

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


জাতীয় নির্বাচন ঘিরে ঢাকার রাজনৈতিক উত্তাপের মধ্যে আবারও লন্ডন সফরে গেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসন।
বুধবার (১ অক্টোবর) সকালে তিনি এমিরেটস এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে ঢাকা ত্যাগ করেন। তার সঙ্গে রয়েছেন স্বামী ডেভিড বাফ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, তার এই সফরকে নিছক ব্যক্তিগত সফর বলে মানতে নারাজ অনেকে। বরং তিন মাসেরও কম সময়ের মধ্যে ট্রেসির দ্বিতীয়বারের মতো যুক্তরাজ্যের লন্ডন সফর নিয়ে নানামুখী গুঞ্জন ভাসছে ঢাকার রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অঙ্গনে।
এর আগে জুলাই মাসে ট্রেসি লন্ডন সফরে তারেক রহমানের সঙ্গে প্রথমবার বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে বাংলাদেশের নির্বাচন, সরকারের গঠন পরিকল্পনা এবং বিএনপির ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। সেই আলোচনার পরই অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে নির্বাচনের সময়সূচি ও রূপরেখা ঘোষণা করা হয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এবারের সফর ‘ট্র্যাক টু ডিপ্লোমেসি’ প্রক্রিয়ার অংশ। এর মাধ্যমে অনানুষ্ঠানিক চ্যানেলে রাজনৈতিক বার্তা বিনিময় ও সংলাপ সহজ হয়। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এমন প্রক্রিয়া কূটনৈতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে সমন্বয় বাড়ায়।
ঢাকা থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ট্রেসি সপ্তাহখানেক লন্ডনে অবস্থান করবেন। যদিও এটি ব্যক্তিগত সফর বলে দাবি করা হলেও রাজনৈতিক গুরুত্ব এবং সম্ভাব্য বৈঠক এটিকে নজরকাড়া বিষয় হিসেবে দাঁড় করিয়েছে।
ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের এক কর্মকর্তার দাবি, এটি একটি নির্ধারিত সফর, সিডিএ ছুটিতে আছেন। তারেক রহমানের সঙ্গে এবারের সফরেও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূতের ফের বৈঠক হবে কি না—
এ বিষয়ে অবগত নন জানিয়ে ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘এর আগেও সিডিএ যে তারেক রহমানের সঙ্গে নিজে গিয়ে বৈঠক করেছেন, তা দূতাবাসের অল্প কয়েকজন ছাড়া কেউ-ই জানেন না। আসলে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো তারা গোপনীয় রাখতে চান।’
যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের সাবেক এক রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘এ সফরের ফল কী হবে, তা লন্ডন থেকে স্পষ্ট হবে। তবে এটি নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে।’
তিনি আরও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসনের লন্ডন সফর আপাতত একটি কূটনৈতিক যাত্রা বলে মনে হলেও, তারেক রহমানের সঙ্গে নতুন বৈঠকের নিশ্চয়তা এটিকে রাজনৈতিক ঘটনায় পরিণত করেছে।
জুলাইয়ের বৈঠকের ধারাবাহিকতায় এই সংলাপ নির্বাচনপূর্ব পরিবেশকে আরও উত্তপ্ত করবে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চোখ রাখা রয়েছে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রায় এবং এ সফর তার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।’
মন্তব্য করুন