শুক্রবার
২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিএনপির যে ৬০ আসন নির্ভার, দেখুন তালিকা  

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ২২ অক্টোবর ২০২৫, ০৪:৫০ পিএম আপডেট : ২২ অক্টোবর ২০২৫, ০৫:০৯ পিএম
বিএনপির যে ৬০ আসন নির্ভার
expand
বিএনপির যে ৬০ আসন নির্ভার

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আসনভিত্তিক একক প্রার্থী নির্ধারণের কাজ প্রায় শেষ করেছে বিএনপি। জানা গেছে, প্রায় ২৫০ আসনে একক প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত করে ফেলেছে দলটি, যাদের মধ্যে অধিকাংশই সিনিয়র ও জনপ্রিয় নেতা।

দলের নীতিনির্ধারণী সূত্র জানায়, এই মাসের মধ্যেই এসব আসনে প্রার্থীদের ‘সবুজ সংকেত’ দেওয়া হবে এবং তফসিল ঘোষণার পর আনুষ্ঠানিকভাবে তালিকা প্রকাশ করা হবে।

প্রায় ৬০টি আসনকে “নির্ভার আসন” হিসেবে বিবেচনা করছে দলটি, যেখানে অভ্যন্তরীণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা নেই। এসব আসনে দলের অভিজ্ঞ ও জনপ্রিয় নেতারাই একক প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন।

অন্যদিকে কিছু নির্বাচনী এলাকায় মিত্র দলগুলোর জন্য কিছু আসন ছেড়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র কিছু শীর্ষ নেতার আসনে বিএনপি নিজস্ব প্রার্থী না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গেছে। একই কৌশল অনুসরণ করা হবে জোটভুক্ত অন্য দলগুলোর ক্ষেত্রেও।

দলের কেন্দ্রীয় হাইকমান্ড ইতোমধ্যে কয়েকজন সম্ভাব্য প্রার্থীকে ফোনে নির্বাচনি মাঠে প্রচারণা শুরু করার নির্দেশ দিয়েছে। তারা স্থানীয় পর্যায়ে গণসংযোগ শুরু করেছেন।

এ ছাড়া চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে প্রতিদিনই সম্ভাব্য প্রার্থীদের বৈঠকে ডাকা হচ্ছে। সেখানে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং দলের মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

দলীয় সূত্র জানায়, এবার প্রার্থী বাছাইয়ে যোগ্যতা, জনপ্রিয়তা এবং ত্যাগের মূল্যায়ন বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। মনোনয়ন না পেলেও ত্যাগী নেতাদের ভিন্নভাবে পুরস্কৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে একই সঙ্গে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে, দলীয় নির্দেশনা অমান্য করলে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সূত্র জানিয়েছে, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন (কুমিল্লা-১), মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর (ঠাকুরগাঁও-১), মির্জা আব্বাস (ঢাকা-৮), গয়েশ্বর চন্দ্র রায় (ঢাকা-৩), ড. আব্দুল মঈন খান (নরসিংদী-২), ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু (সিরাজগঞ্জ-২), সালাহউদ্দিন আহমদ (কক্সবাজার-১), মেজর (অব.) হাফিজউদ্দিন আহমেদ (ভোলা-৩) বরকতউল্লা বুলু (নোয়াখালী-৩), মো. শাহজাহান (নোয়াখালী-৪), শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি (লক্ষ্মীপুর-৩), মিয়া নুরুউদ্দিন অপু (শরীয়তপুর-৩), আসাদুল হাবিব দুলু (লালমনিরহাট-৩), অনিন্দ্য ইসলাম অমিত (যশোর-৩), রশিদুজ্জামান মিল্লাত (জামালপুর-১), রকিবুল ইসলাম বকুল (খুলনা-৩), ব্যারিস্টার কায়সার কামাল (নেত্রকোনা-১), মাহমুদ হাসান খান (চুয়াডাঙ্গা-২), ফজলুল হক মিলন (গাজীপুর-৫), আমিরুল ইসলাম খান আলীম (সিরাজগঞ্জ-৫), আমিনুল হক (ঢাকা-১৬), লুৎফুজ্জামান বাবর (নেত্রকোনা-৪), ব্যারিস্টার মুহম্মদ নওশাদ জমির (পঞ্চগড়-১), সাইফুল ইসলাম ফিরোজ (ঝিনাইদহ-৪)-সহ অন্তত ৬০টি আসন নিয়ে নির্ভার বিএনপি। মূলত এর বাইরে অন্য আসনগুলোয় একক প্রার্থী চূড়ান্ত করছে দলটি।

সম্ভাব্য প্রার্থীদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠকের অংশ হিসাবে সোমবার মাগুরা, চট্টগ্রাম ও সুনামগঞ্জের কয়েকটি আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতাদের গুলশান কার্যালয়ে ডাকা হয়। তবে ঢাকা বিভাগ বাদে এখন যেসব আসনের সম্ভাব্য প্রার্থীদের ডাকা হচ্ছে, সেগুলোর বেশির ভাগই বিরোধ আছে। মনোনয়ন কেন্দ্র করে বিরোধ মেটানোর চেষ্টা চলছে। এর আগে রোববার সিলেট বিভাগের চার জেলার মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতাদের সঙ্গে গুলশান কার্যালয়ে মতবিনিময় করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বৈঠকে মনোনয়ন, নির্বাচনি প্রস্তুতি, প্রচারণাসহ বিভিন্ন বিষয়ে নির্দেশনা দেন তিনি। মতবিনিময় সভায় দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, খুব শিগগিরই একক প্রার্থীকে সবুজ সংকেত দেওয়া হবে। ঢাকা ছাড়া সব বিভাগের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের ডেকে এমন বার্তা দেওয়া হয়েছে। কয়েকদিনের মধ্যে পর্যায়ক্রমে ঢাকা বিভাগের আসনভিত্তিক সম্ভাব্য প্রার্থীদেরও ডাকা হবে বলে সূত্র জানিয়েছে।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘চমক বলতে ইয়াং জেনারেশন এবার আগের চেয়ে আরেকটু বেশি অগ্রাধিকার পাবে। কারণ, তারা অনেক বেশি অ্যাকটিভ। নারীরাও যথেষ্ট অগ্রাধিকার পাবে।’

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, এলাকায় সর্বোচ্চ গ্রহণযোগ্য এবং জনপ্রিয় প্রার্থীরাই বিএনপির মনোনয়ন পাবেন। একই আসনে অনেক প্রার্থী থাকতে পারেন। সেগুলো বিচার-বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। আমরা খোঁজখবর নিচ্ছি জনগণের কাছে কার অবস্থান ভালো। এলাকায় কে বেশি জনপ্রিয়, সেই খোঁজখবর নিচ্ছি। এজন্য তৃণমূল থেকে শুরু করে অনেকের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে। সিনিয়র নেতারা যার যার দায়িত্ব পালন করছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে গুলশান কার্যালয়ে ডাকা অন্তত দশজন সম্ভাব্য প্রার্থী জানিয়েছেন, প্রায় প্রতিটি আসনে ৪ থেকে ৫ জন করে মনোনয়নপ্রত্যাশী আছেন। এর মধ্যে থেকে যাচাই-বাছাই করে ২ থেকে ৩ জন মনোনয়নপ্রত্যাশীকে ডাকা হয়। সভায় বিএনপির মহাসচিব দলীয় একক প্রার্থীকে বিজয়ী করে আনার জন্য মনোনয়নপ্রত্যাশীদের নির্দেশনা দেন।

সিলেট বিভাগীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জি কে গউছ বলেন, তাদের সঙ্গে বৈঠক বলা হয়েছে একক প্রার্থী দেওয়া হবে। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থেকে প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জনগণকে সন্তুষ্ট এবং ভোটারদের মন জয় করারও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বিএনপির ঢাকা বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী সাইয়েদুল আলম বাবুল গাজীপুর-১ আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী।

স্থানীয়রা জানান, বাবুল ক্লিন ইমেজের ও বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে ব্যাপক ভূমিকা রেখেছেন। আওয়ামী লীগের আমলে প্রায় ১৬ বছর দলীয় নেতাকর্মীরা বিপদে-আপদে সব সময় তাকে পাশে পেয়েছেন।

সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী সাইয়েদুল আলম বাবুল বলেন, বাছাই-পর্ব চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে দলের হাইকমান্ড থেকে বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় প্রার্থী সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। শিগগিরই দলের হাইকমান্ড থেকে চূড়ান্ত করবে।

এতটুকু জানি-দলের একনিষ্ঠ নেতা, যারা বিগত দিনে দলের দুঃসসময়ে পাশে ছিলেন, আন্দোলন-সংগ্রামে ছিলেন, কোনোভাবেই শত অত্যাচার-নির্যাতনের মধ্যেও যারা দলের সঙ্গে বেইমানি করেননি, সর্বোপরি ক্লিন ইমেজ, জনসম্পৃক্ততা ও কর্মীবান্ধব নেতাদের বিষয়েই দল বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে, খোঁজখবর নিচ্ছে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন