শুক্রবার
০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ক্যান্সারের চিকিৎসা নিতে কলকাতা, ‍ফুটপাতেই কাটছে বাংলাদেশি রোগীদের রাত

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:০৫ এএম আপডেট : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৫৮ এএম
ক্যান্সারের চিকিৎসা নিতে কলকাতা, ‍ফুটপাতেই কাটছে বাংলাদেশি রোগীদের রাত। ছবি: সংগৃহীত
expand

ক্যান্সারের চিকিৎসার জন্য কলকাতায় এসে আবাসন সংকটে পড়েছেন বাংলাদেশি রোগী ও তাদের স্বজনরা। কম খরচের হোটেল বন্ধ থাকায় অনেকে ঠাকুরপুকুর ক্যান্সার হাসপাতালের সামনের সড়ক ও ফুটপাতে রাত কাটাচ্ছেন।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে হাসপাতালসংলগ্ন এলাকায় দেখা যায়, অনেকে লাগেজ ও ওষুধপত্র পাশে রেখে রাস্তায় শুয়ে আছেন। কেউ চাদর গায়ে, কেউ পলিথিনের নিচে আশ্রয় নিয়েছেন। বৃষ্টি, মশার উপদ্রব, শৌচাগারের সংকট এবং যানবাহনের শব্দে তাদের দুর্ভোগ বাড়ছে।

ভুক্তভোগীরা জানান, কম খরচের হোটেলগুলো বন্ধ থাকায় কোথাও কক্ষ পাওয়া গেলেও দেড় থেকে দুই হাজার রুপি বা তার বেশি ভাড়া চাওয়া হচ্ছে। সীমিত সামর্থ্যের কারণে অনেকেই সেই খরচ বহন করতে পারছেন না।

এক বাংলাদেশি নারী জানান, প্রায় আট বছর ধরে কলকাতায় চিকিৎসা করাচ্ছেন। এবার ফলোআপে এসে থাকার জায়গা না পেয়ে প্রথমবার এমন পরিস্থিতির মুখে পড়েছেন। রাস্তায় ঘুমানোর সময় টাকা, মোবাইল ও পাসপোর্টের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।

আরেক বাংলাদেশি জানান, ডেপুটি হাইকমিশনের দেওয়া হোটেলের তালিকা অনুযায়ী যোগাযোগ করেও অনেক জায়গায় কক্ষ পাওয়া যায়নি।

পরিস্থিতির খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার কলকাতার বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশনের প্রতিনিধিরা ক্যান্সার হাসপাতালে গিয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করেন। পরে প্রায় শতাধিক বাংলাদেশি তাদের কাছে আবাসন সংকটের কথা জানান। তাদের একটি হোটেলের তালিকাও দেওয়া হয়। তবে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, তালিকার অনেক হোটেলেও কক্ষ পাওয়া যাচ্ছে না।

গত ১৮ আগস্ট কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার ‘শিখা ইন’ হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে সাত বাংলাদেশি ও দুই ভারতীয় নাগরিক নিহত হন। এরপর শহরের হোটেল, গেস্টহাউস ও লজের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক তৎপরতা শুরু হয়। কলকাতা পুরসভার তথ্য অনুযায়ী, ৭০০-এর বেশি প্রতিষ্ঠানকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

নিরাপত্তার কারণে নেওয়া প্রশাসনিক পদক্ষেপের প্রভাবে চিকিৎসার জন্য কলকাতায় আসা নিম্ন ও মধ্যম আয়ের রোগী-স্বজনরা আবাসন সংকটে পড়েছেন। নিরাপদ ও সাশ্রয়ী থাকার ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
City bank
City bank