শুক্রবার
৩০ জানুয়ারি ২০২৬, ১৭ মাঘ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
৩০ জানুয়ারি ২০২৬, ১৭ মাঘ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শেরপুরের ঘটনা অনাকাঙ্ক্ষিত, সুষ্ঠু তদন্ত চায় বিএনপি: মাহদী আমিন

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:০৯ পিএম
বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন
expand
বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন

শেরপুরে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণার অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট ঘটনা কোনোভাবেই কাম্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন। তিনি বলেন, এই সংঘাত কি এড়ানো যেত না—নির্ধারিত সময়ের আগেই একটি দল কেন সব চেয়ার দখল করে রাখল? সেই দলের লোকজন কেন সেখানে লাঠিসোঁটা জড়ো করল? সবার সম্মিলিত অনুরোধ উপেক্ষা করে সেই দলের প্রার্থী কেন সংঘাতের পথ বেছে নিলেন—এসব বিষয় নিয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া উচিত।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপি নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

মাহদী আমিন বলেন, শেরপুরে স্থানীয় প্রশাসনের আয়োজনে এবং সব প্রার্থীর অংশগ্রহণে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণার একটি অনুষ্ঠান ছিল। সেখানে প্রত্যেক দলের বসার জন্য নির্ধারিত আসন ছিল। জামায়াতে ইসলামীর নেতৃবৃন্দ সব আসন তথা চেয়ার দখল করে রেখেছিলেন এবং বিএনপির নেতাকর্মীদের তাদের নির্ধারিত আসনে বসতে দিচ্ছিলেন না। প্রশাসন বারবার আহ্বান জানানো সত্ত্বেও তারা চেয়ার ছাড়তে অস্বীকৃতি জানান। চেয়ারে বসার মতো তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শেরপুরে যে সহিংসতা ও সংঘাত হয়েছে, তা কোনোভাবেই কাম্য নয়। গণঅভ্যুত্থানের পর আমাদের সবার প্রত্যাশা ছিল এমন একটি নির্বাচন, যেখানে পরিবেশ হবে উৎসবমুখর—সংঘাতময় নয়।

তিনি বলেন, দেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল হিসেবে এবং সাধারণ মানুষের বিশ্বাস অনুযায়ী, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হলে ইনশাআল্লাহ বিএনপিই বিজয়ী হয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে আসবে। সুতরাং আমাদের বড় লক্ষ্য হলো—নির্বাচন যেন বিতর্কমুক্ত ও শান্তিপূর্ণ থাকে এবং নির্বাচনকে ঘিরে কেউ যেন কোনো সংঘাতময় পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে না পারে। এটি যেমন বিএনপির জন্য গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি দেশের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এরপরও শেরপুরে যে ঘটনাটি ঘটেছে, তা অত্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত। কীভাবে ঘটনাটি শুরু হলো, কারা এতে মদদ দিয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসন কেন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারল না—এসব বিষয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে।

মাহদী আমিন আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমরা কিছু ভিডিও দেখেছি, যেখানে দেখা যায়—জামায়াতের প্রার্থীকে পুলিশ, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সেনাবাহিনী এমনকি বিএনপির নেতাকর্মীরাও হাত জোড় করে অনুরোধ করেছিলেন যেন তিনি ওই রাস্তা দিয়ে না যান। তারপরও তিনি কেন সেই দিক দিয়েই যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন? তাঁকে বারবার বলতে শোনা গেছে—‘জান যায় যাক।’

তিনি বলেন, এই সংঘাতে একজন মানুষ নিহত হয়েছেন—তিনি যে দলেরই হোন না কেন, তা কোনোভাবেই কাম্য নয়। এ ঘটনায় বিএনপির ৪০ জনের বেশি নেতাকর্মী আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজন আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছেন। নিহত ও আহত সবাই এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা চেয়েছিলেন, যেখানে শান্তিপূর্ণ নির্বাচনে কোনো মারামারি বা সংঘাত থাকবে না।

প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও জোরালো ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে মাহদী আমিন বলেন, এ ধরনের ঘটনা যেন আর না ঘটে, তা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি সব মহলকে আহ্বান জানাচ্ছি- কেউ যেন উসকানি না দেয়, কোনো উসকানিতে পা না দেয় এবং সবাই মিলে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও সৌহার্দ্যপূর্ণ নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করি।

তিনি বলেন, শেরপুরের এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন দেশের আর কোথাও না ঘটে, সে জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি জোরালো আহ্বান জানাচ্ছি। প্রতিটি রাজনৈতিক দল দায়িত্বশীল ও গণতান্ত্রিক আচরণ বজায় রাখবে- এটাই গণমানুষের প্রত্যাশা।

আরেক প্রশ্নের জবাবে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র বলেন, নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা আরও শক্তিশালী করতে হবে। পাশাপাশি সব রাজনৈতিক দলকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে এবং প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা দিতে হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় সাম্প্রতিক মিছিল ও বিএনপিকে জড়িয়ে অপপ্রচারের বিষয়ে তিনি বলেন, “একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভিত্তিহীন বয়ান তৈরি করে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের চেষ্টা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা ইতিবাচক রাজনীতি চাই, দোষারোপের রাজনীতি নয়।”

শেষে মাহদী আমিন বলেন, “সবচেয়ে বড় ও জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপির অগ্রাধিকার একটি শান্তিপূর্ণ, বিতর্কমুক্ত ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন। গণতান্ত্রিক সৌন্দর্য বজায় থাকলে ইনশাআল্লাহ আমরা সবাই মিলে গণতন্ত্রকে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে পারব।”

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য জুবায়ের বাবু।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

X