

সব কিছু স্বাভাবিক থাকলে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এ নির্বাচনকে ঘিরে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ইতোমধ্যে প্রস্তুতি শুরু করেছে। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যেও চলছে তৎপরতা ও মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম।
তবে প্রার্থিতা ঘোষণার দিক থেকে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটি ইতোমধ্যে ১৬টি আসনে একক প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে। ঘোষিত প্রার্থীরা নিজেদের এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণার প্রস্তুতি শুরু করেছেন এবং সাধারণ জনগণের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন।
অন্যদিকে, বিএনপিতে চলছে মনোনয়ন নিয়ে জটিলতা ও অনিশ্চয়তা এর মধ্যেই একই আসনে প্রার্থী হচ্ছেন ৫-৬ জন করে যা বিএনপি বিএনপি কামড়া কামড়ি অবস্থা। চট্টগ্রাম বিভাগের ১৬টি আসনের প্রতিটিতে অন্তত ছয় থেকে সাতজন করে শতাধিক নেতাকর্মী প্রার্থী হতে আগ্রহী। অনেকেই ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে নিজেকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন। এর মধ্যে রয়েছেন তরুণ, নতুন মুখ, এমনকি দীর্ঘদিন রাজনীতি থেকে দূরে থাকা সাবেক এমপি ও নেতা-কর্মীরাও।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই অগোছালো পরিস্থিতির কারণে বিএনপি কিছুটা পিছিয়ে পড়ছে। এমনকি দলটির ওয়ার্ড ও থানা পর্যায়ের অনেক নেতা ভিআইপি আসনেও মনোনয়ন পাওয়ার আশায় লবিং শুরু করেছেন, যা অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ বাড়াচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি দুর্গাপূজা উপলক্ষে চট্টগ্রামের বিভিন্ন মণ্ডপে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী ও জামায়াতের ঘোষিত প্রার্থীরা সক্রিয় ছিলেন। তারা ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে নিজেদের উপস্থিতি জানান দিয়েছেন। এতে দেখা গেছে, একক প্রার্থী ঘোষণা দিয়ে জামায়াত আগেভাগেই নির্বাচনী মাঠে সুবিধাজনক অবস্থানে পৌঁছে গেছে, যেখানে বিএনপি এখনো প্রার্থী চূড়ান্ত করতে পারেনি।
বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, “চট্টগ্রামের প্রতিটি আসনেই একাধিক যোগ্য প্রার্থী আছেন। অক্টোবরের মাঝামাঝি বা শেষে বিএনপি নেতৃত্বাধীন উচ্চপর্যায় থেকে প্রার্থীদের সবুজ সংকেত দেওয়া হবে।”
তিনি আরও বলেন, “জামায়াত একক প্রার্থী ঘোষণা করলেও বিএনপির ভোট ব্যাংকে এর প্রভাব পড়বে না।”
আসনভিত্তিক প্রার্থী তালিকা
চট্টগ্রাম-১ (মীরসরাই): জামায়াতের প্রার্থী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ও ঢাকা মহানগর জামায়াতের মজলিশে শূরার সদস্য অ্যাডভোকেট সাইফুর রহমান। বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন নুরুল আমিন, শাহীদুল ইসলাম চৌধুরী, আবদুল আউয়াল চৌধুরী, এমডিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী, মনিরুল ইসলাম ইউসুফ, জিয়াদ আমিন খান, সরোয়ার উদ্দিন সেলিম ও নুরুল আমিন চেয়ারম্যান।
চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি): জামায়াতের প্রার্থী অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমিন। বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা—কাদের গণি চৌধুরী, কর্নেল (অব.) মো. আজিম উল্লাহ বাহার, সরোয়ার আলমগীর, ডা. খুরশিদ জামিল চৌধুরী, ছালাউদ্দিন ও সাবেক বিচারপতি ফয়সাল মাহমুদ ফয়জী।
চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ): জামায়াতের প্রার্থী উত্তর জেলা আমির আলাউদ্দিন শিকদার। বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী মোস্তফা কামাল পাশা, ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন, মিজানুল রহমান ভূঁইয়া মিল্টন, অ্যাডভোকেট আবু তাহের, তারিকুল আলম তেনজিং, কামাল পাশা বাবু ও রফি উদ্দিন ফয়সাল।
চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুন্ড): জামায়াতের প্রার্থী আনোয়ারুল আলম সিদ্দিকী। বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরী এফসিএ, যিনি বর্তমানে এ আসনে এককভাবে সক্রিয়।
চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী): জামায়াতের প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার সিরাজুল ইসলাম। বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, এসএম ফজলুল হক ও ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা।
চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান): জামায়াতের প্রার্থী শাহজাহান মঞ্জুর। বিএনপি থেকে গোলাম আকবর খোন্দকার, গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী ও প্রয়াত সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর সহধর্মিণী মনোনয়ন চাইছেন।
চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া): জামায়াতের প্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা আমিরুজ্জামান। বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী হুম্মাম কাদের চৌধুরী, অধ্যাপক ইউনুছ চৌধুরী, অধ্যাপক কুতুব উদ্দিন বাহার, এসএ মুরাদ চৌধুরী, অধ্যাপক আজম খান ও আবু আহমেদ হাসনাত।
চট্টগ্রাম-৮ (চান্দগাঁও-বোয়ালখালী): জামায়াতের প্রার্থী ডা. এমএ নাসের। বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী আবু সুফিয়ান, এরশাদ উল্লাহ ও মোস্তাক আহমেদ খান।
চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালি-বাকলিয়া): জামায়াতের প্রার্থী ডা. একেএম ফজলুল হক। বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন, শামসুল আলম, আবুল হাশেম বক্কর ও আলমগীর নূর।
চট্টগ্রাম-১০ (খুলশী-পাহাড়তলী): জামায়াতের প্রার্থী অধ্যক্ষ শামসুজ্জামান হেলালী। বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও সাঈদ আল নোমান।
চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা): জামায়াতের প্রার্থী শফিউল আলম। বিএনপির একক প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া): জামায়াতের প্রার্থী ডা. ফরিদুল আলম। বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী এনামুল হক এনাম, গাজী শাহজাহান জুয়েল, সৈয়দ শাদাত আহম্মেদ, এম ইদ্রিস মিয়া, শহীদুল ইসলাম চৌধুরী, সাইফুদ্দিন সালাম মিঠু ও গাজী সিরাজ উল্লাহ।
চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী): জামায়াতের প্রার্থী অধ্যাপক মাহমুদুল হাসান চৌধুরী। বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী আলী আব্বাস, লায়ন মো. হেলাল উদ্দিন, সরওয়ার জামাল নিজাম ও কাজী খোরশেদ আলম।
চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ-সাতকানিয়া আংশিক): জামায়াতের প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসাইন। বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ডা. শাহাদাত হোসেন, ডা. মহসিন জিলুর করিম, বিচারপতি আবদুস সালাম মামুন, নুরুল আনোয়ার চৌধুরী, এমএ হাশেম রাজু ও শফিকুল ইসলাম রাহী।
চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া): জামায়াতের প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরী। বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী শেখ মো. মহিউদ্দিন, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ ওসমান, মুজিবুর রহমান চেয়ারম্যান, নাজমুল মোস্তফা আমিন ও জামাল হোসেন।
চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী): জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা জহিরুল ইসলাম। বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা, লিয়াকত আলী চেয়ারম্যান, কামরুল ইসলাম হোসাইনী, জহিরুল ইসলাম চৌধুরী আলমগীর, অ্যাডভোকেট ইফতেখার হোসেন চৌধুরী মহসিন ও আশরাফ হোসেন রাজ্জাক।
মন্তব্য করুন