

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দেশের রাজনীতিতে নতুন একটি বড় দল (বলয়) তৈরির চেষ্টা শুরু হয়েছে। বিএনপি ও জামায়াতের প্রভাব বলয়ের বাইরে থেকে কয়েকটি দল ও সংগঠন এখন তৃতীয় এক রাজনৈতিক শক্তি গঠনের চেষ্টা চালাচ্ছে।
এই বলয় গঠনের উদ্যোগে যুক্ত রয়েছে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি), রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন, এবং ইউনাইটেড পিপলস বাংলাদেশ (আপ বাংলাদেশ)—যারা জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে নতুন রাজনৈতিক সমন্বয়ের পথে হাঁটছে।
তাদের দাবি, আসন্ন নির্বাচন ও পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতায় “জনগণকেন্দ্রিক বিকল্প শক্তি” হিসেবে তারা ভূমিকা রাখতে চায়।
নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, এই তিন সংগঠন ইতোমধ্যে একাধিক বৈঠক করেছে এবং একটি সমন্বিত রাজনৈতিক রূপরেখা তৈরির কাজ শুরু করেছে। জুলাই আন্দোলনের আদর্শ ও সংস্কারের অঙ্গীকারকে কেন্দ্র করে নতুন প্রজন্মের মধ্যে সাড়া জাগাতে চায় তারা।
এই প্রক্রিয়ায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), গণঅধিকার পরিষদ, এবং গণতন্ত্র মঞ্চের শরিক কয়েকটি দল—জেএসডি, নাগরিক ঐক্য, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, গণসংহতি আন্দোলন ও ভাসানী জনশক্তি পার্টি—এর সঙ্গেও যোগাযোগ চলছে। যদিও এই দলগুলোর কিছু বিএনপির সঙ্গে জোট আলোচনায় ব্যস্ত, তারপরও তৃতীয় বলয়ের প্রস্তাব নিয়ে কথাবার্তা অব্যাহত রয়েছে।
এই বলয় গঠনের রাজনৈতিক ইঙ্গিত মিলেছে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমেও। এবি পার্টি ও আপ বাংলাদেশের উদ্যোগে বৃহস্পতিবার রাজধানীর তোপখানা রোডের এক অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত হচ্ছে “জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা ও রাজনৈতিক ঐক্য: ক্ষমতা না জনতা” শীর্ষক আলোচনা সভা।
অনুষ্ঠানে অতিথি বক্তা হিসেবে থাকছেন জাতীয় ঐক্যমত কমিশনের সদস্য ড. বদিউল আলম মজুমদার, আমার দেশ সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমান, এবং রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি অ্যাডভোকেট হাসান কাইয়ূম। সভাপতিত্ব করবেন এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, আর সঞ্চালনা করবেন আপ বাংলাদেশের মুখপাত্র শাহরিন সুলতানা ইরা।
আপ বাংলাদেশের আহবায়ক আলী আহসান জুনায়েদ বলেন, বিএনপি ও জামায়াতের বাইরে একটি নতুন বলয় গঠনের কাজ চলছে। এবি পার্টি, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন এবং আমরা এই প্রক্রিয়ার কাছাকাছি এসেছি। গণঅধিকার ও অন্যান্য নতুন দলগুলোকেও যুক্ত করার আলাপ চলছে।
একই সুরে এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, বিএনপি-জামায়াতের বাইরে বিকল্প ঐক্যের চিন্তা চলছে। আমরা মূলত নির্বাচনী জোট নয়, বরং গণঅভ্যুত্থানের চেতনায় জনগণকেন্দ্রিক একটি ঐক্য চাই।
রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক হাসনাত কাইয়ুম জানান, আমরা যারা সংস্কার ও গণঅভ্যুত্থানের আদর্শে বিশ্বাস করি, তাদের সবাইকে একই প্ল্যাটফর্মে আনার চেষ্টা করছি। এটি ভবিষ্যতে বিএনপি-জামায়াতের বাইরে একটি নির্বাচনী জোটে পরিণতও হতে পারে।
অন্যদিকে গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান কিছুটা সংযত অবস্থান নিয়ে বলেন, আমরা এখনো নির্বাচনী জোট নিয়ে সিদ্ধান্ত নেইনি। তৃতীয় শক্তি গঠনের জন্য জোটের চেয়ে নতুন দল তৈরি করাই হয়তো কার্যকর হতে পারে।
এনসিপির যুগ্ম আহবায়ক সারোয়ার তুষার মনে করেন, দেশের রাজনীতিতে বিএনপি-জামায়াতের বাইরে বিকল্প শক্তির চাহিদা বাস্তব। জনগণের মধ্যেও সেই প্রত্যাশা আছে। তাই একটি তৃতীয় বলয় এখন সময়ের দাবি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগ সফল হলে তা নির্বাচনের আগেই দেশের রাজনীতিতে ভারসাম্যের নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে।
রাজনীতি বিশ্লেষক ড. মাহবুবুল হক বলেন, জুলাই আন্দোলনের পর তরুণ ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মধ্যে বিকল্প রাজনীতির আকাঙ্ক্ষা বেড়েছে। এই শক্তিগুলো যদি মাঠ পর্যায়ে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী হতে পারে, তবে তৃতীয় বলয় সত্যিকার অর্থে নির্বাচনের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠতে পারে।
সার্বিকভাবে বলা যায়, বিএনপি-জামায়াতের বাইরে তৃতীয় বলয় গঠনের এই প্রচেষ্টা বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা ঘটাতে পারে, যেখানে বিকল্প নেতৃত্ব, নতুন চিন্তা ও সংস্কারের অঙ্গীকারই হতে পারে ভবিষ্যৎ রাজনীতির মূল ভিত্তি।
মন্তব্য করুন
