

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


গুম ও হত্যাকাণ্ডে জড়িত সেনা কর্মকর্তাদের নিরাপদে চলে যাওয়ার পাঁয়তারা বন্ধ করতে হবে এবং অভিযুক্তদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে—এই দাবি তুলে ‘ইনকিলাব মঞ্চ’ এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছে।
এতে দলের মুখপাত্র শরিফ উসমান হাদি বলেন, ভারতের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করতে হবে।
শনিবার (১১ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন সংগঠনের মুখপাত্র শরিফ উসমান হাদি।
তিনি এ সময় পাঁচটি দফা দাবি উত্থাপন করেন, যার মধ্যে অন্যতম ছিল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের আওতায় দোষীদের বিচার এবং ভারতকে দায়ী করে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ।
উত্থাপিত ৫ দফা হলো
১. গুম ও হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত ২৮ সামরিক কর্মকর্তাকে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে হবে এবং দ্রুত আন্তর্জাতিক মানের বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
২. যেহেতু এই গুম-খুনের ঘটনায় ভারতের সংশ্লিষ্টতা স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে, তাই বাংলাদেশ সরকারকে আন্তর্জাতিক আদালতে ভারতের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করতে হবে।
৩. পিলখানা ট্র্যাজেডি কমিশন, গুম বিষয়ক কমিশন এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন টিমসহ সংশ্লিষ্ট সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, যেন তারা নির্বিঘ্নে দায়িত্ব পালন করতে পারেন।
৪. পিলখানা তদন্ত কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদন যেন কোনো ধরনের সম্পাদনা বা গোপনীয়তা ছাড়াই পুরোপুরি প্রকাশ করা হয়, এবং তা নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই জনসমক্ষে তুলে ধরা হয়।
৫. ক্যান্টনমেন্ট থেকে ‘সেফ এক্সিট’ পাওয়া ৬২৬ জন এবং অন্য সব পলাতক অভিযুক্তদের আন্তর্জাতিক সহায়তায়, বিশেষ করে ইন্টারপোলের মাধ্যমে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে ইনকিলাব মঞ্চ দাবি করে, কিছু প্রভাবশালী গোষ্ঠী গুম ও হত্যায় জড়িত ব্যক্তিদের দায়মুক্তি দিয়ে দেশত্যাগে সহায়তা করছে, যা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গভীর হুমকি। দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়, এ ধরনের ‘সেফ এক্সিট’ পরিকল্পনা বন্ধ করা না হলে দেশ অরাজকতার দিকে ধাবিত হবে।
ভারতের বিরুদ্ধে মামলা করার দাবির ব্যাখ্যায় শরিফ উসমান বলেন,
"যে কোনো দেশের ভূখণ্ডে যদি অন্য দেশের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ হস্তক্ষেপে মানুষ নিখোঁজ বা নিহত হয়, সেটি আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী যুদ্ধাপরাধ ও মানবতা বিরোধী অপরাধ হিসেবে বিবেচিত।"
তিনি আরও বলেন, এই ইস্যুতে সরকার যদি কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে জনসম্পৃক্ত গণআন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
মন্তব্য করুন
