শুক্রবার
২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শরিক দলের যোগ্য প্রার্থী খুঁজতে ব্যস্ত বিএনপি

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ২৪ অক্টোবর ২০২৫, ১২:১৩ পিএম
ছবি সংগৃহীত
expand
ছবি সংগৃহীত

দীর্ঘ সময় ধরে আওয়ামী শাসনের বিরুদ্ধে যুগপৎ আন্দোলনে ছিল বিএনপি ও এর সহযোগী দলগুলো।

আলাদা ব্যানারে আন্দোলন করলেও তাদের লক্ষ্য ছিল এক—আওয়ামী লীগের পতন। সেই লক্ষ্য পূরণ হয়েছে গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনের মধ্য দিয়ে।

এখন দেশ এগোচ্ছে নির্বাচনের পথে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ঘোষণায় আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন।

নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যেই প্রস্তুতি শুরু করেছে, রাজনৈতিক দলগুলোও শুরু করেছে প্রচারণা কার্যক্রম।

জামায়াতে ইসলামী ইতোমধ্যে ৩০০ আসনের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে। বিএনপিও চলতি মাসের শেষ বা নভেম্বরের শুরুতে প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা দিতে পারে বলে জানা গেছে। তবে শরিক দলগুলোর জন্য কতটি আসন ছেড়ে দেওয়া হবে, সেটি এখনো নির্ধারিত নয়।

বিএনপি নেতৃত্ব মনে করছে, শরিক দলের প্রার্থীরা ভোটের মাঠে কতটা কার্যকর হবে, সেটিই বড় প্রশ্ন।

কারণ নির্বাচন কমিশনের নতুন বিধান অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী জোটের নয়, কেবল নিজ দলের প্রতীকেই নির্বাচন করতে পারবেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সর্বশেষ বৈঠকে শরিক দলগুলোকে আসন ছাড়ার বিষয়ে আলোচনা হয়। সিদ্ধান্ত হয়েছে—যেসব প্রার্থী মাঠে জয়ের সম্ভাবনা রাখেন, কেবল তারাই মনোনয়নের সুযোগ পাবেন।

স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, “আমাদের সঙ্গে যারা আন্দোলনে ছিলেন, তাদের ভূমিকা আমরা শ্রদ্ধার সঙ্গে দেখি।

কিন্তু নির্বাচনে আসন ছাড়ার ক্ষেত্রে দেখতে হবে কে জয়ের কাছাকাছি। আমরা এমন কাউকে ছাড় দিতে পারি না যার পরাজয়ে প্রতিপক্ষ লাভবান হবে।”

তিনি আরও বলেন, “যে আসনে যিনি মনোনয়ন চাইছেন, সেখানে তার অবস্থান কতটা শক্ত, সেটি বিবেচ্য। জাতীয় স্বার্থই হবে মূল মানদণ্ড।”

বিএনপির সূত্রে জানা যায়, শরিক দলগুলো ইতোমধ্যে বিএনপির কাছে তাদের পছন্দের আসনের তালিকা দিয়েছে, যেখানে মোট ২৪৪টি আসনের প্রস্তাব রয়েছে। তবে বিএনপি প্রাথমিকভাবে প্রায় ৪০টি আসন ছাড়ার পরিকল্পনা করছে।

বিএনপি নেতারা বলছেন, শরিকদের অনেকেই মিডিয়ায় পরিচিত মুখ হলেও নিজেদের এলাকায় সংগঠন বা ভোটভিত্তি ততটা শক্ত নয়।

অন্যদিকে বিএনপির প্রতিটি আসনেই কয়েকজন করে সম্ভাব্য প্রার্থী রয়েছেন, যারা বছরের পর বছর আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন। এদের কাউকে বাদ দিলে তৃণমূলের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিতে পারে।

জোটভুক্ত দলগুলোর নেতারাও আশাবাদী মনোভাব প্রকাশ করেছেন। ১২ দলীয় জোটের সমন্বয়ক ও বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদা বলেন, “আমরা আন্দোলনে ছিলাম একসাথে, নির্বাচনে জয়ও আসবে ঐক্যের মধ্য দিয়েই।

বিএনপি যদি সমন্বয় করে কাজ করে, তাহলে শরিক দলের প্রার্থীরাও বিজয়ী হতে পারবেন।”

ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ জানান, তাদের পক্ষ থেকে ৯টি আসন চাওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, “বিএনপি প্রতিশ্রুতি দিয়েছে—যারা আন্দোলনে পাশে ছিল, তাদের মূল্যায়ন করা হবে। আমরা চাই দ্রুত মনোনয়ন চূড়ান্ত করা হোক।”

বিএনপির এক সিনিয়র নেতা বলেন, “আমাদের লক্ষ্য ঐক্য ধরে রাখা, তবে জয়ই হবে আসন ছাড়ার প্রধান শর্ত।

এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেব না, যা শুধু প্রতীকী অংশগ্রহণ দেবে কিন্তু জয়ের নিশ্চয়তা দেবে না।”

উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য এডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল জানান, “শরিক দলের তালিকা আমরা পেয়েছি, এখন বসে চূড়ান্ত করা হবে কে কোন আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।”

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন