

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও কুমিল্লা-১০ (লালমাই–নাঙ্গলকোট) আসনে দলীয় মনোনীত এমপি প্রার্থী মাওলানা মুহাম্মদ ইয়াছিন আরাফাত বলেছেন, দেশের মানুষ আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির শাসন দেখেছে। এখন তারা বিকল্প হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে একটি সৎ ও ন্যায়ের সরকার দেখতে চায়।
গত শুক্রবার (১০ অক্টোবর) বিকেলে লালমাই উপজেলার হরিশ্চর ইউনিয়ন হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে পেরুল উত্তর ইউনিয়ন জামায়াতের সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মাওলানা ইয়াছিন আরাফাত বলেন, ভোট শুধু অধিকার নয়, এটি একটি আমানত। যদি আপনি অসৎ বা দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তিকে ভোট দেন, আর সে পরে জনগণের সম্পদ লুট করে, খুন বা অন্যায় করে, তবে তার দায়ও ভোটদাতার ওপর বর্তাবে। তাই সৎ, যোগ্য ও আল্লাহভীরু প্রার্থীকে ভোট দিতে হবে।
তিনি বলেন,আমার ভোট আমি দেবো, যাকে খুশি তাকে দিবো- এ স্লোগান আর চলবে না। কারণ, ভোট একটি আমানত। আপনার এই আমানত বা ভোটে নির্বাচিত হওয়ার পর ওই নির্বাচিত প্রতিনিধি যদি খুন করে কিংবা জনগণের চাল, ডাল, ডিম চুরি করে তাহলে সেই দায়ভার আপনাকেই নিতে হবে। তাই সৎ, যোগ্য ও দক্ষ প্রার্থী দেখে ভোট দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আমরা এমন একটি রাষ্ট্র গড়তে চাই যেখানে সকল নাগরিক নিরাপদে বসবাস করতে পারবে। আমির ডা. শফিকুর রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী, আমরা বিশ্বাস করি, মুসলমানদের মসজিদ যদি নিরাপদ হয়, তবে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টানসহ সব ধর্মের উপাসনালয়ও নিরাপদ থাকবে। ধর্ম, বর্ণ বা সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে নয়, জন্মগত অধিকার নিয়েই সবাই এ দেশে সমানভাবে বসবাস করবে।
জামায়াত প্রস্তাবিত পিআর পদ্ধতি নিয়ে তিনি বলেন, এই পদ্ধতিতে প্রত্যেক ভোটের মূল্যায়ন হবে। মানুষকে বোঝানো হচ্ছে, চৌদ্দগ্রামে ভোট দিলে নাকি কুড়িগ্রামে এমপি হবে, যা সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। বিশ্বের ৯১টি দেশে পিআর ব্যবস্থা চালু আছে। চাইলে জেলাভিত্তিকভাবেও এই পদ্ধতি কার্যকর করা সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, যারা পিআর ব্যবস্থা নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে, তারা জনগণের মঙ্গল নয়, বরং নিজেদের স্বার্থ হাসিল করতে চায়।
বিগত দমন-নির্যাতনের প্রসঙ্গে জামায়াতের এই নেতা বলেন, গত ১৬ বছর ধরে আমাদের নেতাকর্মীরা অন্যায় ও জুলুমের মুখেও দেশের আদর্শ রাষ্ট্র গঠনের স্বপ্ন থেকে সরে আসেনি। আমরা চেয়েছিলাম, ৫ আগস্টের পর নতুন বাংলাদেশে দুর্নীতি, দখলবাজি ও টেন্ডারবাজির অবসান ঘটবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল, শুধু চেহারা বদলেছে, আচরণ নয়। এখনো দখলবাজি ও চাঁদাবাজি চলছে, যদিও জামায়াতে ইসলামী এসব অপকর্মের সঙ্গে কখনো জড়িত নয়।
সম্মেলনে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও কুমিল্লা-৯ আসনের এমপি প্রার্থী ড. একেএম সৈয়দ সরোয়ার উদ্দিন সিদ্দিকী।
মন্তব্য করুন
