শুক্রবার
২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এখনো অনিশ্চিত জুলাই সনদের ভবিষ্যৎ, নির্বাচন পেছানোর সুযোগ নেই

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ২৬ অক্টোবর ২০২৫, ০৫:২৬ পিএম
জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষর করছেন প্রধান উপদেষ্টা
expand
জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষর করছেন প্রধান উপদেষ্টা

জুলাই সনদের ভবিষ্যৎ এখনো অনিশ্চিত হয়ে আছে। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যেসব বিষয়ে প্রাথমিক ঐক্যমত্য গঠিত হয়েছে, সেগুলোর বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, এ বিষয়ে দ্রুত অগ্রগতি না হলে রাজনৈতিক দলগুলো আবারও মুখোমুখি অবস্থানে চলে যেতে পারে, যা চলমান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সংলাপ ও সমঝোতার মাধ্যমে সংকট নিরসনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখা দরকার। তারা মনে করেন, বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থা যদি নিয়ন্ত্রণে থাকে, তাহলে ফেব্রুয়ারিতে নির্ধারিত জাতীয় নির্বাচন পেছানোর সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ।

জুলাই সনদ প্রণয়নের প্রক্রিয়ায় জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে এখন পর্যন্ত ৩০টি রাজনৈতিক দল ও জোট আলোচনা করেছে। এর মধ্যে ২৫টি দল আনুষ্ঠানিকভাবে সনদে স্বাক্ষর করেছে। তবে নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত বেশ কিছু দল আলোচনায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পায়নি, যা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে রাজনৈতিক অঙ্গনে।

এখন মূল প্রশ্ন—সনদটি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া কীভাবে এগোবে? এই বিষয়ে কমিশন বর্তমানে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ ও নীতি বিশ্লেষকদের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জুলাই সনদের ভবিষ্যৎ এখনো অনিশ্চিত হলেও এর বাস্তবায়ন অত্যন্ত জরুরি। তাদের অভিমত, সনদের ধারাগুলো কার্যকর না হলে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে নতুন করে মুখোমুখি পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে, যা চলমান রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলবে।

রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ড. সাব্বীর আহমেদ বলেন, যেসব বিষয়ে দলগুলো একমত হয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়ন হওয়া দরকার এবং আমি আশাবাদী যে তা হবে। না হলে এখনকার পোস্ট-আপরাইজিং সময়ে দলগুলো একে অপরের বিপক্ষে অবস্থান নেবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক আসিফ মোহাম্মদ সাহান বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন কীভাবে হবে, কিংবা এখানে থাকা নোট অব ডিসেন্টগুলোর সমাধান কীভাবে হবে এই বিষয়গুলো নিয়ে আমরা এখনো কোনো মতৈক্যে পৌঁছাতে পারিনি। এটি আমার কাছে কোনো ঐক্যের প্রতীক মনে হচ্ছে না। বরং যদি আমরা দ্রুত মতৈক্যে না পৌঁছাই, তাহলে এখানে ভাঙাগড়ার সম্ভাবনা খুব বেশি।

তবে দলগুলোর বর্তমান অবস্থান বিবেচনায় নিয়ে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে না গেলে ফেব্রুয়ারির নির্বাচন পেছানোর কোনো সুযোগ নেই বলে মনে করেন এই দুই বিশ্লেষক। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি সম্পর্কে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করার তাগিদও দেন তারা।

রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ড. সাব্বীর আহমেদ বলেন, দুটি বিষয় খুব গুরুত্বপূর্ণ, একটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঠিকভাবে মোতায়েন, অন্যটি প্রশাসনের যথাযথ পুনর্বিন্যাস। নির্বাচনের প্রস্তুতি সঠিকভাবে হচ্ছে কিনা, নির্বাচনের দিন সবাই দায়িত্ব পালন করবে কিনা, এ বিষয়ে সরকারের একটি স্পষ্ট কাঠামো থাকা উচিত। এছাড়া আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি বিষয়ে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত না নিলে নির্বাচনে জটিলতা দেখা দিতে পারে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আসিফ মোহাম্মদ সাহান বলেন, আমরা এখন পর্যন্ত দেখছি, জামায়াতে ইসলামী বলছে তাদের দাবিগুলো না মানা হলে তারা নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে পুনর্বিবেচনা করবে। এই অবস্থান কতদূর পর্যন্ত তারা নেবে, সেটি জামায়াতের সিদ্ধান্ত। তবে যদি তারা ব্যাকট্র্যাক করতে দেরি করে ফেলে, তাহলে তা নতুন এক অস্থিরতার সম্ভাবনা তৈরি করবে। আর আমরা জানি, আগের সরকারের বিভিন্ন ইন্টারেস্ট গ্রুপ তখন এর সুযোগ নিতে পারে।

এজন্য রাজনৈতিক দলগুলোকে দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন