শুক্রবার
২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রিজভীর আশঙ্কা: ‘জামায়াতের অন্য পরিকল্পনা থাকতে পারে’

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ১৫ অক্টোবর ২০২৫, ০৫:৪৭ পিএম
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ
expand
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ

গণতন্ত্রের যাত্রাপথে নতুন সংকট দেখা দিলে ‘অপ্রত্যাশিত শক্তির অনুপ্রবেশ’ ঘটতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ।

বুধবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ উদ্বেগের কথা জানান।

রিজভী বলেন, “বিশ্বের অনেক উন্নত গণতান্ত্রিক দেশে—যেমন ব্রিটেন বা যুক্তরাষ্ট্রে—নাগরিকরা সরাসরি প্রার্থীকে ভোট দেন। সেখানে হঠাৎ করে আমরা কেন আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতিকে উৎকৃষ্ট গণতন্ত্র বলব, তা বোধগম্য নয়।

আমার মনে হয়, জামায়াত যে বক্তব্য দিয়েছে তা বিভ্রান্তিকর। হয়তো তাদের অন্য কোনো উদ্দেশ্য বা পরিকল্পনাও থাকতে পারে।”

তিনি আরও বলেন, “গণতন্ত্রের অভিযাত্রায় যারা লড়াই করছেন, তাদের উচিত একসঙ্গে এমন অবস্থানে পৌঁছানো যাতে এই যাত্রা ব্যাহত না হয়। তা না হলে অনাকাঙ্ক্ষিত শক্তি প্রবেশ করতে পারে।”

রিজভী উল্লেখ করেন, “উন্নত গণতান্ত্রিক দেশগুলোতেও পিআর পদ্ধতি নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। যেমন জাপানে আংশিকভাবে (৩৭ শতাংশ) এই পদ্ধতি চালু আছে, কিন্তু পূর্ণাঙ্গভাবে কোথাও বাস্তবায়ন হয়নি। সুতরাং হঠাৎ করে বাংলাদেশে এটি চালুর প্রচেষ্টা জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে।”

তিনি বলেন, “জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে এখন পিআর পদ্ধতির কথা বললে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হবে। জরিপগুলোতেও দেখা যায়, অধিকাংশ মানুষ এই ভোটপদ্ধতি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা রাখেন না।”

গণভোট প্রসঙ্গে রিজভী জানান, “জুলাই সনদে গণভোটের যে বিষয়টি রয়েছে, কিছু দল সেটি আগে করার কথা বলছে। কিন্তু যদি ফেব্রুয়ারির প্রথম বা দ্বিতীয় সপ্তাহে জাতীয় নির্বাচন হয়—রোজা শুরুর আগেই—তাহলে নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে করা ছাড়া বিকল্প নেই।”

তার মতে, “অক্টোবরের মাঝামাঝি এসে গণভোট আগে করা সম্ভব নয়। প্রস্তুতির জন্য সময় লাগে, জনগণকে সম্পৃক্ত করতে হয়। তাই একসঙ্গে নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়াই সবচেয়ে যৌক্তিক।”

দেশের সামগ্রিক অবস্থা নিয়ে তিনি বলেন, “রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকট দিন দিন বাড়ছে। নির্বাচিত সরকার না থাকায় বিনিয়োগে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। নির্বাচিত সরকার থাকলে বিনিয়োগকারীরা আস্থা পেতেন, কর্মসংস্থান বাড়ত, অর্থনীতি চাঙা হতো। তাই জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে দ্রুত ক্ষমতা হস্তান্তর করাই এখন জরুরি।”

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন