

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


নয়াদিল্লিতে ইউরোপ–এশিয়া সম্পর্ক নিয়ে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠান দিল্লি পুলিশের অনুমতি না পাওয়ায় শেষ মুহূর্তে বাতিল করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের কার্যক্রম নিষিদ্ধ সাবেক ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক সেলিম মাহমুদের বক্তা হিসেবে থাকার কথা ছিল।
শনিবার (২৯ আগস্ট) সন্ধ্যায় ‘ইউরোপ–এশিয়া সম্পর্ক’ শীর্ষক অনুষ্ঠানটি আয়োজনের কথা ছিল। যৌথভাবে এর আয়োজন করে সাউথ এশিয়ার ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব (এফসিসি সাউথ এশিয়া) ও বেলজিয়ামভিত্তিক হ্যান্ড ইন হ্যান্ড ফাউন্ডেশন।
এফসিসি সাউথ এশিয়ার সভাপতি ওয়াইল আওয়াদ নিউ এজ-কে বলেন, পুলিশ অনুষ্ঠানটির অনুমতি দেয়নি। এমনকি আয়োজকেরা অনুষ্ঠানের সব বাংলাদেশি বক্তাকে বাদ দেওয়ার বিষয়টি পুলিশকে জানানোর পরও অনুমতি মেলেনি।
তিনি বলেন, ‘এটি নজিরবিহীন। পুলিশ আমাদের কোনো কারণ জানায়নি। তারা শুধু বলেছে, স্পষ্ট কারণেই তারা অনুষ্ঠানটি করতে দিতে পারবে না।’
আওয়াদ জানান, এফসিসি সাউথ এশিয়া সেলিম মাহমুদকে অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানায়নি। তাঁকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল হ্যান্ড ইন হ্যান্ড ফাউন্ডেশন।
অনুষ্ঠানের বক্তাদের তালিকায় ভারতের বাংলাদেশে সাবেক হাইকমিশনার বীণা সিক্রি এবং বাংলাদেশি-আমেরিকান নুরান নবীর নামও ছিল।
পরে আয়োজকেরা এক বিবৃতিতে অনুষ্ঠান বাতিলের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তারা বলেন, ‘দিল্লি পুলিশের ব্যাখ্যাতীত হস্তক্ষেপের’ কারণে শনিবার সন্ধ্যার নির্ধারিত অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা সম্ভব হয়নি।
আওয়াদ জানান, একই দলের সদস্যদের রোববার নয়াদিল্লির জয়পী ভাসন্ত কন্টিনেন্টাল হোটেলে আরেকটি অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। তাঁর দেওয়া অতিথি তালিকায় সেলিম মাহমুদের নামের পাশাপাশি আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য আলাউদ্দিন নাসিমের নামও রয়েছে।
শেখ হাসিনাকে ঘিরে ভারত–বাংলাদেশের টানাপোড়েনের মধ্যেই এ ঘটনা ঘটল। গত ৫ আগস্ট নয়াদিল্লির এফসিসি সাউথ এশিয়ায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়।
ওই অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনার সরাসরি গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার ঘটনায় বাংলাদেশ সরকার তীব্র ক্ষোভ জানায়। ঢাকার পক্ষ থেকে বলা হয়, এ ধরনের আয়োজন বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি অবমাননাকর এবং ভারতের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নের পথে ক্ষতিকর।
তবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তখন জানিয়েছিল, এফসিসি সাউথ এশিয়া আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানের সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা বা অনুমোদন ছিল না।
সূত্র: দ্য নিউ এজ


