বৃহস্পতিবার
১৮ জুন ২০২৬, ৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বৃহস্পতিবার
১৮ জুন ২০২৬, ৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পদত্যাগের পর প্রথম মুখ খুললেন পার্বত্যমন্ত্রী দীপেন দেওয়ান

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ০৩ জুন ২০২৬, ১০:৫৩ পিএম আপডেট : ০৪ জুন ২০২৬, ০৭:৪৩ এএম
দীপেন দেওয়ান
expand
দীপেন দেওয়ান

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে পদত্যাগের পর দীপেন দেওয়ান প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিলেন।

রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে সৃষ্ট আবেগ, উদ্বেগ ও নানা প্রতিক্রিয়ার প্রেক্ষাপটে জনগণের প্রতি শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

পাহাড়ি-বাঙালি সকল সম্প্রদায়ের মানুষকে সম্প্রীতি ও সহাবস্থান বজায় রাখার অনুরোধ করেছেন সাবেক এই মন্ত্রী। বিএনপির প্রতি নিজের আনুগত্য পুনর্ব্যক্ত করে বলেছেন, “বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) আমার শেষ ঠিকানা।” তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতি পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি।

বুধবার (৩ জুন) রাতে এক গুরুত্বপূর্ণ বিবৃতি দিয়েছেন সাবেক মন্ত্রী ও রাঙামাটি-২৯৯ আসনের সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান।

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে পদত্যাগের পর সৃষ্ট রাজনৈতিক আলোচনা ও জনমতের প্রেক্ষাপটে দেয়া বিবৃতিতে তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণকে শান্ত ও সংযত থাকার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি বিএনপির প্রতি নিজের অটুট আনুগত্যের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

বিবৃতির শুরুতে তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামের সর্বস্তরের জনগণকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে তার পদত্যাগকে কেন্দ্র করে রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, রাজনৈতিক সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ী এবং সাধারণ জনগণের মধ্যে যে আবেগ, উদ্বেগ ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি অবগত রয়েছেন।

দীপেন দেওয়ান বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের সকল পাহাড়ি, বাঙালি এবং অন্যান্য সম্প্রদায়ের মানুষের প্রতি তার আন্তরিক আহ্বান হলো, সবাই যেন শান্ত থাকেন, ধৈর্য ধারণ করেন এবং আইন-শৃঙ্খলা ও সম্প্রীতি বজায় রাখেন। তিনি কোনো ধরনের উসকানি, বিভ্রান্তি কিংবা সংঘাতের পথে না গিয়ে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহমর্মিতা ও সৌহার্দ্যের পরিবেশ অক্ষুণ্ণ রাখার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম সবার এবং এ অঞ্চলের উন্নয়ন, স্থিতিশীলতা ও শান্তি রক্ষার দায়িত্বও সবার। পাহাড়ি-বাঙালি নির্বিশেষে সকল জনগণের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক আস্থা আরও সুদৃঢ় হোক এমন প্রত্যাশার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

বিবৃতিতে নিজের রাজনৈতিক পরিচয় ও আদর্শিক অবস্থানের বিষয়েও স্পষ্ট বক্তব্য দেন দীপেন দেওয়ান। তিনি বলেন, তার পিতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের একজন উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। পিতার দেশপ্রেম, আদর্শ ও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতার শিক্ষা তার রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম প্রেরণা।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার স্নেহ, দিকনির্দেশনা ও নেতৃত্বে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে (বিএনপি) যোগদান করেছিলেন এবং রাজনৈতিক জীবনের শুরু থেকে আজ পর্যন্ত দলের একজন নিবেদিত কর্মী হিসেবে কাজ করে আসছেন।

বিএনপির সঙ্গে নিজের সম্পর্কের বিষয়ে দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করে তিনি বলেন, “বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল আমার রাজনৈতিক আদর্শের ঠিকানা। জীবনের অবশিষ্ট সময়ও আমি এই প্রিয় দল, এর আদর্শ এবং দেশের জনগণের কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করে যেতে চাই। ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক যেকোনো পরিস্থিতিতেই দলের প্রতি আমার আনুগত্য ও অঙ্গীকার অটুট থাকবে। এই দল আমি কখনো ত্যাগ করব না।”

দীপেন দেওয়ান বলেন, ব্যক্তি নয়, জনগণের কল্যাণই সবচেয়ে বড় বিষয়। তাই তিনি আবারও পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণের প্রতি শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। তার ভাষায়, “মত-পার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু বিভেদ নয়; প্রতিযোগিতা থাকতে পারে, কিন্তু সংঘাত নয়।”

বিবৃতির শেষাংশে তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলার পাহাড়ি-বাঙালি সকল সম্প্রদায়ের মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, উন্নয়নের সুফল ভোগ এবং অঞ্চলটিকে সম্প্রীতি, স্থিতিশীলতা ও শান্তির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

একই সঙ্গে তিনি বিএনপির চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতি পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করে বলেন, নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে তার নেতৃত্বে এগিয়ে যেতে চান। তিনি পুনরায় ঘোষণা করেন, “বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) আমার শেষ ঠিকানা।”

বিবৃতির সমাপ্তিতে দীপেন দেওয়ান সকলের প্রতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা জানিয়ে বলেন, “সবার আগে বাংলাদেশ, বাংলাদেশ জিন্দাবাদ।”

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
LIVE
Uzbekistan VS Colombia
24'
0 - 0
World Cup