

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ঝালকাঠি-১ আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনয়ন পাওয়া ড. ফয়জুল হকের একটি বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি দলে যোগ দেওয়া এই নেতা নির্বাচনী প্রচারে দেওয়া বক্তব্যের কারণে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাতে ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলায় আয়োজিত একটি নির্বাচনী উঠান বৈঠকে তিনি ভোট চাইতে গিয়ে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন অভ্যাস ও আলাপচারিতাকে উদাহরণ হিসেবে টেনে আনেন। বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি বলেন, কেউ যদি সাধারণ আচরণের মধ্য দিয়েও দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে কথা বলেন, তবে আল্লাহ চাইলে তাকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে পারেন-এমন মন্তব্য করেন তিনি। এই অংশটিই মূলত সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।
ভিডিওতে বক্তব্যে ফয়জুল হক বলেন, ‘বিড়ি যে দোকান থেকে খাবেন, সেখানে গিয়ে বিড়ি ধরিয়ে একটা সুখটান দিয়ে বলবেন- দেশের অবস্থা দেখছ? দাঁড়িপাল্লা ছাড়া তো আর মানুষ দেখি না।
এমনও হতে পারে আমার কোনো ভাই হয়তো ইবাদত করার সুযোগ পায় নাই, কিন্তু ওই সুখটান দেওয়া বিড়ির মধ্যেও যদি সে দাঁড়িপাল্লার দাওয়াত দেয় এবং তা আল্লাহর দরবারে কবুল হয়ে যায়, তবে আল্লাহ তাকে মাফ করে দিতে পারেন।’
নারী ভোটারদের উদ্দেশেও তিনি আলাদা করে কথা বলেন। বক্তব্যে তিনি বলেন, প্রতিদিনের উঠান বৈঠক কিংবা পারস্পরিক আলাপচারিতার সময় একে অপরকে দলের বার্তা জানাতে হবে এবং সেই কথাই ছড়িয়ে দিতে হবে অন্যদের মধ্যেও। একই সঙ্গে তিনি পরিবারের নারী সদস্যদের মাধ্যমে আত্মীয়স্বজনদের ভোট দিতে উৎসাহিত করার আহ্বান জানান।
নির্বাচনের দিন নিয়েও বক্তব্যে তিনি ভোটারদের সক্রিয় থাকার পরামর্শ দেন। ভোটের আগের রাত থেকে কেন্দ্রে যাওয়া, ভোট দেওয়া এবং ফলাফল জানা পর্যন্ত অপেক্ষা করার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
ড. ফয়জুল হকের এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর বিভিন্ন মহলে ভিন্ন ভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ এটিকে প্রচারণার কৌশল হিসেবে দেখছেন, আবার অনেকে ভাষা ও উপস্থাপনাকে বিতর্কিত বলে মন্তব্য করছেন।
উল্লেখ্য, ড. ফয়জুল হক গত কয়েক মাসে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচিত একটি নাম। গত বছরের জুলাই মাসে তিনি নিজেকে বিএনপির মালয়েশিয়া কমিটির সহ-সমাজকল্যাণ সম্পাদক দাবি করে পদত্যাগের ঘোষণা দেন। এরপর চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা লক্ষ্য করা যায়। সর্বশেষ তিনি জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়ে ঝালকাঠি-১ আসনে দলের মনোনয়ন পান।
মন্তব্য করুন

