

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক রুমিন ফারহানা সম্প্রতি ডয়চে ভেলেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, যদি খুবই নিরপেক্ষভাবে দেখেন, শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনব্যবস্থার সঙ্গে গত এক বছর দুই মাসের বর্তমান শাসনব্যবস্থার মধ্যে খুব বেশি পার্থক্য নেই। আমরা চৌদ্দ বা পনের বছরের মধ্যে দেখেছি, এমনকি যারা পিওনের চাকরি করতেন, তারা ৪০০ কোটি টাকার মালিক হয়ে উঠেছেন।
রুমিন ফারহানা বলেন, বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উপদেষ্টার, যারা মন্ত্রী পদমর্যাদায় আছেন, এপিএসের দুর্নীতির খবর আমাদের কাছে আসে। এই তথ্য গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না।
এভাবে আমরা শেখ হাসিনার আমল মনে করি। কারণ সেই পিয়নকে গণভবন থেকে বের করা ছাড়া আর কোনো আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এই সরকারেরও কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ আসলেও কোনো কার্যকর আইনি ব্যবস্থা দেখা যায়নি।
তিনি আরও বলেন, উপদেষ্টা হিসেবে যারা অ্যাপয়েন্টমেন্ট পেয়েছেন, তাদের প্রত্যেকের সম্পদের হিসাব দেওয়ার কথা থাকলেও এখনও তা প্রকাশিত হয়নি। একজন দুজন হয়তো প্রকাশ করেছেন, কিন্তু তা পুরো ক্যাবিনেটকে প্রতিনিধিত্ব করে না।
উপদেষ্টাদের অনিয়মের প্রসঙ্গে রুমিন ফারহানা বলেন, আমরা কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখি না। উদাহরণস্বরূপ, ছাত্র উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে একটির পর এক অভিযোগ এসেছে। যদিও কিছু বলার আছে যে বিএনপির সঙ্গে তার মনোমালিন্য আছে, কিন্তু অভিযোগগুলো তদন্ত করা উচিত ছিল। এমন ন্যূনতম কোনো তদন্তও আমরা দেখিনি।
তিনি বলেন, অনেক উপদেষ্টার পিএস-এপিএসের ব্যাপারে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। যদি উপদেষ্টাদের কোনো পজিটিভ নডিং না থাকে, তাহলে এত লুটপাট সম্ভব নয়। স্বাক্ষর এবং অনুমোদন সব উপদেষ্টার মাধ্যমে যায়, তাই মূল দায়ও তাদের।
রুমিন ফারহানা মন্তব্য করেন, যারা নরম সমালোচনা করেন, তাদের ভাষায় প্রধান উপদেষ্টা দেশের দায়িত্ব নরম হাতে পালন করছেন। কিন্তু যারা প্রকৃত সমালোচনা করেন, তারা মনে করেন তিনি নির্লিপ্ত। দেশে কী হচ্ছে বা জনগণের ভাগ্য নিয়ে তিনি তেমন মনোযোগ দিচ্ছেন না, বিষয়টিকে খেলাচ্ছলে নিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, দেশ চালানো খেলাধুলা নয়। এটি দেশের ১৬ কোটি মানুষের ভাগ্য ওতপ্রোতভাবে জড়িত। প্রধান উপদেষ্টা বিদেশে থাকাকেই বেশি স্বস্তিদায়ক মনে করেন। বিদেশি গণমাধ্যমকে সাক্ষাৎকার দেওয়া দেশীয় গণমাধ্যমের তুলনায় তার জন্য অনেক বেশি আরামদায়ক। এটা বলতে দুঃখ লাগে।
মন্তব্য করুন
