

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সম্ভাব্য নতুন নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা চলছে। এর মধ্যে সভাপতি পদে আলোচনায় উঠে এসেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহসভাপতি মো. আসাদুজ্জামান আসলামের নাম। দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা এবং দুঃসময়ে সংগঠনকে ধরে রাখার কারণে তৃণমূল নেতাকর্মীদের একটি অংশের আস্থার কেন্দ্রে রয়েছেন তিনি।
দলীয় সূত্র জানায়, আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনগুলোতে সাংগঠনিক পুনর্গঠন জোরদার হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ যুবদলের নেতৃত্বে পরিবর্তনের আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্ভাব্য নেতৃত্বের তালিকায় কয়েকজনের নাম থাকলেও আসাদুজ্জামান আসলামকে নিয়ে তৃণমূলে আলোচনা বেশি।
২০০৪-০৫ শিক্ষাবর্ষে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগে ভর্তি হওয়ার পর ছাত্রদলের রাজনীতিতে সক্রিয় হন আসলাম। পড়াশোনার পাশাপাশি টিউশনি করে নিজের খরচ চালানোর পাশাপাশি সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের নেতৃত্বে আসেন। তার নেতৃত্বে জবি ছাত্রদল সাংগঠনিকভাবে সক্রিয় ছিল বলে দাবি নেতাকর্মীদের।
২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবরের পর বিরোধী ছাত্ররাজনীতি অনেকটা স্থবির হয়ে পড়লেও জবি ছাত্রদল ক্যাম্পাসে সক্রিয় ছিল। জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানেও ইউনিটটির ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। বিশেষ করে ৪ আগস্ট সিএমএম আদালত ঘেরাও কর্মসূচিতে আসলামের নেতৃত্ব আলোচনায় আসে।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে হামলা, মামলা ও নির্যাতনেরও শিকার হয়েছেন আসলাম। দলীয় সূত্রের দাবি, ছাত্রলীগের হামলা, পুলিশের লাঠিচার্জে কানের পর্দা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং গুলিবিদ্ধ হওয়ার মতো ঘটনাও মোকাবিলা করেছেন তিনি।
তার সম্পর্কে জবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন বলেন, 'ছাত্রদলের চরম দুঃসময়ে আসলাম অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন। প্রতিটি আন্দোলন ও সংগ্রামে তার অবদান ছিল অপরিসীম। প্রতিকূল পরিস্থিতির মাঝেও তার মেধা, সততা ও বিনয় তাকে অন্যদের চেয়ে আলাদা করেছে।'
বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন বলেন, 'আসলামের মতো বিনয়ী ও অমায়িক ছাত্রনেতা সমসাময়িক রাজনীতিতে বিরল। মেধাবী ও পরিশ্রমী এই তরুণের মধ্যে নেতৃত্বের গুণাবলি রয়েছে।'
জবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. ইমরানুল হক বলেন, 'আসলাম অত্যন্ত ভদ্র, মানবিক ও মিশুক। একজন ছাত্রনেতার প্রয়োজনীয় প্রায় সব গুণই তার মধ্যে রয়েছে। তিনি শিক্ষিত, মার্জিত ও শিষ্টাচারসম্পন্ন একজন নেতা।'
এ বিষয়ে আসাদুজ্জামান আসলাম বলেন, 'আমি পদকে লক্ষ্য হিসেবে দেখি না। সংগঠনের জন্য কাজ করাটাই আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামে অসংখ্যবার হামলা-মামলার শিকার হয়েছি। শারীরিক নানা জটিলতায় একাধিক অস্ত্রোপচার করাতে হয়েছে, এখনো চিকিৎসা চলছে। দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। দল যদি আমাকে কোনো দায়িত্ব পালনের উপযুক্ত মনে করে, তাহলে তা যথাযথভাবে পালনের সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।'
তিনি আরও বলেন, 'বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্ররাজনীতির সময় অর্জিত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী ও নেতাকর্মীবান্ধব করার চেষ্টা থাকবে। তরুণদের সংগঠিত করা, নেতাকর্মীদের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো এবং সাংগঠনিক কার্যক্রমকে গতিশীল করাই হবে গুরুত্বের জায়গা।'

