

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


রাজধানীর ফার্মগেট এলাকায় মেট্রো দুর্ঘটনায় আবুল কালামের মৃত্যু পরিবারের জন্য অকল্পনীয় শোক নিয়ে এসেছে। মৃত আবুল কালামের লাশবাহী গাড়ি ভোর রাতে গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায়।
তার দুই ছোট সন্তান-অব্দুল্লাহ (৫) ও পারিসা (৩)-গাড়ির পাশে দাঁড়িয়ে বাবার মৃতদেহের দিকে তাকিয়ে বলেন, “মা, তুমি কাঁদো না, বাবা ঘুমাচ্ছে।” কিন্তু মা প্রিয়া অনবরত কান্নায় ভেঙে পড়েছেন।
প্রিয়া আক্তার পিয়া শোকাহত কণ্ঠে বলেন, আমার সন্তানরা এখনও বুঝতে পারছে না, তাদের বাবা আর ফিরবে না। তারা বলছে ‘বাবা ঘুমাচ্ছে, মা তুমি কাঁদো না।’ আমি কীভাবে তাদের বোঝাই যে বাবা আর কখনো জাগবে না? আবুল কালাম আমাদের একমাত্র ভরসা ছিলেন, এখন আমরা একেবারে দিশাহারা।
তিনি আরও বলেন, রবিবার দুপুরে ফোন আসতেই জানলাম, বাবার সঙ্গে দুর্ঘটনা হয়েছে। আমাদের ছোট ছোট সন্তানরা তখনও বাবাকে খুঁজছিল। তারা এখনও বোঝে না বাবা নেই, বাবা হারানোর বেদনা কী। আমাদের জন্য এটা অসম্ভব কষ্টের।
মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছানোর পর সকাল ৯টায় স্থানীয় মাদ্রাসা মাঠে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে নড়িয়া কেন্দ্রীয় কবরস্থানে আবুল কালামকে দাফন করা হয়।
নিহতের চাচাত ভাই নোমান চৌকিদার বলেন, আবুল কালাম খুবই সৎ ও পরিশ্রমী মানুষ ছিলেন। তিনি আমাদের সবার সঙ্গে সুন্দর সম্পর্ক বজায় রাখতেন। তার স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য সরকার যদি সহায়তা প্রদান করে, তবে তা আমাদের প্রত্যাশা।
নড়িয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) লাকী দাস বলেন, আবুল কালামের আকস্মিক মৃত্যুতে আমরা শোকাহত। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানাজা ও দাফনে অংশগ্রহণ করেছি এবং পরিবারের পাশে থেকে সব প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিশ্চিত করা হবে।
মন্তব্য করুন
