

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


চট্টগ্রামের এক ব্যবসায়ীর কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে তার ছেলে ও মেয়েকে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গত চার দিন ধরে বিদেশি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে ফোন করে ওই ব্যবসায়ীকে ধারাবাহিকভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এতে আতঙ্কে দিন কাটছে তার পরিবারের সদস্যদের।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মাকসুদ রহমান নগরীর বায়েজিদ বোস্তামি থানার মোজাফফর নগর এলাকার বাসিন্দা। তার বাবার নাম মোজাফফর আহম্মদ চৌধুরী। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার বায়েজিদ বোস্তামি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন মাকসুদের স্ত্রী মাহফুজা খানম রুনা।
জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ফোন করে মাকসুদ রহমানকে বলা হয়, ‘আমি বড় সাজ্জাদের লোক। রায়হানের লোক। তুই মাসে ২৫ লাখ টাকা ইনকাম করিস। ২০ লাখ টাকা দিতে হবে তোকে। না হলে তোর ছেলেকে তুলে নিয়ে মেরে ফেলব। তোর মেয়ে কলেজে কীভাবে যায় দেখব।’
অভিযোগ অনুযায়ী, গত চার দিন ধরে বিভিন্ন বিদেশি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে মাকসুদ রহমানের মোবাইলে একের পর এক কল আসছে। ফোনদাতারা টাকা দাবি করার পাশাপাশি তার পরিবারের সদস্যদের ক্ষতি করার হুমকি দিচ্ছে।
মাকসুদ রহমানের নগরীর মোজাফফর নগরে ‘এম কে চৌধুরী ট্রেডিং অ্যান্ড ট্রান্সপোর্টস’ নামে গাড়ি বিক্রির একটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এ ছাড়া তিনি রিয়েল এস্টেটসহ বিভিন্ন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত।
মাকসুদ রহমান বলেন, ‘এক মাস আগে আমাকে একবার কল করেছিল হোয়াটসঅ্যাপে। আমি নাকি কোটি কোটি টাকার মালিক। আমাকে চাঁদা দিতে বলা হয়। আমি পাত্তা দিইনি। এরপর গত ৩১ আগস্ট সকালে একবার কল দেয়। আমি গালিগালাজ করে কল কেটে দিই। পরদিন সকালে আবার কল দিলে আমার স্ত্রী রিসিভ করেন। তখন বড় সাজ্জাদ ও রায়হানের লোক পরিচয় দিয়ে হুমকি-ধমকি দিয়ে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। আমরা সেটা রেকর্ড করে রাখি।’
‘এরপর হোয়াটসঅ্যাপে আমার ছেলের ছবি পাঠায়। ছেলেকে তুলে নিয়ে যাবে, মেয়ের ক্ষতি করবে বলে হুমকি দিতে থাকে। আমার স্ত্রী অনেক অনুরোধ করেছে কোনো ক্ষতি না করার জন্য। তারা ২০ লাখ টাকা না দিলে আমাকে মেরে ফেলবে বলে জানায়। পুলিশকে জানালে পুরো পরিবারের ক্ষতি করবে বলে হুমকি দেয়। এভাবে আজ (বৃহস্পতিবার) সন্ধ্যা পর্যন্ত তারা অনবরত কল দিয়ে যাচ্ছে। বাধ্য হয়ে জিডি করেছে আমার স্ত্রী’— যোগ করেন মাকসুদ রহমান।
অভিযোগের বিষয়ে বায়েজিদ বোস্তামি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোস্তফা কামাল বলেন, ‘জিডি হয়েছে। চারটি বিদেশি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর উল্লেখ করা হয়েছে। অনেক সময় সন্ত্রাসী সাজ্জাদ-রায়হানের নাম ব্যবহার করে হুমকি-ধমকি দেওয়া হয়। আমরা তদন্ত করে দেখছি।’
বিদেশে পলাতক ‘দুর্ধর্ষ শিবির ক্যাডার’ হিসেবে পরিচিত সাজ্জাদ আলী খান। চট্টগ্রামে ‘বড় সাজ্জাদ’ নামেই বেশি পরিচিত তিনি। গত দুই বছরে বড় সাজ্জাদ ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির একাধিক অভিযোগের তথ্য পুলিশের নথিতে রয়েছে।
এর মধ্যে স্মার্ট গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সাবেক সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমানের বাসভবনে চাঁদার দাবিতে গুলিবর্ষণের ঘটনাটি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। ওই ঘটনার পর চট্টগ্রামে বড় সাজ্জাদ ও তার অনুসারীদের তৎপরতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।


