

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন চান কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সহ-সম্পাদক ও সাবেক এমপি ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।
তবে আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে একই দলের সাতজন পুরুষ প্রার্থী তার মনোনয়নকে ঘিরে ইতিমধ্যেই জোটবদ্ধ হয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৭ সেপ্টেম্বর দুপুরে আশুগঞ্জের একটি রেস্তোরাঁয় তারা বৈঠক করেন।
এ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য শেখ মো. শামীম, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আনিসুল ইসলাম ঠাকুর, আইন সম্পাদক নুরুজ্জামান লস্কর তপু, জেলা বিএনপির সদস্য আহসান উদ্দিন খান শিপন, আশুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান সিরাজ এবং জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আক্তার হোসেন। এছাড়া ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের মহাসচিব এসএন তরুণ দে।
বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য ছিল—রুমিন ফারহানাকে দলীয় মনোনয়ন থেকে বিরত রাখা। স্থানীয় নেতারা বলেন, আসনের স্থায়ী বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে মাঠে কাজ করেছেন, কারাভোগ করেছেন এবং নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক বজায় রেখেছেন। তবে রুমিন ফারহানা সরাইল ও আশুগঞ্জের স্থায়ী বাসিন্দা নন।
সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সীমানা পুনর্বিন্যাস করেছে। এতে বিজয়নগরের বুধন্তী ও চান্দুরা ইউনিয়ন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসন থেকে কেটে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২-তে যুক্ত হয়েছে। ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা এই ইউনিয়নগুলোর যুক্তির পক্ষে ছিলেন। অন্যদিকে জেলা বিএনপির সভাপতি ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের মনোনয়নপ্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুবসহ স্থানীয় অনেক নেতা বিপক্ষে ছিলেন।
বিএনপির একাংশ এখনো তাকে ‘বহিরাগত’ মনে করলেও রুমিন ফারহানা বলছেন, “আমি বাংলাদেশের নাগরিক। বুধন্তী ইউনিয়নে আমার বাবার জন্মস্থান। এখন ওই ইউনিয়ন সরাইলের সঙ্গে যুক্ত। আমার বাবা ভাষাসৈনিক অলি আহাদ ১৯৭৩ সালের প্রথম নির্বাচনে এ এলাকা থেকে প্রার্থী হয়েছিলেন। আমার দাদা ডিস্ট্রিক্ট রেজিস্টার ছিলেন। এছাড়া আমার পৈতৃক সম্পত্তি রয়েছে—সেটি সবই সরাইল ও আশুগঞ্জে।”
তিনি আরও বলেন, “এ আসনের প্রতিটি জনসভাই প্রমাণ করে আমার জনপ্রিয়তা। সম্প্রতি সরাইলে অনুষ্ঠিত জনসভায় ৩০-৩৫ হাজার লোক সমাগম হয়েছে। প্রতি সপ্তাহে ২-৩ দিন আমি এলাকায় থাকি এবং সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অভূতপূর্ব সাড়া পাচ্ছি। দলের মনোনয়ন নিয়ে আমি শতভাগ আশাবাদী।”
সরাইল উপজেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক মশিউর রহমান মাস্টার বলেছেন, “রুমিন সরাইলের শাহবাজপুরের ভোটার। বিজয়নগরের বুধন্তী তার আদি বাড়ি। তাই তাকে আর কখনও ‘বহিরাগত’ বলা যাবে না।”
সরাইল উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নুরুজ্জামান লস্কর তপু জানান, “১৫-১৬ বছর ধরে যারা দলের জন্য কাজ করেছেন, কারাভোগ করেছেন, তাদের মধ্য থেকে একজনকে মনোনয়ন দেওয়া উচিত।
আমাদের বৈঠকে এটি স্পষ্ট করা হয়েছে—যাকেই মনোনয়ন দেওয়া হবে, তিনি দুই উপজেলার স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের।”
মন্তব্য করুন
