

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের মানবাধিকার বিভাগের প্রকাশিত সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দেশব্যাপী মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে বিচার বহির্ভূত হত্যার ঘটনা এবং রাজনৈতিক সহিংসতার পরিসংখ্যান এতে তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী দ্বারা ৫টি বিচারের বাইরে সংঘটিত ঘটনায় ৭ জন নিহত ও ২৫ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া ৪৩টি গণপিটুনীতে ২৪ জন নিহত ও ৩২ জন আহত হয়েছেন। তবে কোনো গুমের ঘটনা ঘটেনি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
রাজনৈতিক সহিংসতায় সেপ্টেম্বরে ৪২টি সংঘর্ষ ঘটে, এতে ৯ জন নিহত এবং ৩০৪ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে বিএনপি নিজেদের মধ্যে ২৪ বার সংঘর্ষে জড়ায়, ৭ জন নিহত ও ১৯২ জন আহত হয়। বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মধ্যে ৭ বার সংঘর্ষ ঘটে, এতে ১ জন নিহত ও ৪৩ জন আহত হন। জামায়াত ও আওয়ামী লীগ একবার সংঘর্ষে জড়ায়, এতে একজন নিহত হয়। অন্যান্য রাজনৈতিক দলও একবার সংঘর্ষে জড়ায়, এতে ১০ জন আহত হন।
বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় সাতটি সহিংসতার ঘটনায় ৪৫ জন আহত হন। মানবাধিকার প্রতিবেদনে সমাবেশে বাধা প্রদানের তিনটি ঘটনায় ২৬ জন আহত হলেও কেউ নিহত হননি। সীমান্তে বিএসএফের সঙ্গে ১৩টি সংঘাতের ঘটনায় তিনজন আহত হন।
প্রতিবেদনে নারী নির্যাতনের বিষয়েও বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে। সেপ্টেম্বর মাসে ৬১ জনকে ধর্ষণ করা হয়, এতে ৩ জন নিহত ও ৫৮ জন আহত হন। এছাড়া ১৮ জনের সঙ্গে গণধর্ষণের ঘটনা ঘটে। যৌতুক নিয়ে পাঁচটি নির্যাতনের ঘটনায় ২ জন নিহত ও ৩ জন আহত হন।
পারিবারিক সহিংসতায় ৮৫টি ঘটনা ঘটে, এতে ৫৯ জন নিহত ও ২৬ জন আহত হন। এ ছাড়া দুইবার এসিড নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে এবং দুইজন আহত হন। যৌন হয়রানীর ২৩টি ঘটনার ফলে ১০ জন আহত হন। শিশু নির্যাতনের ৩১টি ঘটনার ফলে ২৯ শিশু নিহত ও ১১৫ জন আহত হন। সাংবাদিক নির্যাতনের ৩০টি ঘটনায় একজন নিহত ও ৩২ জন আহত হয়েছেন। সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ১০টি ঘটনায় কোনো হতাহতের তথ্য নেই। শ্রমিক নির্যাতনের ২৫টি ঘটনায় ৭ জন নিহত ও ৫৭ জন আহত হয়েছেন।
মানবাধিকার পরিস্থিতি বিষয়ে প্রতিবেদনে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে যে, রাজনৈতিক সহিংসতা, পারিবারিক এবং যৌন নির্যাতনের ঘটনা সমাজে গুরুতর প্রভাব ফেলছে।
মন্তব্য করুন
