

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


রাজধানীর উত্তরার ১২ নম্বর সেক্টরের বায়তুন নূর জামে মসজিদের খতিব মাওলানা নাজমুল হাসান কাসেমীর বিরুদ্ধে জুমার খুতবায় জামায়াতে ইসলামীর সমালোচনা করার অভিযোগ এনে তাকে একটি চিঠি পাঠায় দলটি।
উত্তরা পশ্চিম থানা জামায়াতে ইসলামীর দপ্তর সম্পাদক জি. এম. আসলামের স্বাক্ষরিত ওই চিঠি ১৬ অক্টোবর পাঠানো হয়।
শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তা ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয়।
চিঠিতে অভিযোগ করা হয়, বায়তুন নূর জামে মসজিদ উত্তরার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মসজিদ, যেখানে বিভিন্ন মতাদর্শের বহু মানুষ নামাজ আদায় করেন। অথচ ১০ অক্টোবরের জুমার খুতবায় খতিব মাওলানা নাজমুল হাসান কাসেমী নাকি জামায়াতে ইসলামী সম্পর্কে “ভুল ও পক্ষপাতদুষ্ট” মন্তব্য করেছেন—যা সমাজে বিভাজন সৃষ্টি করতে পারে বলে দলটির দাবি।
পত্রে আরও উল্লেখ করা হয়, ধর্মীয় বয়ান যেন কোনো রাজনৈতিক পক্ষপাত থেকে মুক্ত থাকে, এবং ভবিষ্যতে এমন মন্তব্য থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়। সতর্ক করা হয়—পুনরাবৃত্তি ঘটলে এর দায়ভার মসজিদ কমিটি ও খতিবের ওপর বর্তাবে।
তবে আজ জুমার নামাজের আগে মিম্বারে বসেই চিঠিটি প্রকাশ্যে প্রত্যাখ্যান করেন মাওলানা নাজমুল হাসান কাসেমী। উপস্থিত মুসল্লিদের সাক্ষ্যে জানা গেছে, তিনি খুতবায় বলেন,
“রোজা আর পূজা এক নয়। আমি আগেও বলেছি, আজ আবার বলছি—সংযত হোন, তাওবা করুন।”
এরপর তিনি মুসল্লিদের সামনে জামায়াতের পাঠানো চিঠিটি প্রদর্শন করে বলেন, “এটি আমি গ্রহণ করছি না।” তাঁর বক্তব্য শেষে উপস্থিত মুসল্লি ও মসজিদ কমিটির সদস্যরা “নারায়ে তাকবির, আল্লাহু আকবার” ধ্বনি দেন, এবং খতিব নিজ হাতে চিঠিটি ছিঁড়ে ফেলেন।
চিঠিতে আরও উল্লেখ ছিল—খতিব ব্যক্তি হিসেবে যেকোনো রাজনৈতিক মতাদর্শ ধারণ করতে পারেন, কিন্তু মসজিদের মিম্বার থেকে রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়া অনুচিত। কারণ মসজিদে নানা দলের ও চিন্তাধারার মানুষ একত্রে নামাজ আদায় করেন, তাই ধর্মীয় স্থানে দলীয় মত প্রচার করা শোভন নয়।
মসজিদ কমিটিকে উদ্দেশ করে বলা হয়, যেন মসজিদে সব মুসল্লি শান্তিপূর্ণভাবে জুমা আদায় করতে পারেন, এবং খতিবের পক্ষপাতমূলক বক্তব্যের বিরুদ্ধে প্রয়োজনে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
চিঠির অনুলিপি পাঠানো হয় ডিয়ারাবাড়ী আর্মি ক্যাম্প, উত্তরা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিএমপি), উত্তরা পশ্চিম থানার ওসি, এবং ১২ নম্বর সেক্টর কল্যাণ সমিতির সভাপতি ও সম্পাদক বরাবর।
মন্তব্য করুন
