বুধবার
০১ জুলাই ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বুধবার
০১ জুলাই ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সংসদ বিট সাংবাদিকদের সাথে বিরোধীদলীয় নেতার মতবিনিময় 

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ০১ জুলাই ২০২৬, ০৮:১৩ পিএম
সংসদ বিট সাংবাদিকদের সাথে বিরোধীদলীয় নেতার বাজেট পরবর্তী মতবিনিময় অনুষ্ঠিত
expand
সংসদ বিট সাংবাদিকদের সাথে বিরোধীদলীয় নেতার বাজেট পরবর্তী মতবিনিময় অনুষ্ঠিত

সংসদ বিট সাংবাদিকদের সাথে বিরোধীদলীয় নেতার মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১ জুলাই) দুপুরে জাতীয় সংসদের এলডি হলে বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান জাতীয় সংসদের বিট সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করেন।

উক্ত সভায় সাংবাদিকদের বিভিন্ন সমসাময়িক ও রাজনৈতিক প্রশ্নের উত্তর দেন আমীরে জামায়াত।

বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সরকার বাজেট উপস্থাপনের আগেই বিরোধী দল একটি ছায়া বাজেট প্রকাশ করেছিল। তাদের মূল্যায়নের সঙ্গে উপস্থাপিত বাজেটের সামগ্রিক চিত্রের মিল রয়েছে।

তিনি বলেন, বড় বাজেট করাই সমস্যা নয়; মূল চ্যালেঞ্জ হচ্ছে বাজেট বাস্তবায়নের সক্ষমতা এবং দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ।

আমীরে জামায়াত বলেন, তৃতীয় বিশ্বের একটি দেশ হিসেবে আমরা এখনও আমাদের অর্থনীতিকে একটি সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে পারিনি। এর কারণ কিন্তু আমাদের সম্পদের অভাব নয়; বরং মূল কারণ হচ্ছে দূরদর্শী ভিশন ও সততার অভাব। একটি জাতি স্বাধীনতার ৫৫ বছরে কোথায় গিয়ে পৌঁছাবে, তা শুধু জনগণ একা নির্ধারণ করে না। জনগণ যাদের ম্যান্ডেট দিয়ে নেতৃত্ব ও রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দেয়, সেই নেতৃত্বের ওপরই মূলত এ সুদূরপ্রসারী দায়িত্ব বর্তায়।

তিনি অভিযোগ করেন, গত সাড়ে ১৫ বছরে বিপুল অর্থ বিদেশে পাচার হয়েছে। দুর্নীতি দমন ও বাস্তবায়ন ব্যবস্থায় মৌলিক সংস্কার ছাড়া বাজেটের সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাবে না।

তিনি আরও বলেন, বাজেটে ৬১টি পণ্যের ওপর কর কমানো বা প্রত্যাহার করা হয়েছে। এখন দেখা দরকার এর সুফল বাজারে প্রতিফলিত হয় কি না। অন্যথায় জনগণের পরিবর্তে সিন্ডিকেটই লাভবান হবে।

সাবেক আমীরে জামায়াত অধ্যাপক গোলাম আযম প্রথম কেয়ারটেকার সরকার ফর্মুলা জাতির সামনে উপস্থাপন করেছিলেন উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বর্তমান বিরোধী দল শুরু থেকেই তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে সংবিধানে স্থায়ীভাবে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছিল। পরবর্তীতে গণভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় সংস্কারের যে জনমত সৃষ্টি হয়, তার পূর্ণ বাস্তবায়ন হওয়া উচিত ছিল বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তার দাবি, জনগণের দেওয়া সংস্কারের ম্যান্ডেট বাস্তবায়নে সরকারি দলের অবস্থান পরিবর্তনের ফলে রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে।

তিনি বলেন, সংসদের ভেতরে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ সীমিত হওয়ায় বিরোধী দল জনগণের কাছে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে তাদের সব কর্মসূচি হবে শান্তিপূর্ণ, নিয়মতান্ত্রিক ও অহিংস।

তিনি বলেন, সংসদকে জনগণের সমস্যা ও রাষ্ট্রীয় নীতি নির্ধারণের কার্যকর প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। সংসদকে বিনোদনের স্থান নয়, বরং জবাবদিহির কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, ছায়া মন্ত্রিসভাকে ভবিষ্যতে একটি স্থায়ী প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোয় রূপ দেওয়া হবে, যাতে দল যদি ক্ষমতায়ও যায় সরকারের কার্যক্রমের গঠনমূলক পর্যালোচনা অব্যাহত থাকবে।

প্রবাসী শ্রমিকদের বিষয়ে তিনি বলেন, মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠাতে অতিরিক্ত অর্থ আদায় বন্ধ করতে হবে এবং এ ধরনের অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।

এ ছাড়া বাজেটে সরকারি ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের জন্য উন্নয়ন বরাদ্দে বৈষম্যের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় কোষাগারে সব নাগরিকই কর দেন; তাই উন্নয়ন বরাদ্দেও সমতা নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জনগণ গণভোটের মাধ্যমে আমাদের রাষ্ট্রীয় সংস্কারের ম্যান্ডেট দিয়েছে। সংবিধান সংশোধনের জন্য সংসদের স্বাভাবিক আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়াই যথেষ্ট। এর জন্য আলাদা কোনো সংবিধান সংশোধন কমিটির প্রয়োজন নেই।

অর্থবছর সংক্রান্ত আরেক প্রশ্নের জবাবে আমীরে জামায়াত বলেন, এ বিষয়ে সংসদে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেওয়া হবে। একই সঙ্গে প্রতি তিন মাস অন্তর বাজেট বাস্তবায়নের মূল্যায়ন নিশ্চিত করে প্রকৃত জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার দাবি জানানো হবে।

বিরোধীদলের আন্দোলন সংক্রান্ত আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের আন্দোলন হবে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ, নিয়মতান্ত্রিক ও অহিংস। সংসদের ভেতরে যেমন দায়িত্বশীল আচরণ করেছি, বাইরেও গণতান্ত্রিক কর্মসূচিই পালন করব।

তিস্তা মহাপরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জাতীয় স্বার্থে তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। আমরা স্বাধীন ও সার্বভৌম পররাষ্ট্রনীতিতে বিশ্বাস করি এবং জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে কোনো আপস করব না।

মতবিনিময় সভা শেষে বিরোধীদলীয় নেতা উপস্থিত সাংবাদিকদের ধন্যবাদ জানান এবং মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানান।

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর এটিএম আজহারুল ইসলাম ও অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর নূরুল ইসলাম বুলবুল, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর মো. সেলিম উদ্দিন, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ও জাতীয় সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এবং জামায়াত নেতা ড. নাজিবুর রহমান মোমেন এমপি, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি এডভোকেট আতিকুর রহমান ও হাফেজ রাশেদুল ইসলাম প্রমুখ।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
UPCOMING
England VS Congo DR
Scheduled
01 Jul, 10:00 PM
VS
World Cup