শনিবার
০৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১৯ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শনিবার
০৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১৯ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মার্কিন নাগরিকত্ব ত্যাগ করলেন শামা ওবায়েদ

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ০৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:১৮ এএম
শামা ওয়ায়েদ
expand
শামা ওয়ায়েদ

ফরিদপুর-২ (সালথা ও নগরকান্দা) আসনে বিএনপির প্রার্থী এবং দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পরিত্যাগ করেছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই, গত ২০ নভেম্বর তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে মার্কিন নাগরিকত্ব ছাড়েন। নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া মনোনয়নপত্রের সঙ্গে সংযুক্ত হলফনামা থেকে এই তথ্য জানা গেছে, যা তিনি ২৮ ডিসেম্বর দাখিল করেন।

হলফনামায় শামা ওবায়েদ নিজের পেশা হিসেবে ব্যবসার কথা উল্লেখ করেছেন। সেখানে তিনি অ্যালিউর বিল্ডার্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, অ্যাভোসিল্ক সলিউশনের চেয়ারম্যান এবং ইনস্টিটিউট ফর গ্লোবাল কো-অপারেশন ফাউন্ডেশনের (আইজিসিএফ) সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনের তথ্য দিয়েছেন।

হলফনামা অনুযায়ী, শামা ওবায়েদের বার্ষিক আয় ২১ লাখ ৮৯ হাজার ৭১ টাকা। এর মধ্যে অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া থেকে এসেছে ১২ লাখ ৬০ হাজার টাকা। চাকরি থেকে আয় দেখানো হয়েছে ৭ লাখ ৮৬ হাজার ৬৬৭ টাকা, সম্মানী বাবদ ৯৬ হাজার টাকা এবং শেয়ার, সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংক আমানত থেকে মুনাফা ৪৬ হাজার ৪০৪ টাকা।

তিনি অস্থাবর সম্পদের অর্জনমূল্য উল্লেখ করেছেন ৩ কোটি ৬২ লাখ ৮৫ হাজার ৮০৬ টাকা, যার বর্তমান আনুমানিক বাজারমূল্য দেখানো হয়েছে ৪ কোটি ৩৭ লাখ ৮৫ হাজার ৮০৬ টাকা। এর মধ্যে রয়েছে নগদ অর্থ ২ কোটি ৫২ লাখ ৫১ হাজার ৮৯৪ টাকা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা ৩০ লাখ ৩৩ হাজার ৯১২ টাকা, শেয়ার ও বন্ডে বিনিয়োগ ৫০ লাখ টাকা এবং একটি জিপ গাড়ি, যার মূল্য ধরা হয়েছে ৩০ লাখ টাকা। পাশাপাশি তিনি ৫০ তোলা স্বর্ণের মালিকানা উল্লেখ করলেও এর আর্থিক মূল্য নির্ধারণ করেননি।

স্থাবর সম্পদের ক্ষেত্রে শামা ওবায়েদ অর্জনমূল্য হিসেবে দেখিয়েছেন ৬ কোটি ৯৩ লাখ ২০ হাজার টাকা, যার বর্তমান মূল্য আনুমানিক ৯ কোটি টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া ৪৫০ শতাংশ অকৃষিজমির কথা উল্লেখ করলেও এর মূল্য নির্ধারণ করেননি। এছাড়া ঢাকার বনানীতে ৩ হাজার ২৪৫ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাটের মূল্য দেখিয়েছেন ৬ কোটি ৯৩ লাখ ২০ হাজার টাকা।

২০১৮ সালের হলফনামার সঙ্গে বর্তমান তথ্য তুলনা করলে দেখা যায়, তখন তাঁর বার্ষিক আয় ছিল ৩০ লাখ ৬ হাজার ৮২৫ টাকা, যা বর্তমানে কমে দাঁড়িয়েছে ২১ লাখ ৮৯ হাজার ৭১ টাকায়। অর্থাৎ সাত বছরের ব্যবধানে তাঁর আয় কমেছে প্রায় ৮ লাখ ১৭ হাজার টাকা।

অন্যদিকে, অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০১৮ সালে যেখানে অস্থাবর সম্পদ ছিল ১ কোটি ৫৩ লাখ ৮২ হাজার ২৮৭ টাকা, বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ৬২ লাখ ৮৫ হাজার ৮০৬ টাকায়। তবে স্থাবর সম্পদের ক্ষেত্রে উল্টো চিত্র দেখা যায়। আগে যেখানে স্থাবর সম্পদের পরিমাণ ছিল ৭ কোটি ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা, বর্তমানে তা কমে হয়েছে ৬ কোটি ৯৩ লাখ ২০ হাজার টাকা।

২০১৮ সালের হলফনামায় তিনি উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া ১ দশমিক ৫ একর কৃষিজমির কথা উল্লেখ করেছিলেন, যার মূল্য তিনি জানতেন না। বর্তমান হলফনামায় কৃষিজমির কোনো তথ্য নেই, তবে সেখানে নতুন করে উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া ৪৫০ শতাংশ অকৃষিজমির উল্লেখ রয়েছে।

আগের হলফনামায় অ্যালিউর বিল্ডার্স লিমিটেডের পরিচালক হিসেবে তাঁর নামে সাউথইস্ট ব্যাংক থেকে নেওয়া ৩ কোটি ৫ লাখ টাকার ঋণের তথ্য ছিল। বর্তমান হলফনামায় তাঁর নামে কোনো ঋণ দেখানো হয়নি। একইভাবে, ২০১৮ সালে বিয়ের উপহার হিসেবে পাওয়া ৬০ তোলা স্বর্ণের কথা উল্লেখ থাকলেও এবার স্বর্ণের পরিমাণ দেখানো হয়েছে ৫০ তোলা।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

X