

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সভায় এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, যদিও জুলাই সনদ বাস্তবায়নে প্রায় সবাই একমত, বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায় অহেতুক সাংবিধানিক বিতর্ক সৃষ্টি করা হচ্ছে।
যদি সংবিধানের দোহাই দিয়ে এই প্রক্রিয়ায় অনিশ্চয়তা থাকে, তবে নতুন একটি অভ্যুত্থান অনিবার্য হবে।
রবিবার (৫ অক্টোবর) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমির দোয়েল হলে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে মধ্যাহ্ন বিরতিতে সাংবাদিকদের তিনি এই মন্তব্য করেন।
দীর্ঘ বিরতির পর বৈঠক সকাল সাড়ে ১১টায় আবার শুরু হয়। প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী সাংবাদিক মনির হায়দার এর সঞ্চালনায় এবং কমিশনের সহ-সভাপতি ড. আলী রীয়াজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এবি পার্টির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার সানী আব্দুল হক দলের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন।
মজিবুর রহমান মঞ্জু সাংবাদিকদের বলেন, একটি নতুন অভ্যুত্থান ঘটলে গণরোষ থেকে বাঁচতে জটিলতা সৃষ্টিকারীদের জন্য বড় হেলিকপ্টার পর্যন্ত লাগতে পারে। সনদ চূড়ান্ত হওয়ার পর বাস্তবায়ন নিয়ে আমরা অতিরিক্ত আইন ও সাংবিধানিক বিতর্ক করছি। অথচ শেখ হাসিনা সংবিধানের দোহাই দিয়ে দেশের সংবিধানকে ভুলভাবে ব্যবহার করে ফ্যাসিবাদী শাসন চালিয়েছিলেন, যার কারণে আমাদের বাধ্য হয়ে গণঅভ্যুত্থান করতে হয়েছে।
এবি পার্টি এই বৈঠকে প্রস্তাব দেন, গণঅভ্যুত্থান হলো জনগণের ইচ্ছার চূড়ান্ত প্রকাশ। সব পক্ষের মতামত সন্নিবেশিত করে জুলাই সনদকে ‘সংবিধান আদেশ’ আকারে জারি করতে হবে। এছাড়াও সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের মতামত গ্রহণ ও জনগণের সমর্থন যাচাইয়ের জন্য গণভোট আয়োজন করতে হবে, যাতে একটি সফল সমাধান আসে।
ব্যারিস্টার সানী আব্দুল হক বলেন, জুলাই সনদের বাস্তবায়ন পরবর্তী সংসদের ওপর ন্যস্ত করার প্রস্তাব অন্যায্য এবং জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার পরিপন্থি। সংবিধানের কাঠামোর ভেতরে সরকারকে উৎখাতের কোনো ধারণা নেই।
তবে জুলাই অভ্যুত্থান সাংবিধানিক বিধান মেনে সংঘটিত হয়নি, ফলে সংবিধানের ধারাবাহিকতার যুক্তি দুর্বল এবং অগ্রহণযোগ্য। এতে রাষ্ট্রের কাঙ্ক্ষিত কাঠামোগত পরিবর্তন বিলম্বিত হবে, যা মোটেও কাম্য নয়।
তিনি আরও বলেন, “জুলাই সনদের বাস্তবায়ন প্রশ্নটি আইনি হওয়ার পাশাপাশি রাজনৈতিক। তাই রাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থা ও কাঠামোগত পুনর্সজ্জায় জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা ছাড়া বিকল্প নেই। রাজনৈতিক দল ও অংশীজনদের মধ্যে ঐকমত্য ছাড়া কার্যকর বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।
মন্তব্য করুন
