শনিবার
১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শনিবার
১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জামায়াত জোটের টিকিটে নারী সাংসদ হচ্ছেন যারা

প্রকাশ : ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৫৩ পিএম আপডেট : ২৮ জুন ২০২৬, ০৪:২২ পিএম
ছবি: জামায়াত জোটের লোগো
expand
ছবি: জামায়াত জোটের লোগো
  • অগ্রাধিকার পাচ্ছেন ছাত্রী সংস্থার নেত্রীরা
  • তালিকায় নেই ছাত্র সংসদ থেকে নির্বাচিত নেত্রীরা
  • থাকছে ডাক্তারদের আধিক্য
  • তালিকা প্রায় চূড়ান্ত, শীঘ্রই ঘোষণা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের তালিকা প্রায় চূড়ান্ত করেছে জামায়াতে ইসলামী। সংরক্ষিত নারী আসনের তালিকায় অগ্রাধিকার পাচ্ছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রী সংস্থার সাবেক নেত্রীরা। এ তালিকায় স্থান পাওয়া বেশিরভাগই ছাত্রী সংস্থার সাবেক সভানেত্রী বলে জানা গেছে।

তালিকায় একাধিক ডাক্তারের নাম রয়েছে। এছাড়াও রয়েছেন মহিলা জামায়াতের নেত্রীরা। এদের মধ্যে ডা. আমেনা, ডা. হাবিবা জান্নাত সুইট, ডা. শিরিন আক্তার রুনা এবং ডা. ফাতেমা সিদ্দিকার নাম জামায়াত সূত্র নিশ্চিত করেছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ছাত্র সংসদ থেকে নির্বাচিত হয়ে আসা কোনো নেত্রীকে এবার সাংসদ করা হচ্ছে না বলে জামায়াতের একজন ঊর্ধ্বতন নেতা জানিয়েছেন।

এদিকে জামায়াতে ইসলামী দল হিসেবে ১১টি আসন পেলেও জোট মিলিয়ে পাচ্ছে ১৩টি আসন। জামায়াতের ১১টি ছাড়া বাকি দুটির মধ্যে একটি পাবে এনসিপি। আরেকটি অন্যান্য শরীকদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হবে নাকি জামায়াত কিংবা এনসিপি আসনটি নেবে এ ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত এখনো নেওয়া হয়নি বলে জানা গেছে।

এনসিপির মধ্যে থেকে ডাক্তার মাহমুদা মিতু এবং মনিরা শারমিনের নাম শোনা গেছে। এর বাইরে দিলশানা পারুল, ইঞ্জিনিয়ার নাবিলা তাসনিদও সম্ভাব্য তালিকায় আছেন বলে জানা গেছে দলটির সূত্রে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর চলমান অধিবেশনের মধ্যেই সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনের তফসিল ৮ই এপ্রিল ঘোষণা করা হবে। আগামী ১২ মে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এই নির্বাচন। এতে ১১টি আসন পেতে যাচ্ছে সংসদের বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, যারা ইতোমধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থীদের একটি তালিকাও প্রায় চূড়ান্ত করেছে।

এদিকে জামায়াতে ইসলামীর দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্ভাব্য নারী প্রার্থীদের মধ্যে আলোচনায় রয়েছেন কেন্দ্রীয় মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি অধ্যাপিকা নুরুন্নিসা সিদ্দিকা, বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও শিক্ষক প্রকৌশলী মারদিয়া মমতাজ, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ডা. আমিনা বেগম রহমান, কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য শাহান আরা বেগম এবং সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী ও মহিলা বিভাগের সহকারী সেক্রেটারি ব্যারিস্টার সাবিকুন্নাহার মুন্নী। এছাড়াও সাঈদা রুম্মান, খন্দকার আয়েশা খাতুন, ডা. হাবিবা চৌধুরী সুইট, কাজী মারিয়া ইসলাম বেবি, রাবেয়া খানম, ডা. শিরিন আক্তার রুনা, তানহা আজমি, নার্গিস খান, কানিজ ফাতেমা, সেলিনা আক্তার ও আয়েশা সিদ্দিকা পারভীনের নাম আলোচনায় রয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে জামায়াতের নারী শাখার বেশ কয়েকজনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও, কাউকে ফোনে পাওয়া যায়নি। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে জামায়াতের একজন দায়িত্বশীল এনপিবি নিউজকে বলেন, ‘নারীরা দলের আমির হতে না পারলেও অন্যান্য নেতৃত্বে আসতে পারছেন। এর অংশ হিসেবে সংরক্ষিত নারী আসনে যোগ্যদের মনোনয়ন দেওয়া হবে। জামায়াতের পক্ষ থেকে যারাই সংসদের টিকিট পাবেন তারা নিঃসন্দেহে যোগ্য এবং প্রতিভার অধিকারী হবেন। তারা সংসদের দেশ ও দলের পক্ষে যথাযথ ভূমিকা রাখবেন।’

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নারী-পুরুষ মিলিয়ে জামায়াতে ইসলামীর সদস্য (রুকন) সংখ্যা এক লাখের বেশি। এর মধ্যে প্রায় ৫৭ শতাংশ পুরুষ ও ৪৩ শতাংশ নারী। মহিলা বিভাগে প্রায় অর্ধলাখ সদস্য রয়েছেন। পাশাপাশি প্রায় চার লাখ কর্মী এবং অসংখ্য সহযোগী সদস্য নিয়ে সারা দেশে মহিলা বিভাগের সাংগঠনিক কাঠামো বিস্তৃত। এদের মধ্যে রয়েছেন বিপুল সংখ্যক মেধাবী নারী, যারা ইসলামি ও আধুনিক জ্ঞানসম্পন্ন।

জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এনপিবি নিউজকে বলেন, আমাদের তালিকা প্রায় চুড়ান্ত। আগামী ৮ তারিখ সেটি প্রকাশ করা হবে বলেও জানান তিনি।

উল্লেখ্য, বর্তমান আইনি কাঠামো অনুযায়ী, জাতীয় সংসদের আইন অনুযায়ী, কোনো দল সংসদে যতগুলো সাধারণ আসন পায়, সেই সংখ্যাকে ৫০ দিয়ে গুণ করে প্রাপ্ত ফলাফলকে ৩০০ দিয়ে ভাগ করলে সংরক্ষিত নারী আসনের সংখ্যা নির্ধারিত হয়।

এই সূত্র অনুযায়ী বিএনপি এককভাবে ৩৪ দশমিক ৬৬ বা প্রায় ৩৬টি নারী আসন পাচ্ছে। অন্যদিকে জামায়াত ৬৮টি সাধারণ আসনের বিপরীতে ১১ জন নারী প্রতিনিধি পাবে। এ ছাড়া জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জোটগতভাবে একটি করে নারী আসন পেতে পারেন।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
UPCOMING
France VS England
Scheduled
19 Jul, 03:00 AM
VS
World Cup