

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে এমন কিছু মন্তব্য করেছেন, যা রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
তিনি বলেছেন, উপদেষ্টাদের অনেকেই এখন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন-কেউ কেউ নিজেদের নিরাপদ প্রস্থান বা সেফ এক্সিট নিশ্চিত করতে চাইছেন।
এই বক্তব্য প্রকাশিত হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তা দ্রুত ভাইরাল হয়। অনেকে প্রশ্ন তুলছেন-কারা সেই উপদেষ্টারা, যাদের কথা তিনি বলেছেন, আর সত্যিই কি এমন কোনো যোগসাজশ চলছে?
নাহিদ ইসলামের এই মন্তব্য রাজনীতির অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার ঢেউ তুলেছে। অনেকে তার বক্তব্যকে অত্যন্ত সাহসী ও বাস্তবমুখী বলে প্রশংসা করলেও, কেউ কেউ এটিকে অভ্যুত্থানের ইতিহাস বিকৃত করার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন।
একাত্তর টেলিভিশনের ফেসবুক পেজে এ-সংক্রান্ত পোস্টে ১২ হাজারেরও বেশি প্রতিক্রিয়া ও প্রায় দেড় হাজার মন্তব্য জমা পড়ে মাত্র একদিনে-যা বিষয়টির প্রতি মানুষের আগ্রহই স্পষ্ট করে।
গত বছরের জুলাই মাসে গণ-অভ্যুত্থানের সময় আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের এক দফা আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম।
পরবর্তীতে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হলে তিনি তথ্য উপদেষ্টা হিসেবে যোগ দেন। তবে গত ফেব্রুয়ারিতে তিনি পদত্যাগ করে জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়কের দায়িত্ব নেন।
ছাত্র আন্দোলনের অন্য দুই মুখ-মাহফুজ আলম ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া-এখনও উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করছেন।
একাত্তর টেলিভিশনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা কেউ সরকারে যেতে চাইনি, বরং একটি জাতীয় সরকার গঠনের পক্ষে ছিলাম। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক শক্তি ছাড়া অন্তর্বর্তী সরকার তিন মাসও টিকত না।
তিনি আরও বলেন, আমরা কিছু নেতাকে অতিরিক্ত ভরসা করেছি-সেটা ভুল ছিল। অনেকেই গণ–অভ্যুত্থানের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন, নিজেদের আখের গুছিয়েছেন। সময় এলে আমরা তাদের নাম প্রকাশ করব।
নাহিদের মতে, কিছু উপদেষ্টা জনগণের পরিবর্তে রাজনৈতিক স্বার্থে কাজ করেছেন, যা অভ্যুত্থানের চেতনার সঙ্গে বেইমানি।
নাহিদ ইসলাম বলেন, উপদেষ্টারা যদি মনে রাখতেন যে তাদের নিয়োগকর্তা কোনো রাজনৈতিক দল নয়, বরং রাজপথে রক্ত দেওয়া সেই সাধারণ মানুষ, তাহলে এই বিচ্যুতি হতো না। এখন অনেকেই নিজের নিরাপত্তা, পদ বা ভবিষ্যৎ নিয়ে বেশি ভাবছেন।
মন্তব্য করুন