
২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

উপদেষ্টারা নিজেদের আখের গোছানোর কাজে ব্যস্ত: সামান্তা শারমিন

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ১২ অক্টোবর ২০২৫, ০৬:৩৮ পিএম
সামান্তা শারমিন
expand
সামান্তা শারমিন

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা জনগণের প্রত্যাশা পূরণের বদলে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধিতেই ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, এই সরকার দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ও সাধারণ মানুষের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

রোববার (১২ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের চলমান অবস্থান কর্মসূচিতে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন তিনি।

সামান্তা শারমিন বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারকে ক্ষমতায় এনেছে দেশের ছাত্র, শিক্ষক ও সাধারণ মানুষ। কিন্তু এখন শুনছি তারা ৩০০ কোটি টাকা ব্যয়ে মন্ত্রণালয়ের গাড়ি কিনছেন, অথচ শিক্ষকদের বেতন-ভাতা বাড়ানোর দাবি তুললেই বলে, সরকারের টাকা নেই!

তিনি আরও বলেন, আমরা ভেবেছিলাম এই সরকার জনগণের পাশে থাকবে, কিন্তু এখন তারা শিক্ষাব্যবস্থার বিপক্ষে দাঁড়িয়েছে। শিক্ষা কমিশন গঠন না করা সরকারের উদাসীনতার বড় প্রমাণ।

এনসিপি নেত্রী বলেন, শেখ হাসিনার আমলে শিক্ষাব্যবস্থাকে যেভাবে ধ্বংসের পথে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল, তা রুখতে একটি কার্যকর শিক্ষা কমিশন গঠন করা জরুরি ছিল। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার সে উদ্যোগ নেয়নি।

তিনি আরও বলেন, দেশকে নির্বাচনমুখী করে ফেললেও শিক্ষকদের দুর্দশা দূর করার কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বুলেটের আঘাতে মানুষ হত্যা যেমন ভয়াবহ, শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংস করাও তেমনি এক প্রকার হত্যাকাণ্ড।

শিক্ষকদের অবমূল্যায়নই শিক্ষাব্যবস্থার সবচেয়ে বড় ক্ষতি বলে মন্তব্য করেন সামান্তা শারমিন।

তিনি বলেন, শিক্ষকদের মাত্র ২০ শতাংশ বাড়িভাড়া ও সামান্য চিকিৎসাভাতা পেতে আন্দোলন করতে হচ্ছে, এটা দেশের জন্য লজ্জাজনক। এটি প্রমাণ করে সরকার শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দিতে চায় না।

শিক্ষা উপদেষ্টার সমালোচনা করে এনসিপির এ নেত্রী বলেন, বর্তমান শিক্ষা উপদেষ্টা নিজে শিক্ষক হয়েও শিক্ষকদের কষ্টটা বুঝতে চান না। গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে আসা সরকারের উপদেষ্টাদের জনগণের কাছে সবসময় জবাবদিহি থাকতে হয়, কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে তারা জনগণ থেকে দূরে।

তিনি আরও যোগ করেন, শিক্ষকদের ন্যায্য দাবিতে ঢাকায় আসায় তাদের ওপর হামলা হয়েছে। আহতদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এটি কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। এনসিপি শিক্ষকদের পাশে ছিল, আছে এবং থাকবে।

কর্মসূচিতে আরও বক্তব্য দেন, হাসনাত আব্দুল্লাহ, ফয়সাল মাহমুদ শান্ত ও জয়নাল আবেদীন শিশিরসহ এনসিপির অন্যান্য নেতারা।

এর আগে সকাল ১০টা থেকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। দুপুরে তাদের একটি প্রতিনিধি দল অর্থ মন্ত্রণালয়ে গিয়ে বৈঠক করে ফিরে জানায়, কোনো স্পষ্ট আশ্বাস মেলেনি।

পরে শিক্ষকরা ঘোষণা দেন, শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে এবং দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা ঢাকা ছাড়বেন না। মঙ্গলবার থেকে শুরু হবে অনির্দিষ্টকালের ক্লাস বর্জন।

এ সময় শিক্ষক সমাজে বিভাজনও দেখা দেয়, একাংশ অধ্যক্ষ মাঈন উদ্দিন ও অধ্যক্ষ আজীজীর নেতৃত্বে শহীদ মিনারের দিকে গেলে, আরেক অংশ প্রেস ক্লাবের সামনে থেকে সচিবালয় অভিমুখে লংমার্চের দাবিতে অবস্থান নেয়।

দুপুরের পর প্রেস ক্লাব এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হলে পুলিশ জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে, পরে লাঠিচার্জে বেশ কয়েকজন শিক্ষক আহত হন।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন