

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বাংলাদেশ থেকে ভারতে ছয় বছর ধরে দুর্গাপূজার সময়ে ইলিশ রপ্তানি করা হচ্ছে। সেই ধারাবাহিকতায় এ বছরও দেশটি পাচ্ছে ইলিশ। এবারের জন্য ১ হাজার ২০০ টন ইলিশ রপ্তানির নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হবে দুর্গাপূজা, তার আগেই এই মাছ পৌঁছে যাবে ভারতে।
সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব এস. এইচ. এম. মাগফুরুল হাসান আব্বাসীর স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।
২০১৫ সালের জাতীয় রপ্তানি নীতিতে (২০১৫-১৮) শর্তসাপেক্ষে ইলিশকে রপ্তানিযোগ্য পণ্য হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়। পরবর্তী নীতিতেও একই নিয়ম বহাল থাকে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের দুর্গাপূজা উপলক্ষে এবারও ১২০০ মেট্রিক টন ইলিশ ভারতে রপ্তানির জন্য নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ জন্য আগ্রহী রপ্তানিকারকদের আগামী ১১ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টার মধ্যে হার্ড কপিতে আবেদন জমা দিতে হবে।
আবেদনের সঙ্গে হালনাগাদ ট্রেড লাইসেন্স, ইআরসি, আয়কর ও ভ্যাট সার্টিফিকেট, বিক্রয় চুক্তিপত্র, মৎস্য অধিদপ্তরের লাইসেন্সসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রতি কেজি ইলিশের ন্যূনতম রপ্তানি মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১২.৫ মার্কিন ডলার।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, যেসব প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যেই আবেদন করেছে, তাদেরও নতুন করে আবেদন জমা দিতে হবে। কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ অঞ্চলে বাংলাদেশের ইলিশের চাহিদা অনেক বেশি। তবে মোট উৎপাদনের তুলনায় রপ্তানির পরিমাণ খুবই কম। পরিসংখ্যান বলছে, বাংলাদেশে উৎপাদিত ইলিশের মাত্র ০.২৯ শতাংশ রপ্তানি হয়েছে ভারতে। এমনকি সরকারের অনুমোদনের তুলনায় প্রকৃত রপ্তানি অনেক কম হয়। যেমন গত বছর ৭৯ প্রতিষ্ঠানকে ৩ হাজার ৯৫০ টন রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হলেও, বাস্তবে রপ্তানি হয়েছিল মাত্র ৮০২ টন।
প্রথমবার ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হয় ২০১৯ সালে। সে সময় বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে কেজিপ্রতি ৬ ডলারে রপ্তানি শুরু হলেও পরে দাম বাড়িয়ে ১০ ডলার করা হয়।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্যমতে—
২০১৯-২০ অর্থবছরে ৪৭৬ টন ইলিশ রপ্তানিতে আয় হয় ৩৯.৫ লাখ ডলার।
২০২০-২১ অর্থবছরে ১ হাজার ৬৯৯ টন রপ্তানিতে আয় দাঁড়ায় ১ কোটি ৬৪ লাখ ডলার।
২০২১-২২ অর্থবছরে ১ হাজার ২৩০ টন রপ্তানি করে আয় হয় ১ কোটি ২৪ লাখ ডলার।
২০২২-২৩ অর্থবছরে ১ হাজার ৩৯১ টনে আয় হয় ১ কোটি ৩৮ লাখ ডলার।
২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৮০২ টন রপ্তানি থেকে আয় হয় ৮০ লাখ ডলার। সে সময় প্রতি কেজি ইলিশের দাম ধরা হয় ১০ ডলার বা ১ হাজার ৯৮ টাকা।
মন্তব্য করুন
