

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেছেন, ক্ষমতার মোহে রাষ্ট্রকে ব্যক্তিগত সম্পত্তি এবং জনগণকে গোলাম মনে করার প্রবণতা দেখা দিলে জুলাইয়ের চেতনা বারবার ফিরে আসবে।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর বিজয়নগরে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে প্রতীকী কফিন মিছিলে অংশ নিয়ে এসব কথঅ বলেন তিনি।
মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, জুলাইয়ের শহীদরা ১৯৭১ সালের শহীদদের প্রকৃত উত্তরসূরী। তারা জীবন ও রক্তের বিনিময়ে প্রমাণ করেছেন যে দেশের স্বাধীনতা ও জনগণের অধিকার রক্ষার সংগ্রাম এখনো অব্যাহত রয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম স্লোগান ছিল, ‘লাখো শহীদের রক্তে কেনা দেশটা কারও বাপের না।’ ভবিষ্যতে যেকোনো কর্তৃত্ববাদী প্রবণতার বিরুদ্ধে এই চেতনা জাতিকে পথ দেখাবে।
তিনি আরও বলেন, জুলাই আন্দোলন নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তোলেন, দেশ কী অর্জন করেছে। এর জবাবে তিনি দাবি করেন, আন্দোলনের ফলে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের দীর্ঘদিনের দাবি বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হয়েছে। এখন জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের দায়িত্ব মূলত সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী রাজনৈতিক শক্তিগুলোর ওপর বর্তেছে।
এবি পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, বৈষম্য দূরীকরণ এবং জনগণের অধিকারভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের আন্দোলন। রাজনৈতিক দলগুলোকে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি বিকাশ এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়নের আহ্বান জানাই। একই সঙ্গে অতীতের ভুলের জন্য পরাজিত রাজনৈতিক শক্তিগুলোকে জনগণের কাছে ক্ষমা চাওয়ারও আহ্বান জানাই।
কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন দলের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানসহ দেশের সব শহীদের প্রতি এবি পার্টি গভীর শ্রদ্ধা জানাচ্ছে। দুই বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো শহীদদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ না হওয়াকে তিনি দুঃখজনক বলে উল্লেখ করেন।
তিনি অবিলম্বে একটি স্বাধীন কমিটির মাধ্যমে প্রকৃত শহীদদের তালিকা চূড়ান্ত করা, ভুয়া নাম বাদ দেওয়া, শহীদ পরিবারগুলোর পুনর্বাসন নিশ্চিত করা এবং এই প্রক্রিয়ায় জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশনকে কার্যকরভাবে সম্পৃক্ত করার দাবি জানান।
ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস, আত্মত্যাগ ও চেতনা নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে নাটক, চলচ্চিত্র ও অন্যান্য সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।
এ সময় দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এ বি এম খালিদ হাসানসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগর পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রতীকী কফিন মিছিলটি বিজয়-৭১ চত্বর থেকে শুরু হয়ে কাকরাইল মোড়, নাইটিংগেল মোড় ও পল্টন মোড় প্রদক্ষিণ করে পুনরায় বিজয়-৭১ চত্বরে এসে শেষ হয়। মিছিলে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীরা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে শোক, শ্রদ্ধা এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দেন।