

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০২২ সালে লোডশেডিং তীব্র আকারে বাড়তে থাকে। সে সময় বিদ্যুৎ সংকটকে কেন্দ্র করে সরকারকে নানা ধরনের চাপে পড়তে হয়। বিশেষ করে কিছু আমলা ও জনপ্রতিনিধির অসংযত ও নেতিবাচক মন্তব্যের কারণে জনমনে অসন্তোষ তৈরি হয় এবং সরকারকে পড়তে হয় তীব্র সমালোচনার মুখে।
সেই প্রেক্ষাপটে (১৮ জুলাই) এক সভায় ‘বিদ্যুৎ সংকট সমাধানে’ মসজিদে এয়ার কন্ডিশনার (এসি) ব্যবহার না করার কথা জানিয়েছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি উপদেষ্টা তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরী। কিন্তু তার এই বক্তব্য ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। পরে পরিস্থিতি সামাল দিতে তড়িঘড়ি করে বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় থেকে ব্যাখ্যা দেওয়া হয় নামাজের সময় ছাড়া বাকি সময় মসজিদে এসি বন্ধ রাখার জন্য অনুরোধ করা হয়েছিল।
বর্তমানে একই ধরনের একটি সিদ্ধান্ত আবারও বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। জ্বালানি সাশ্রয়ের যুক্তিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) কেন্দ্রীয় মসজিদে প্রবেশে সময়সীমা নির্ধারণ করেছে প্রশাসন। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, শুক্রবার ছাড়া প্রতিদিন দুপুর সাড়ে ১২টার আগে মসজিদ খোলা হবে না। এ সিদ্ধান্তকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
সকালে কেন্দ্রীয় মসজিদের গেট তালাবদ্ধ রাখা হয় এবং সেখানে বন্ধের নির্দেশনা সংবলিত লিফলেট টানানো হয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে আরও বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।
শিক্ষার্থীরা বলছেন, “আমরা যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে যাতায়াত করি, তারা ক্লাস শেষে বাস ছাড়ার আগ পর্যন্ত সময়টা মসজিদেই কাটাই। সকাল সাড়ে সাতটায় ক্যাম্পাসে এসে ক্লাস শেষে ক্লান্ত শরীর নিয়ে কিছুটা বিশ্রামের জন্য মসজিদই আমাদের একমাত্র আশ্রয়। অথচ সংকটের বোঝা শুধু শিক্ষার্থীদের ওপর চাপানো হচ্ছে। প্রশাসনিক ভবন, ক্যাফে কিংবা পরিবহনে এসি চালু থাকছে, কিন্তু শিক্ষার্থীদের জন্য মসজিদ বন্ধ রাখা হচ্ছে এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। প্রয়োজনে প্রশাসনিক ভবনের এসি বা লিফট বন্ধ রাখা যেতে পারে।”
এ ধরনের সিদ্ধান্ত ঘিরে আবারও তীব্র সমালোচনার মুখে পড়তে হচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে। অভিজ্ঞতা বলে, এমন বাস্তবতা-বিবর্জিত ও একপাক্ষিক সিদ্ধান্ত জনমনে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে এবং সরকারের ভাবমূর্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
তাই সরকারের উচিত, এ ধরনের সংবেদনশীল বিষয়ে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া, সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা। অন্যথায়, নতুন সরকারকেও একই ধরনের অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক ও জনঅসন্তোষের মুখে পড়তে হতে পারে।
লেখক: সানমুন আহমেদ, সংবাদকর্মী।
মন্তব্য করুন