

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


আওয়ামী লীগের দীর্ঘমেয়াদি শাসনের পর এবার নির্বাচনের আগে কার্যত নেতৃত্বের আসনে বসেছে বিএনপি। সামনে ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন এবং ডিসেম্বরে তফসিল ঘোষণার সম্ভাবনা মাথায় রেখে দলটি ইতোমধ্যেই সর্বাত্মক প্রস্তুতি শুরু করেছে। মাঠপর্যায়ে নির্বাচনী প্রচার ও জনসংযোগ জোরদারে সম্ভাব্য প্রার্থীদের সক্রিয় করা হয়েছে, আর তাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে বিভিন্ন জেলার সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে ধারাবাহিক বৈঠক করছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা। এসব বৈঠকের কিছু অংশে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন তারেক রহমান নিজেও। পরে স্থায়ী কমিটির নির্দেশনায় তিনি সরাসরি সম্ভাব্য প্রার্থীদের ফোন করে দিকনির্দেশনা দিতে শুরু করেন।
যমুনা টেলিভিশনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বগুড়া জেলার অন্তত পাঁচটি আসনের প্রার্থী-কাজী রফিকুল ইসলাম (বগুড়া-১), আব্দুল মহিদ তালুকদার (বগুড়া-৩), মোশারফ হোসেন (বগুড়া-৪), জিএম সিরাজ, মাসুদ অরুণ ও আমজাদ হোসেন (বগুড়া-৫)-তারেক রহমানের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেছেন বলে নিশ্চিত করেছেন। এছাড়া মেহেরপুর-১ ও মেহেরপুর-২ আসনের প্রার্থীরাও তার ফোন পেয়েছেন বলে জানা গেছে।
রাজধানীতেও নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু করেছে বিএনপি। ঢাকা মহানগরের সম্ভাব্য প্রার্থীদের জনসংযোগে নামার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা-১৬ আসনে আমিনুল হক, ঢাকা-৮ এ মির্জা আব্বাস এবং ঢাকা-৪ এ তানভীর আহমেদ রবিনের নাম প্রাথমিক তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
জোটের শরিকদের নিয়েও চলছে প্রার্থী বাছাইয়ের আলোচনা। ঢাকা-১৩ আসনে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (এনডিপি) চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ এবং ঢাকা-১৭ আসনে বিকল্পধারা বাংলাদেশের নেতা আন্তালিব রহমান পার্থকে প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। অন্যদিকে ঢাকা-১৪ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে বিএনপির কৌশলে।
ঢাকা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক বলেন, “দল থেকে মৌখিক নির্দেশনা পেয়েছি, তাই জনগণের কাছে যাচ্ছি। পাশাপাশি জোটের পক্ষ থেকেও কিছু আসনে শরিক দলগুলোর নাম প্রস্তাব করা হয়েছে।”
বিএনপির হাই কমান্ড জানায়, সরকারের অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্র জনগণের সামনে তুলে ধরাই এখন দলের প্রধান লক্ষ্য। তাদের মতে, নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর সীমিত সময়ের মধ্যে প্রচারণা চালানো কঠিন, তাই আগে থেকেই মাঠে কাজ শুরু করা হয়েছে। দলের শীর্ষ নেতারা বলেন, “যেসব আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তুলনামূলক কম, সেসব জায়গায় প্রার্থীদের আগেভাগেই জনসংযোগে নামতে বলা হয়েছে।”
বর্তমানে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকারের কাজ চলছে। নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে প্রাথমিকভাবে ৩০০ আসনের একক প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে জোট রাজনীতির সমন্বয় রাখতে অন্তত ৫০টি আসনে শেষ মুহূর্তে পরিবর্তন আসতে পারে বলে জানিয়েছে দলীয় সূত্র।
মন্তব্য করুন
