

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


অন্তর্বর্তী সরকারকে এখন থেকেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মতো আচরণ করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
বুধবার (২২ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবে মুক্তিযোদ্ধা দলের উদ্যোগে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন।
আমীর খসরু আরো বলেন, দেশে এখন জবাবদিহিতার চরম অভাব দেখা দিয়েছে। প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান—সব জায়গায় জবাবদিহির ঘাটতি তৈরি হয়েছে। নির্বাচিত সরকার না থাকায় রাষ্ট্রের বিভিন্ন স্তরে এক ধরনের অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে।
তিনি বলেন, টানা ১৫ মাস ধরে নির্বাচিত সরকার ছাড়া দেশ চলছে, যা প্রশাসনিক স্থবিরতা ও অস্থিতিশীলতা তৈরি করেছে। জনগণ এখন সরকারের ওপর আস্থা হারিয়েছে, কারণ তাদের কোনো গণম্যান্ডেট নেই।
বিএনপির এই নীতিনির্ধারক বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের উচিত এখন থেকেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মতো নিরপেক্ষ আচরণ শুরু করা। প্রশাসনের ভেতরে যারা দলীয় প্রভাব খাটাচ্ছেন, তাদের উপস্থিতিতে নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়। এই ব্যক্তিদের প্রভাবমুক্ত না করলে আস্থার পরিবেশ তৈরি হবে না।
তিনি আরও বলেন, সরকারের ভেতরে কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি নিয়োগ ও পদায়নে হস্তক্ষেপ করছেন, যা নিরপেক্ষতার পরিবেশ নষ্ট করছে। তাদের কারণে সরকারের মর্যাদাও ক্ষুণ্ন হতে পারে।
আমীর খসরু বলেন, নিরপেক্ষ নির্বাচনই দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের একমাত্র পথ। জনগণের মালিকানা ফিরিয়ে দিতে হবে দ্রুত। সরকারের উচিত বড় কোনো নীতিগত সিদ্ধান্ত না নিয়ে কেবল দৈনন্দিন প্রশাসনিক কাজ পরিচালনায় সীমাবদ্ধ থাকা।
তিনি আরও বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকার যদি জনগণের আস্থা অর্জন করতে চায়, তবে এখন থেকেই নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে হবে, যেন নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সব দল সমান সুযোগ পায়।”
বিএনপি বিশৃঙ্খলার রাজনীতি নয়, শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক পরিবর্তনে বিশ্বাসী—উল্লেখ করে আমীর খসরু বলেন, আমরা জনগণের কাছে যাচ্ছি, তাদের দাবি ও ইশতেহার তুলে ধরছি। আমাদের লক্ষ্য গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা।
দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বাইরের প্রভাবের বিরোধিতা করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের নিজস্ব রাজনৈতিক সংকটের সমাধান দেশীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই হতে হবে। কোনো বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপ আমরা বরদাশত করব না।
আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর মতে, নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করতে অন্তর্বর্তী সরকারের এখন থেকেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মতো নিরপেক্ষ ভূমিকা নেওয়া প্রয়োজন, যাতে জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার হয় এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে আসে।
মন্তব্য করুন
