

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


আগামী জাতীয় নির্বাচন ঘিরে সার্বিক প্রস্তুতি ও সরকারের চলমান পদক্ষেপ নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে পৃথকভাবে সাক্ষাৎ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতারা।
বুধবার রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত এ বৈঠকগুলোতে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, গণভোট আয়োজন এবং জুলাইয়ের ঘটনাবলির বিচার প্রক্রিয়া সম্পর্কেও আলোচনা হয়।
প্রধান উপদেষ্টা উভয় দলকে আশ্বস্ত করে বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকার একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগ নিচ্ছে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সব রাজনৈতিক দলের সহযোগিতা দরকার।”
জামায়াতের প্রতিনিধিদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, “সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই। নির্বাচনী পরিবেশ যেন শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক হয়, সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”
প্রথমে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। প্রতিনিধিদলে ছিলেন সারজিস আলম, সামন্তা শারমিন ও খালেদ সাইফুল্লাহ।
এরপর জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ তাহেরের নেতৃত্বে দলটির চার সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক করেন। অন্যান্য সদস্য ছিলেন অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, এটিএম মাছুম ও রফিকুল ইসলাম খান।
সরকারের পক্ষ থেকে বৈঠকগুলোতে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ, আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল ও শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান।
এনসিপির পক্ষ থেকে নাহিদ ইসলাম বলেন, “নির্বাচনের আগে জুলাই সনদের বাস্তবায়ন এবং জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচারের রোডম্যাপ স্পষ্ট হওয়া জরুরি।”
প্রধান উপদেষ্টা এ সময় এনসিপিকে জুলাই সনদে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান এবং বলেন, “এটি জাতীয় ঐক্যের প্রতীক, তাই সকলের অংশগ্রহণ প্রয়োজন।”
তিনি আরও জানান, সনদ বাস্তবায়নের বিষয়টি নিয়ে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন কাজ করছে এবং এনসিপি সেই কমিশনের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগও করেছে।
জামায়াতের নেতারা বৈঠকে জুলাই সনদ নিয়ে গণভোট দ্রুত আয়োজনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, “নির্বাচনের আগে গণভোট হলে জনগণের মতামত স্পষ্ট হবে।”
তারা জানান, প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বে গঠিত প্রশাসনের নিরপেক্ষতার ওপর তাদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টা জানান, নির্বাচনের আগে প্রশাসনের যেকোনো পরিবর্তন তিনি নিজেই তদারকি করবেন এবং নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।
মন্তব্য করুন
