

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলার দক্ষিণ আইচা থানার চর কুকরি-মুকরি ইউনিয়নে শিশুদের কোরআন শিক্ষার জন্য ব্যবহৃত একটি মক্তব ঘর রাজনৈতিক কার্যালয়ে রূপান্তরের অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের দাবি, বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের কিছু নেতা-কর্মী ওই ঘরটি দখল করে দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
ঘরটি ইউনিয়নের আমিনপুর গ্রামের কাকরাইল জামে মসজিদ সংলগ্ন স্থানে অবস্থিত। প্রায় এক দশক আগে ইউএনডিপি ও মুসলিম এইডের সহায়তায় মক্তবটি নির্মিত হয়।
তখন থেকে স্থানীয় ইমাম ও মুয়াজ্জিন শিশুদের কোরআন শিক্ষা দেওয়ার জন্য এটি ব্যবহার করে আসছিলেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত বছরের আগস্ট মাসে রাজনৈতিক অস্থিরতার পর কয়েকজন স্থানীয় বিএনপি নেতা—যাদের মধ্যে সোহরাব রাঢ়ী, বনি আমিন দালাল, জাকির রাঢ়ী, জাকির হাওলাদার, বাবুল মুন্সী ও ইসমাইল সিকদার রয়েছেন—তারা ঘরটি দখল করে রাজনৈতিক অফিস হিসেবে ব্যবহার শুরু করেন।
মসজিদ কমিটির সভাপতি আবু তাহের বলেন, “ঘরটি আমাদের এলাকার শিশুদের ধর্মীয় শিক্ষার একমাত্র কেন্দ্র ছিল। এখন ঘরটি দখল হয়ে যাওয়ায় আমরা বাধ্য হয়ে মসজিদের ভেতরেই পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছি।”
একই কথা জানান ইমাম মাওলানা মুফতি জামাল হোসেনও।
তিনি বলেন, “মক্তবটি শিশুদের জন্য ছিল। কিছু মানুষ সেটি দখল করে নিয়েছে, ফলে আমরা বিকল্প হিসেবে মসজিদের মধ্যে ক্লাস নিচ্ছি। আশা করি প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নেবে।”
স্থানীয় কয়েকজন অভিযোগ করে বলেন, সরকারি সহায়তায় নির্মিত ধর্মীয় শিক্ষার ঘর রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা ধর্মীয় অবমাননা ও নৈতিকতার পরিপন্থী।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ইউনিয়ন যুবদলের সিনিয়র সহসভাপতি বশির আহমেদ বলেন, “আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিন ওই ঘর দখল করে রেখেছিল। আমরা সেটি পরিষ্কার করে এখন দলীয় অফিস হিসেবে ব্যবহার করছি, এটি দখল নয়।”
ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি সামছুল হক জানান, “আমি বিষয়টি জানার পর আমাদের নেতা-কর্মীদের ঘরটি ছেড়ে দিতে বলেছি। তারা এখন সেখানে বসেন না। কিছু চেয়ার ও ছবি এখনও রয়ে গেছে, যা শিগগিরই সরিয়ে দেওয়া হবে।”
চরফ্যাশন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এমাদুল হোসেন বলেন, “বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
মন্তব্য করুন
