

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


শেরপুর-৩ আসনে ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে সংঘর্ষের ঘটনায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর এক নেতা নিহত হওয়ার অভিযোগ তুলে প্রশাসনের ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করেছে ১১ দলীয় জোট। তাদের দাবি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তা ও বিএনপির উসকানিতেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) এক সংবাদ সম্মেলনে ১১ দলীয় জোটের নেতারা বলেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশে একটি উৎসবমুখর পরিবেশ প্রত্যাশিত ছিল। বিশেষ করে জুলাই বিপ্লবের পর রাষ্ট্রকাঠামো ও রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে পরিবর্তনের মাধ্যমে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহনশীলতা বজায় থাকার কথা ছিল। কিন্তু শেরপুরের ঝিনাইগাতিতে ঘটে যাওয়া সহিংস ঘটনা সেই পরিবেশকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, মঙ্গলবার দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে ঝিনাইগাতি স্টেডিয়ামে শেরপুর-৩ আসনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার উদ্যোগে সব প্রার্থীর ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। যথাসময়ে জামায়াত ও ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল নেতাকর্মীদের নিয়ে সেখানে উপস্থিত হন এবং নির্ধারিত আসনে বসেন।
অভিযোগ করা হয়, বিএনপি প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল দেরিতে সমর্থকদের নিয়ে অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত হয়ে অর্ধেক আসন ছেড়ে দেওয়ার দাবি জানান। প্রশাসনের অনুরোধে জামায়াত প্রার্থী নিজ কর্মীদের আসন ছাড়তে নির্দেশ দিলেও বিএনপির নেতাকর্মীরা বাগ্বিতণ্ডা ও উসকানি অব্যাহত রাখে। এ সময় বিএনপি নেতা আব্দুল হান্নানসহ কয়েকজন নেতার প্রত্যক্ষ উসকানিতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
১১ দলীয় জোটের দাবি, সংঘর্ষ শুরুর পর পুলিশ প্রশাসন কার্যকর ভূমিকা না রেখে নিষ্ক্রিয় দর্শকের মতো আচরণ করে। একপর্যায়ে বিএনপি নেতাকর্মীরা স্টেডিয়াম ত্যাগ করে ঝিনাইগাতি বাজার এলাকায় অবস্থান নেয় এবং দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলার প্রস্তুতি নেয়। এ সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জামায়াত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলকে হত্যার হুমকি দিয়ে উসকানিমূলক পোস্ট দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, সন্ধ্যা পৌনে ছয়টার দিকে প্রশাসনের কোনো সহায়তা না পেয়ে জামায়াত ও ১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা স্টেডিয়াম এলাকা ত্যাগ করার চেষ্টা করলে বিএনপি সমর্থকরা লাঠি ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। সংঘর্ষের একপর্যায়ে জামায়াতের শ্রীবরদী উপজেলা সেক্রেটারি রেজাউল করিম পেছনে পড়ে গেলে তাকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।
এই ঘটনায় জামায়াত ও ১১ দলীয় জোটের অন্তত অর্ধশত নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়। তাদের মধ্যে ১৬ জনকে শেরপুর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং গুরুতর আহত তিনজনকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলে তাদের একজন সদস্যও আহত হন। এ জন্য সেনাবাহিনীকে ধন্যবাদ জানানো হয়।
১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে অবিলম্বে রেজাউল করিম হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে ঝিনাইগাতি উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যর্থতার তদন্ত দাবি করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, সারাদেশে জামায়াত ও ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের প্রচারণায় বাধা দেওয়া হচ্ছে এবং নারী কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটছে। প্রশাসনের একপাক্ষিক আচরণের প্রতিবাদ জানিয়ে নেতারা বলেন, এসব চলতে থাকলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।
মন্তব্য করুন

