

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


শরীয়তপুর সদর উপজেলায় একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। এ সময় হোটেলের নিচতলার পার্কিংয়ে থাকা ১২টি মোটরসাইকেল ও একটি প্রাইভেটকার পুড়ে গেছে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে সদর উপজেলার শরীয়তপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন নুর হোটেল ইন্টারন্যাশনালের ছয়তলা ভবনে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাত দেড়টার দিকে হোটেল ভবনের নিচতলার পার্কিংয়ে থাকা একটি প্রাইভেটকার থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। প্রথমে গাড়িটির চাকায় বিস্ফোরণ ঘটে। পরে গাড়ির ভেতরে থাকা সিলিন্ডার বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হলে মুহূর্তের মধ্যে আগুন পার্কিং এলাকা থেকে পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে।
অগ্নিকাণ্ডের সময় হোটেলের ভেতরে ১৭ জন মানুষ অবস্থান করছিলেন। আগুনের ভয়াবহতা বাড়তে থাকলে তারা নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ভবনের ছাদে উঠে যান। খবর পেয়ে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে এসে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন।
পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় ২০ মিনিট চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। একই সঙ্গে ভবনের ছাদে আটকে থাকা ১৭ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।
ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অগ্নিকাণ্ডে পাঁচজন আহত হয়েছেন। পরে আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়।
অগ্নিকাণ্ডে পার্কিংয়ে থাকা ১২টি মোটরসাইকেল ও একটি প্রাইভেটকার সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। তবে আগুনে মোট কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শী আলিম কাজি বলেন, নিচের পার্কিং-এ থাকা গাড়িটি থেকে যেকোনোভাবে আগুনের সূত্রপাত হয়। প্রথমে চাকা ব্লাস্ট হয়, তখন আমরা দূরে সরে যাই, তার কিছুক্ষণ পরে এমন শব্দে সিলিন্ডার ব্লাস্ট হয়েছে, যেন পুরো বিল্ডিং কেঁপে উঠেছে। তখনই আগুন ছড়িয়ে যায়। এসময় কিছু মানুষ আটকা পড়েছিল, তারা ওপরের দরজা ভেঙে ছাদে চলে গেছে। আমরা থানায় ফোন দিলে তারা ফায়ার সার্ভিস নিয়ে আসে।
পালং মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুধাংশু সরকার বলেন, আমরা বেতারের মাধ্যমে আগুন লাগার খবর জানতে পারি। পরে সঙ্গে সঙ্গে ফায়ার সার্ভিসও আসে। তাদের সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এনে উপরে আটকে থাকা সবাইকে উদ্ধার করি। আগুনে ১২টি মোটরসাইকেল ও একটি প্রাইভেটকার পুড়ে গেছে।
শরীয়তপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ইন্সপেক্টর শংকর বিশ্বাস বলেন, আমার আনুমানিক দেড়টার দিকে কল পেয়ে এখানে আসি। এসে দেখি হোটেলের নিচে যেখানে গাড়ি রাখা, সেখানে দাউদাউ করে আগুন জ্বলছে। আগুন বেশি থাকার কারণে আমরা উপরে পৌঁছাতে পারছিলাম না। পরে ২০ মিনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এনে উপরে আটকে থাকা ১৭ জনকে জীবিত উদ্ধার করি।
তিনি আরও বলেন, এরমধ্যে পাঁচজন আহত রয়েছেন। তাদের সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠিয়েছি। প্রাথমিকভাবে বিদ্যুতের থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা যাচ্ছে।


