শুক্রবার
২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদে জামায়াতের জয়ে ভারতকে সতর্ক করলেন শশী থারুর

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৯:৩৬ পিএম
ভারতের কংগ্রেস দলের প্রবীণ নেতা ও সংসদ সদস্য শশী থারুর
expand
ভারতের কংগ্রেস দলের প্রবীণ নেতা ও সংসদ সদস্য শশী থারুর

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে জামায়াতপন্থী ছাত্র সংগঠনের জয়কে গুরুত্ব দিয়ে ভারতের কংগ্রেস দলের প্রবীণ নেতা ও সংসদ সদস্য শশী থারুর মন্তব্য করেছেন—বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা ভারতকে অবহেলা করা উচিত হবে না।

রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) এনডিটিভিতে প্রকাশিত একটি মতামতে তিনি লেখেন, ঢাবি ছাত্র সংসদে জামায়াতপন্থীদের জয় ১৯৭১ সালের পর প্রথমবারের মতো ইসলামপন্থী কোনো সংগঠনের হাতে এ ধরনের নিয়ন্ত্রণ যাওয়ার ঘটনা। তার মতে, এটি কেবল বিচ্ছিন্ন কোনো বিষয় নয়, বরং ভবিষ্যতের জন্য বড় ধরনের ইঙ্গিত।

আওয়ামী লীগ–বিএনপি থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া

থারুর বিশ্লেষণ করেছেন, এই ফলাফল আসলে বাংলাদেশের দুই প্রধান রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রতি জনগণের আস্থাহীনতার প্রতিফলন। তিনি উল্লেখ করেন, সাধারণ মানুষ এবং তরুণ সমাজ এই দলগুলোকে দুর্নীতি, পক্ষপাতিত্ব ও সহিংস রাজনীতির প্রতীক হিসেবে দেখে। তাই হতাশ তরুণরা বিকল্প শক্তি খুঁজছে। তবে তিনি এটাও পরিষ্কার করেছেন, ভোট মানে সরাসরি ইসলামপন্থী রাজনীতির প্রতি অগাধ সমর্থন নয়; বরং নতুন দিক খোঁজার প্রবণতা।

জামায়াতের নতুন সুযোগ

তার মতে, দীর্ঘ সময় ধরে দমন-পীড়নের শিকার জামায়াত এখন তরুণদের মধ্যে নতুনভাবে জায়গা করে নিচ্ছে। আওয়ামী লীগ রাজনৈতিকভাবে নিষিদ্ধ, বিএনপি নেতৃত্বের সংকটে ভুগছে—এই অবস্থায় জামায়াত ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে সুযোগ পেতে পারে।

ভারতের জন্য সতর্কবার্তা

থারুর সতর্ক করেন, যদি জামায়াত সরাসরি ক্ষমতায় যায় অথবা সরকারে প্রভাব বিস্তার করে, তবে ভারতকে জটিল পরিস্থিতির মুখে পড়তে হতে পারে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে তাদের সমন্বয় সীমান্ত নিরাপত্তা ও বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের জন্যও ঝুঁকি ডেকে আনতে পারে।

নয়াদিল্লির করণীয়

থারুর বলেন, ভারতের জন্য এই নির্বাচন একটি সতর্কসংকেত। তাই প্রতিবেশী দেশের রাজনীতিকে কেবল ‘অভ্যন্তরীণ বিষয়’ হিসেবে দেখা উচিত হবে না। তিনি ভারত সরকারকে আহ্বান জানান—পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করা, নতুন উদীয়মান শক্তিগুলোর সঙ্গে সংলাপ রাখা, এমনকি জামায়াতের ভেতর সংস্কারপন্থীদের সঙ্গেও যোগাযোগ স্থাপন করার জন্য।

তার ভাষায়, “আমরা এতদিন যে কৌশলগত সম্পর্কের ওপর নির্ভর করেছি, তা এখন চ্যালেঞ্জের মুখে। বাস্তবতা যত দ্রুত মেনে নেব, তত দ্রুত আমরা প্রস্তুত হতে পারব।”

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন