

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং এর অভিযোগ স্বীকার করে রাজসাক্ষী হয়েছেন সাবেক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াত ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল মোহাম্মদ তাহের।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে 'ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের' রাজস্বাক্ষী পাওয়া গেছে দাবি করে বিদায়ী অন্তবর্তী সরকারের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে বিএনপি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) দুপুরে মগবাজার দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি দাবি করেন, অন্তবর্তী সরকারের আরেক উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান 'লন্ডন যড়যন্ত্রের' প্রধান হোতা। কাজের পুরস্কার হিসেবে তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হয়েছেন। তাকে অপসারণ করার পাশাপাশি অন্য যারা 'ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের' সঙ্গে জড়িত তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করার দাবি তুলেন তিনি।
'ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে' জড়িতদের মীরজাফররা আখ্যা দিয়ে জামায়াতের এ নেতা বললেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের আকাঙ্খা ভন্ডুল করে দিয়েছে এই মীরজাফররা। পুরো সরকার নাকি সরকারের একটি অংশ 'ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে' জড়িত ছিল, তা জাতির কাছে স্পষ্ট করতে হবে। কী ধরনের ষড়যন্ত্র তারা করেছেন, তা-ও জাতির সামনে উন্মোচন করা জরুরি।
ভোটের পরও দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা ফেরেনি বলে মন্তব্য করেছেন সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। তিনি বলেছেন, নানা জায়গায় নির্যাতন ও ধর্ষণের মতো ঘটনা ঘটছে। হামলা করে জনগণের জীবন নিরাপত্তাহীন করে তুলেছে। অবিলম্বে আইনশৃঙ্খলা ফেরাতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জামায়াত।
তিনি বলেন, ৫৩টি আসন প্রিয় অনিমের অভিযোগ দাখিল করেছে জামায়াত। সেই ভিত্তিতে আইনি লড়াই অব্যাহত রাখবো। কিন্তু গতকালকে আমরা একজন রাজসাক্ষী পেয়েছি। অন্তবর্তী সরকারের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি (রিজওয়ানা) একজন সাংবাদিককে বলেছেন- "যারা নারীদের অধিকার নিশ্চিত করতে পারে নাই, তারা বিরোধী দলে থাকলেও তাদেরকে মূলধারায় বা প্রধান শক্তি হিসেবে আসতে দেইনি।"
"তাহলে বোঝা যায় আমরা যে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং এর কথা বলছি সেটাকে স্বীকার করে উনি রাজসাক্ষী হয়েছেন। "
জামায়াতের এই নেতা বলেন, অন্তরবর্তী ও আজকের সরকারের কাছে আমরা জানতে চাই তারা তাদের যোগসাজশের মাধ্যমে বাংলাদেশ জামাত ইসলামকে ইঞ্জিনিয়ারিং এর মাধ্যমে মূল বা প্রধান দল হিসেবে মেজরিটি পেতে বাঁধাগ্রস্ত করেছে।
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। যেখানে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় উগ্রবাদ মাথাচাড়া দেওয়ার প্রসঙ্গ টানেন সংবাদকর্মী।
এরইপ্রেক্ষিতে প্রশ্নের জবাবে সাবেক এ উপদেষ্টা বলেন, তাদের রাজনীতির যে অংশ নারীবাদ, নারীর ক্ষমতায়ন ও নারীর সমান অংশগ্রহণের বিরুদ্ধে— সে অংশ নিয়ে আমার-আপনার কাজ করা উচিত। কখনও যেন সেই শক্তি মেইনস্ট্রিম হতে না পারে, আমরা সেই কাজটি করতে পেরেছি। তাদেরকে আমরা মেইনস্ট্রিম হতে দেইনি।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান এবং কর্মপরিষদের সদস্য শিশির মনির প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন