

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


দেশের আগামী জাতীয় নির্বাচনকে অর্থবহ ও অংশগ্রহণমূলক করে তুলতে সব রাজনৈতিক দলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক ভিন্নতা থাকলেও বর্তমান প্রেক্ষাপটে একযোগে কাজ করাই সময়ের দাবি।
শনিবার (১৮ অক্টোবর) রাজধানীর পানি ভবনের মাল্টিপারপাস হলে আয়োজিত শ্রমিক-কর্মচারীদের সাধারণ সভা ও সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড জাতীয়তাবাদী শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়ন।
মির্জা ফখরুল বলেন, "আমরা দেখতে চাই একটি গ্রহণযোগ্য, অংশগ্রহণমূলক এবং সবার কাছে সৎ নির্বাচনের চিত্র। রাজনৈতিক দলগুলোকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। সংসদকেন্দ্রিক রাজনীতির প্রতি গুরুত্ব বাড়াতে হবে। কারণ একটি কার্যকর সংসদই পারে গণতন্ত্রকে টিকিয়ে রাখতে।"
তিনি আরও বলেন, “যেভাবে ‘জুলাই সনদ’ স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক দলগুলো পারস্পরিক দূরত্ব ভুলে একসঙ্গে বসতে পেরেছে, ঠিক তেমনভাবেই সামনে থাকা নির্বাচনেও দায়িত্বশীলতা দেখাতে হবে। যেন এটি হয় একটি নিরপেক্ষ, ন্যায়সঙ্গত ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতিফলন।”
আগামী নির্বাচনকে দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, "এই নির্বাচনের মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে, আমরা উদার গণতন্ত্রের পথে এগোব, নাকি আবার একচ্ছত্র শাসনের দিকে ফিরে যাব।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ছিল আমাদের আত্মপরিচয় ও স্বাধীন জাতি গঠনের লড়াই। তাই আমাদের দায়িত্ব ঐক্যের মাধ্যমে সেই চেতনা রক্ষা করা।”
সংসদীয় রাজনীতির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, “যদি আমরা সত্যিকারের সংসদীয় গণতন্ত্র চাই, তবে নির্বাচন হতে হবে অংশগ্রহণমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য। সংসদকেই হতে হবে রাজনীতির মূল কেন্দ্রবিন্দু। তবেই দেশে গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি শক্ত হবে।”
তিনি সাম্প্রতিক এক ঘটনায় হতাশা প্রকাশ করে বলেন, “সংসদ ভবনের সামনে শুক্রবার ছাত্রদের একটি গ্রুপ বসেছিল, যাদের পরিচয় ছিল 'জুলাইযোদ্ধা' নামে। পরে পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়। এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি গণতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর।”
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইউনিয়নের সভাপতি মঞ্জুরুল ইসলাম মঞ্জু এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির।
সম্মেলনে বিএনপি চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রম সংস্কার কমিশনের প্রধান সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইন, সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম খান নাসিমসহ আরও অনেকে।
মন্তব্য করুন
