

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বর্তমান রাজনৈতিক পরিপ্রেক্ষিতে নতুন করে আলোচনায় এসেছে জামায়াতে ইসলামী। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংগঠন শিবির দলের সাম্প্রতিক সাফল্যের পর থেকে দলটি সারা দেশের রাজনৈতিক মনোজগতে স্বচ্ছন্দভাবে ফিরে এসেছে।
এমন পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক মহলেও জামায়াতে ইসলামী নিয়ে নানা আভাস শুনা যাচ্ছে।
এই বিষয়কে কেন্দ্র করে ভারতের বাংলা দৈনিক ‘এই সময়’-এ প্রকাশিত এক বিশেষ প্রতিবেদনে (রিপোর্টার: অনমিত্র চট্টোপাধ্যায়) বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহের কারণ নিয়ে একটি বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে উদ্ধৃত এক মার্কিন কনস্যুলেট কূটনীতিক পাঁচটি প্রধান কারণ দেখিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যে কারণে জামায়াতকে পছন্দ করে?
১) শিক্ষা ও অর্থনৈতিক শক্তি: তাদের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উচ্চশিক্ষিত এবং ব্যবসায়িকভাবে সফল — অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক সক্ষমতা তাদের অনুকূল প্রমাণ করে।
২) আচরণগত স্বাচ্ছন্দ্য: কূটনীতিকের মাপকাঠিতে জামায়াতের প্রতিনিধিরা ভদ্র ও শিষ্টাচরণে বিশ্বাসী; তাদের সঙ্গে কৌশলগতভাবে যোগাযোগ করা সহজ।
৩) ঐতিহাসিক বিরোধিতার সেটিং: মুক্তিযুদ্ধবিরোধিতার মতো অতীত ইস্যু তাদেরকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রধান দলের নিকট নির্যাতিত ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হিসেবে উপস্থাপন করেছে—এ হীনতার প্রেক্ষাপট কূটনীতিকদের নানাভাবে বিবেচিত।
৪) গণতান্ত্রিক মান্যতা: ঐ কূটনীতিকের ভাষ্য—জামায়াত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে; তারা সংবিধানভিত্তিক প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে ইচ্ছুক বলে ধরা হয়।
৫) ইসলামি কিন্তু কঠোরতাবাদী নয়: যদিও তারা ইসলাম ভিত্তিক রাজনৈতিক দল, তথাপি তাদের অবস্থান তালেবানধর্মী ও উগ্রধারার তুলনায় তুলনামূলকভাবে কম পিছিয়ে থাকা; বরং কিছু ক্ষেত্রে প্রগতিশীলতার স্বীকৃতিও আছে—এমন বিচার কূটনীতিক করেছেন।
প্রতিবেদনটি জানায়, মার্কিন পক্ষ দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশে জামায়াতের ওপর অনুকূল দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করেছে—এটা কোনো হঠাৎ প্রকাশ্য রাজনৈতিক সম্ভবনা নয়, তাদের কাছে এ নিয়ে বড় ধরনের গোপনীয়তা নেই বলেই মন্তব্য করা হয়েছে।
সেই অজ্ঞাত কূটনীতিক আরও বলেছেন—যদি কোনো দেশে প্রায় ৮০–৮৫ শতাংশ জনগণ মুসলিম হয়, সেখানে জামায়াত শাসনে এলেও “কেন সমস্যা হবে?” তাঁর যুক্তি ছিল, দলটি শৃঙ্খলাবদ্ধ; সুযোগ পেলে তাদেরও কাজ করতে দেওয়া উচিত; ভুল করলে নাগরিকরা নিজে প্রতিক্রিয়া দেখাবে।
রিপোর্ট বলেছে, এই ধরনের কূটনৈতিক মূল্যায়ন ও অভিমত দেশীয় রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে নতুন ধরণের প্রশ্ন উত্থাপন করেছে—বিশেষত ডাকসু ও জাকসু নির্বাচনে শিবিরের সাফল্যের প্রেক্ষিতে রাজনৈতিক জোট, কূটনীতি ও অভ্যন্তরীণ রাজনীতির সম্পর্ক কিভাবে গঠিত হবে, তা এখন অধিকভাবে নজর কাড়ছে।
মন্তব্য করুন
