

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বিএনপি ক্ষমতায় এলে নোয়াখালীকে নতুন প্রশাসনিক বিভাগ হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন দলটির ভাইস চেয়ারম্যান বরকতউল্লা বুলু।
সোমবার (৬ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে নোয়াখালী বিভাগ বাস্তবায়নের দাবিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ ঘোষণা দেন।
বরকতউল্লা বুলু বলেন, “আমি অঙ্গীকার করছি— বিএনপি যদি ক্ষমতায় আসে, নোয়াখালীকে বিভাগ করতে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালানো হবে। বৃহত্তর নোয়াখালীর কৃতী সন্তান বেগম খালেদা জিয়ার সহযোগিতা নিয়েই আমরা এই দাবি বাস্তবায়ন করব।”
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নোয়াখালীবাসী তাদের নিজস্ব প্রশাসনিক বিভাগ গঠনের দাবি জানিয়ে আসছেন, যা উন্নয়ন ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে নতুন গতি আনবে।
বুলু বলেন, কথা দিচ্ছি বিএনপি যদি ক্ষমতায় আসে জোর প্রচেষ্টা থাকবে এটিকে বিভাগ করার। বৃহত্তর নোয়াখালীর কৃতি সন্তান বেগম খালেদা জিয়া। বিভাগ করার জন্য আমরা খালেদা জিয়ার সাহায্য নেব।
নোয়াখালী বিভাগ বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক এ কে এম মোজাম্মেল হক লিখিত বক্তব্যে বলেন, ‘জনসেবার জন্য প্রশাসন এবং তৃণমূলের দ্বারগোড়ায় বিভাগীয় প্রশাসনিক সেবা পৌঁছাতে রাজধানী ঢাকা থেকে প্রায় ১৭০ কিলোমিটার দূরে নোয়াখালী, ফেনী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, কুমিল্লা ও ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়াসহ ৬ জেলাকে নিয়ে নোয়াখালী বিভাগ প্রতিষ্ঠা করার জন্য আমরা নোয়াখালীর সর্বস্তরের জনগণের পক্ষ থেকে প্রধান উপদেষ্টার কাছে আপনাদের মাধ্যমে আকুল আবেদন জানাচ্ছি।’
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, অন্তবর্তীকালীন সরকারের জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন দেশে নতুন বিভাগ গঠনে নোয়াখালী, ফেনী ও লক্ষ্মীপুর জেলায় কোনো গণশুনানি করেনি।
ওইসব জেলার মানুষের মতামত ছাড়াই কুমিল্লাকে বিভাগ হিসেবে প্রস্তাব করা এবং বৃহত্তর নোয়াখালীকে অন্তর্ভুক্ত করা উদ্যোগে নোয়াখালীবাসী কোনোভাবে গ্রহণ করবে না।
সংবাদ সম্মেলনে নোয়াখালীর বাসিন্দা বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু বলেন, ‘আমরা একটি দাবি করতে চাই, নোয়াখালী প্রায় তিনশ বছরের অধিক একটা পুরাতন জেলা। এখন নোয়াখালীর যে ভৌগোলিক অবস্থান তার চাইতে আরও ২ হাজার কিলোমিটার এই বিভাগের সঙ্গে সংযুক্ত হচ্ছে। একটি সমুদ্র বন্দর, একটি নৌ বন্দর, একটি অর্থনৈতিক জোনসহ অনেক কিছু এই অঞ্চলে হচ্ছে। প্রায় এক কোটি মানুষ নোয়াখালীতে বসবাস করে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে এই বাংলাদেশের সৃষ্টির সঙ্গে এই নোয়াখালীর কমরেড তোহাসহ নেতারাও প্রথম সারিতে নেতৃত্ব দিয়েছেন। একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধে আমরা এখানে নির্দ্বিধায় বলতে পারি সিরাজুল আলম খানের জন্ম না হলে বাংলাদেশের জন্ম হতো কিনা এটা সন্দেহ। আমি তাই বলতে চাই, আসম আবদুর রব যদি সেদিন স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলন না করতেন তাহলে বাংলাদেশের মানুষ আমরা এই পতাকা দেখতে পেতাম না। নোয়াখালীর মানুষ সব বরণ্য ব্যক্তিরা-ব্যক্তিত্বরা সব সময় আন্দোলন-সংগ্রামের অংশ নিয়েছেন। আমি এই কথাটি বলতে চাই, আমাদের দাবি যৌক্তিক… এই দাবি মেনে নিয়ে সরকার পদক্ষেপ নেবে।’
বরকত উল্লাহ বুলু বলেন, ‘আমি কথা দিচ্ছি বিএনপি যদি আগামীতে ক্ষমতায় আসে আমার জোর প্রচেষ্টা থাকবে এটিকে বিভাগ করার জন্য। আমি আরেকটু সাহস পাচ্ছি এই বৃহত্তর নোয়াখালীর কৃতি সন্তান যার ওপর বাংলাদেশের মানুষ ভরসা রাখেন উনি হলেন বেগম খালেদা জিয়া। এই বিভাগটি করার জন্য আমরা উনার (খালেদা জিয়া) সাহায্য নেব এবং তার অনুপ্রেরণা, উনার উদ্যোগেই নোয়াখালী বিভাগ হবে… আমি আশা করি
সংবাদ সম্মেলনে নোয়াখালী সমিতির সভাপতি এম এ খান বেলাল, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মাবুদসহ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন
