শুক্রবার
৩০ জানুয়ারি ২০২৬, ১৭ মাঘ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
৩০ জানুয়ারি ২০২৬, ১৭ মাঘ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তারেক রহমান সন্ত্রাসীদের গডফাদার ও মাস্টারমাইন্ড: নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী

এনপিবি প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ০৪:০২ পিএম
expand
তারেক রহমান সন্ত্রাসীদের গডফাদার ও মাস্টারমাইন্ড: নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী

সারাদেশে বিরোধী পক্ষের উপর হামলার মাস্টারমাইন্ড এবং সন্ত্রাসীদের গডফাদার তারেক রহমান বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী।

সন্ত্রাসের পথ ছেড়ে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পথ অনুসরণ করার পরামর্শ দিয়ে তরুণ এই নেতা বলেন, ‘আপনার পিতা জিয়াউর রহমান গণতন্ত্রের পক্ষে ছিলেন। আপনার মা খালেদা জিয়াকে বালুর ট্রাক দিয়ে আঁটকে রেখেছিল। কোনো নেতা গিয়ে তাকে ছাড়াতে পারেনি। আপনার মা কে যারা মুক্ত করেছে তাদের বুকে বুলেট চালাবেন না। অকৃতজ্ঞ হবেন না।’

দেশব্যাপী নারীর প্রতি সংহিসতা ও বিএনপি সন্ত্রাসীদের বর্বরোচিত হামলার প্রতিবাদে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের উদ্যোগে বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম উত্তর গেইটে বিক্ষোভ মিছিল পূর্বক প্রতিবাদ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন জামায়াতের সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম । গতকাল শেরপুরের ঝিনাইগাতি উপজেলায় বিএনপির নেতাকর্মীদের হামলায় জামায়াতের উপজেলা সেক্রেটারি নিহত হন।

নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারি তার বক্তব্যে বলেন, আজ আমরা দাঁড়িয়েছি শহিদ ভাইয়ের লাশ সামনে নিয়ে। এই শহিদী মিছিলে আছেন আমাদের প্রিয় শহিদ ওসমান হাদী ভাই। এই শহিদী মিছিলে আরো আছেন ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতের আন্দোলনে খুন হওয়া শহিদেরা। আরো আছেন ২৮ অক্টোবরের শহিদ যাদের লাশের উপর নৃত্য করেছিল ফ্যাসিস্ট দল। সময় আছে, শেখ হাসিনা থেকে আপনারা শিক্ষা নিন। তারা শহিদী মিছিল বড় করেছিল। এখন হাসিনা দিল্লিতে, কিন্তু আমরা দেশে আছি। আমরা এক আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় পাই না।

তিনি আরো বলেন, আমাদের ধৈর্য্যের বাঁধ ভাঙ্গবেন না। আমরা ধৈর্য্য ধারণ করছি। যদি ধৈর্য্যের বাঁধ ভেঙ্গে যায় তবে আপনার পরিণতিও হবে হাসিনার মত। বাংলাদেশের মানুষ মুখিয়ে আছে ব্যালটের মাধ্যমে এই সন্ত্রাসের জবাব দেওয়ার। আপনাদেরকে ব্যালটের মাধ্যমে পরাজিত করে এই হত্যার প্রতিশোধ নিব আমরা।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম বলেছেন, ‘ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের মতোই বিএনপি হত্যার পথ বেছে নিয়েছে। তিনি বলেন, তাদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জবাব জনগণ আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ব্যালটের মাধ্যমে দেবে। ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ যেভাবে বিদায় নিতে হয়েছে ১২ ফেব্রুয়ারি এদেশ থেকে সন্ত্রাসীদের বিদায় নিতে হবে।

মাওলানা আব্দুল হালিম বলেন, ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে বিএনপি সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়ে মূলত তারা প্রমান করেছে তারা নির্বাচন বানচাল করত চায়। প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রার্থী ও প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারা উদ্বেগের বিষয় উল্লেখ করে আব্দুল হালিম বলেন, প্রশাসনের নিরবতায় বিএনপি সন্ত্রাসীরা শেরপুর-৩ আসনের ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে বর্বরোচিত হামলা চালিয়েছে। আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে শেরপুর-৩ আসনের সহকারী রিটার্নিং অফিসার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানার ওসিকে প্রত্যাহার করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, তাদের অধিনে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়।

দলটির কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমীর এডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এডভোকেট মোয়াযযম হোসেন হেলাল বলেন, প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে বিএনপির সন্ত্রাসীরা কীভাবে হামলা করলো এবং কেন করলো এর জবাব প্রশাসনকে দিতে হবে। তিনি বলেন, নির্বাচনী আইনে এজাতীয় ঘটনার জন্য দায়ী প্রার্থীর প্রার্থীতা বাতিল করার বিধান আছে কিন্তু কমিশন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। প্রশাসন এখন পর্যন্ত কোনো সন্ত্রাসীদের আটক না করায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারী ব্যালটের মাধ্যমে জনগণ প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের জবাব দেবে।

জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি (ঢাকা-৫ আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১১ দলীয় জোট সমর্থিত এমপি প্রার্থী) মোহাম্মদ কামাল হোসেনের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকা-৬ আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১১ দলীয় জোট সমর্থিত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ড. আব্দুল মান্নান, ঢাকা-৮ আসনে শাপলা কলি প্রতীকে ১১ দলীয় জোট সমর্থিত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ শামছুর রহমান, ঢাকা-৪ আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১১ দলীয় জোট সমর্থিত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী সৈয়দ জয়নুল আবেদীন। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য যথাক্রমে অধ্যাপক মোকাররম হোসাইন খান, আবদুস সালাম, কামরুল আহসান হাসান, শাহীন আহমেদ খান, মাওলানা শরিফুল ইসলাম প্রমুখ। এছাড়াও সমাবেশে ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সকল সাংগঠনিক থানার দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সভাপতির বক্তব্যে ড. হেলাল উদ্দিন বলেন, একটি দলের প্রধান দেশে এসেই নির্বাচন কমিশনকে বুড়োআঙুল দেখিয়ে সমাবেশ করেছে। ২২ জানুয়ারির আগে সভা-সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তারা সেই নিষেধাজ্ঞা মানেনি। বিএনপি কৃষক কার্ড, ফ্যামিলী কার্ডের পরিবর্তে খুনের কার্ড নিয়ে মাঠে নেমেছে। তিনি বিএনপিকে সন্ত্রাসের রাজনীতি পরিহার করে জামায়াতে ইসলামীকে অনুসরণ করে রাজনীতি করার আহ্বান জানান। ড. হেলাল উদ্দিন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, শেরপুরের ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্ত্রাসীদের অনতিবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে।

সমাবেশ শেষে, এক বিক্ষোভ মিছিল বায়তুল মোকাররম উত্তর গেইট থেকে শুরু হয়ে বিজয়নগর, কাকরাইল হয়ে শান্তিনগর গিয়ে শেষ হয়।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

X