

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও বিকল্প নীতি উপস্থাপনের লক্ষ্য নিয়ে ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ বা ‘ছায়া সরকার’ গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। দলীয় এমপিদের নিয়ে এই কাঠামো গঠনের কাজ প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
দলীয় সূত্র জানায়, সংসদীয় গণতন্ত্রে প্রচলিত ওয়েস্টমিনস্টার মডেল অনুসরণ করে এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে চারটি মূল লক্ষ্য সামনে রেখে এই ছায়া সরকার গঠন করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে অনানুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রমও শুরু হয়েছে।
আগামী ৭ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া বাজেট অধিবেশনকে কেন্দ্র করে এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতি চলছে। জোটের নীতিনির্ধারক পর্যায়ের একাধিক নেতা জানিয়েছেন, অধিবেশনের শেষ দিকে ছায়া সরকারের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে।
এর আগে ৫ ও ৬ জুন দলীয় এমপিদের নিয়ে প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে ছায়া সরকারের কাঠামো, দায়িত্ব বণ্টন এবং কার্যপদ্ধতি নিয়ে আলোচনা হবে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি কোন এমপি কোন মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব নিতে আগ্রহী, তা-ও জানা হবে। পরে নীতিনির্ধারক পর্যায় থেকে নির্দিষ্ট দায়িত্ব বণ্টন করা হবে। একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব এক ব্যক্তিকে দেওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
ছায়া সরকারের প্রধান উদ্দেশ্য হিসেবে চারটি বিষয়কে সামনে রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, সরকারি মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ, বিকল্প নীতি ও কর্মপরিকল্পনা প্রস্তাব, বিরোধী নেতাদের প্রশাসনিক বিষয়ে দক্ষ করে তোলা এবং সরকারের ভুল-ত্রুটি জনসমক্ষে তুলে ধরে জবাবদিহি নিশ্চিত করা।
বিষয়টি সম্পর্কে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও এমপি রফিকুল ইসলাম খান বলেন, ছায়া সরকার গঠনের বিষয়ে আগেই ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, এখন সেই অনুযায়ী প্রস্তুতি চলছে। সময়মতো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে।
আরেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ জানান, কাঠামোগত কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং অনানুষ্ঠানিকভাবে কিছু কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বাজেট অধিবেশনের পর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে।
দলীয় এমপিদের মধ্যে সম্ভাব্য দায়িত্ব বণ্টন নিয়েও আলোচনা চলছে। প্রাথমিক তালিকায় স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্র, প্রতিরক্ষা, স্থানীয় সরকার, আইন, তথ্য ও সম্প্রচার, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, আইসিটি, ধর্ম, শ্রম ও কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়কে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ওয়েস্টমিনস্টার ধাঁচের সংসদীয় ব্যবস্থায় ছায়া সরকার বিরোধী দলের নীতি প্রণয়ন ও সরকারকে জবাবদিহির আওতায় আনার একটি কার্যকর মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। সরকারে থাকা প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের বিপরীতে একজন ছায়া মন্ত্রী দায়িত্ব পালন করেন, যিনি সংশ্লিষ্ট নীতি পর্যবেক্ষণ ও বিকল্প প্রস্তাব দেন।
যদিও বাংলাদেশে এ ধরনের কাঠামো আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন, তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিরোধী জোটের এ উদ্যোগ সংসদীয় রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে। সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা না থাকলেও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় শক্তিশালী বিরোধী ভূমিকা নিশ্চিত করতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
