

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বাংলাদেশের ঐতিহ্যের সাথে মিশে থাকা বাটিক এখন শুধু কারুশিল্প নয়; এটি হয়ে উঠছে একটি সামাজিক ব্যবসার শক্তিশালী মডেল। স্থানীয় নকশা, হাতে তৈরি দক্ষতা আর প্রাকৃতিক রঙের সংমিশ্রণে গড়ে ওঠা এই শিল্প গ্রামীণ নারীদের জন্য তৈরি করছে আত্মকর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ।
অঞ্চলভিত্তিক বাটিকের প্রসার
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে—বিশেষ করে নওগাঁ, নাটোর, রাজশাহী, কুষ্টিয়া, নারায়ণগঞ্জ ও টাঙ্গাইলে—বাটিকের প্রশিক্ষণ, উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ শুরু হয়েছে নতুন আঙ্গিকে। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, নারী ব্যবসায়ী ও শিক্ষিত বেকার তরুণদের অংশগ্রহণ এই খাতে যোগ করছে নতুন প্রাণশক্তি।
সামাজিক ব্যবসার কাঠামো
বাটিক নির্ভর সামাজিক ব্যবসায় ‘উৎপাদন–বিপণন–পুনঃবিনিয়োগ’ মডেল কার্যকর হচ্ছে। এতে লাভের অংশ পুনরায় প্রশিক্ষণ, সরঞ্জাম উন্নয়ন ও স্থানীয় উন্নয়নমূলক কাজে ব্যবহৃত হয়। একদিকে পণ্যের গুণগত মান বাড়ছে, অন্যদিকে কারিগরদের আর্থিক স্থিতি মজবুত হচ্ছে।
বাংলাদেশের বাটিকের ধরন
বাংলাদেশে প্রধানত তিন ধরনের বাটিক প্রচলিত—
হ্যান্ড ড্রন বাটিক: মোম দিয়ে হাতে ডিজাইন তৈরি করা, যা ‘টুলিসান’ নামেও পরিচিত।
ব্লক বাটিক: কাঠের ব্লক দিয়ে মোম লাগিয়ে কাপড়ে নকশা তোলা।
স্ক্রিন বাটিক: স্ক্রিন প্রিন্ট প্রযুক্তিতে দ্রুত উৎপাদনযোগ্য পদ্ধতি।
বাটিক তৈরির ধাপসমূহ
কাপড় পরিষ্কার ও শুকানো
ডিজাইন তৈরি (হাতে বা ব্লকে)
গরম মোম প্রয়োগ
রঙে ডুবানো
শুকিয়ে মোম তোলা
মোম সরানো (গরম পানিতে)
ফিনিশিং ও আয়রনিং
প্রাকৃতিক রঙে ভবিষ্যতের সম্ভাবনা
ইন্দিগো, কাঁকড়া, গাঁদা ফুল, হরিতকী, মেহেদি, কাঠের ছাল ইত্যাদি প্রাকৃতিক উৎস থেকে তৈরি রঙ পরিবেশবান্ধব ও অ্যালার্জি-নিরাপদ। বিশ্বব্যাপী টেকসই ফ্যাশনের চাহিদা বাড়ায় এসব প্রাকৃতিক বাটিক আন্তর্জাতিক বাজারে ‘eco-luxury’ হিসেবে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করছে। জাপান, জার্মানি, কানাডা ও নেদারল্যান্ডসের মতো বাজারে ইতিমধ্যে রপ্তানির পথ খুলছে স্থানীয় ডিজাইনভিত্তিক পণ্য।
সামাজিক ব্যবসায় বাটিকের বিশেষ দিক
স্থানীয় নারী ও যুবদের দক্ষতা উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণ
উৎপাদন সরঞ্জাম বিতরণ
লাভের পুনঃবিনিয়োগ
কমিউনিটি ব্র্যান্ড গড়ে তোলা
অর্থনীতি, সংস্কৃতি ও ক্ষমতায়নের সমন্বয়
বাটিক শিল্প আজ শুধু ফ্যাশন নয়; এটি সামাজিক পরিবর্তনের বাহক। নারীর ক্ষমতায়ন, পরিবেশবান্ধব উৎপাদন ও ঐতিহ্যের পুনর্জাগরণের মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে।
লেখক: চায়না ঝেজিয়াং কলেজ, ডিজাইন বিভাগ, প্রতিষ্ঠাতা, হেরিটেজ রিসার্চ অ্যান্ড প্রফেশনাল ইনস্টিটিউট।
মন্তব্য করুন