

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


দীর্ঘ ৩৩ বছর পরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) অনুষ্ঠিত হলো কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন। নানা অভিযোগ এনে জাতীয়তবাদী ছাত্রদল ও চারটি বাম সংগঠন নির্বাচন বর্জন করেছে।
এই নির্বাচন বর্জন নিয়ে ধন্দে পড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্ট্যাটাস দিয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. আবু দায়েন।
স্ট্যাটাসে তিনি লিখেন, বিকেল থেকে খবর দেখছি জাতীয়তবাদী ছাত্রদল ও চারটি বাম সংগঠন নির্বাচন বর্জন করেছে। বামদের বর্জনের বিষয়ে কিছু বলার নেই। ছাত্রদলের বর্জনের বিষয়ে ধন্দে পড়েছি।
ছাত্রদল নির্বাচন বর্জন করার ঘোষণা দিয়েছে বোধহয় ভোট দেবার সময় ফুরানোর ১০ মিনিট আগে। অনিয়মের অভিযোগগুলোও দেখলাম। নির্বাচনে কারসাজি করার অভিযোগ আসলে কার বিরুদ্ধে?
ফেসবুকে একজনের পোস্টে চারটা নাম দেখলাম। তারা চারজন সম্ভবত চারটি হলের প্রভোস্ট। একজন নারী শিক্ষকও রয়েছেন তন্মধ্যে। তাঁর রাজনৈতিক আদর্শ সম্পর্কে আমার ধারণা নেই। বাকি তিনজনের দুজন বিগত আমলে আওয়ামীপন্থী শিক্ষক ফোরামে সক্রিয় ছিলেন। অপরজনকে চিরকাল বিএনপিপন্থী শিক্ষক হিসেবে জেনে এসেছি, অন্তত গত ৩৩ বছর ধরে। বিভিন্ন নির্বাচনে তিনি বিএনপির মনোনয়নে প্রার্থী হয়েছেন। বিএনপির মনোনয়নে তিনি সিনেট, সিন্ডিকেটসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পর্ষদে নির্বাচিত হয়েছেন।
তাঁরা যদি প্রভোস্ট হয়ে থাকেন, চারটি ভোটকেন্দ্র তাঁদের চারজনের তত্ত্বাবধানে থাকার কথা। কিন্তু যার অধীনে তাঁরা কাজ করেন, সেই উপাচার্যকে বিএনপির কোর অর্গানাইজার হিসেবে চিনি ৩৩ বছর ধরে।
বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুযায়ী তিনি অফুরন্ত ক্ষমতার মালিক। তাঁর টিমে যারা আছেন দুজন উপ-উপাচার্যের একজন সামাজিকভাবে জামায়াত সমর্থক হিসেবে পরিচিত (সত্যি কি না আমার ধারণা নেই)। অপরজন চাকরিতে যোগ দেন বিএনপি আমলে। বিএনপির ফ্রন্টলাইনার সাপোর্টার ছিলেন। আওয়ামী আমলে পরিচিতি বদলান। দীর্ঘ সময় প্রভাবশালী আওয়ামি শিক্ষক ছিলেন।
ট্রেজারার বগুড়ার গাবতলির সন্তান। ১৯৯২ সালের সর্বশেষ জাকসু নির্বাচনে ছাত্রদল থেকে নির্বাচিত হল প্রতিনিধি। প্রক্টরসহ নির্বাচন কমিশনে যারা আছেন, প্রায় সবাই বিএনপি ঘরাণার ত্যাগী ও বিরূপ পরিস্থিতিতে নানাভাবে নিগৃহীত শিক্ষক।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার রাজনীতি প্রশ্নে বিভিন্ন সময় সরব অবস্থানে থাকলেও তার রাজনৈতিক আদর্শ সম্পর্কে আমার স্পষ্ট ধারণা নেই। ডাকসু নির্বাচনে অভিযোগের কেন্দ্রে উপাচার্য, যার জামায়াতপন্থী হবার জোর আলোচনা লক্ষ করা যায়।
জাকসুতে বিএনপিপন্থী উপাচার্য ও প্রশাসনের সর্বত্র প্রায় সব দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক বিএনপি সমর্থক হওয়া সত্ত্বেও কে কারচুপি ও অনিয়ম করল? বিশেষত মাথার ওপর যেখানে উপাচার্য। তাঁর নেতৃত্ব বাইপাস করে অনিয়ম ও কারসাজি হলো? তিনি মেনে নিলেন বা হতে দিলেন? অভিযোগ নিয়ে তিনি চুপ থাকবেন?
প্রশাসনের বিরুদ্ধে অভিযোগ মানে তো তাঁর বিরুদ্ধেই অনিয়মের আঙুল তোলা। তিনি বিএনপির স্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করছেন? সেটা মানা কঠিন নয়? তবে ব্যাপারটা কী দাঁড়ায়? একটা আচানক ধন্দে পড়ে গেছি। বিকেল থেকে নানাজনকে জিজ্ঞেস করছি, ভোট শেষ হবার আগে বর্জন, যদি বর্জনকারীরা জিতে যায়, কী হবে? যাকেই জিজ্ঞেস করি বলে, জিতবে না। তারা কীভাবে জানেন জিতবে না?
একটা ধন্দে পড়ে আছি। আসলে দিনকাল ভালো না।
লেখক: ড. আবু দায়েন, অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।
মন্তব্য করুন