

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বছর শেষ হতে বাকি আর মাত্র চার মাস। এরই মধ্যে ২০২৬ সালের সরকারি ছুটির তালিকায় সামনে থাকা ছুটিগুলোও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বছরের বাকি সময়ে সরকারি ছুটি রয়েছে মোট ছয় দিন। তবে এর মধ্যে তিনটি ছুটি পড়েছে শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটির দিনে। ফলে কর্মদিবসে অতিরিক্ত ছুটি হিসেবে পাওয়া যাবে মাত্র তিন দিন।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ২০২৬ সালের সরকারি ছুটির তালিকা অনুযায়ী, এ বছর সাধারণ ছুটি ১৪ দিন এবং নির্বাহী আদেশে ছুটি ১৪ দিন নির্ধারিত ছিল। সব মিলিয়ে সরকারি ছুটি ছিল ২৮ দিন। পরবর্তী সময়ে সরকার ৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ পুনর্বহাল করে দিনটিকে সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে। ফলে বছরের মোট সরকারি ছুটির সংখ্যা বেড়েছে।
সেপ্টেম্বরে ছুটি, তবে শুক্রবার
সেপ্টেম্বর মাসে জন্মাষ্টমী উপলক্ষে ৪ সেপ্টেম্বর সরকারি ছুটি থাকবে। দিনটি পড়েছে শুক্রবার। ফলে এটি সাপ্তাহিক ছুটির দিনের সঙ্গে মিলে যাওয়ায় চাকরিজীবীরা এর জন্য অতিরিক্ত কোনো কর্মদিবসের ছুটি পাবেন না।
অক্টোবরে দুই দিনের ছুটি
অক্টোবর মাসে দুর্গাপূজা উপলক্ষে দুটি সরকারি ছুটি রয়েছে। ২০ অক্টোবর মঙ্গলবার নবমী এবং ২১ অক্টোবর বুধবার বিজয়া দশমী উপলক্ষে ছুটি থাকবে। দুটি দিনই কর্মদিবসে পড়েছে এবং সরকারি চাকরিজীবীরা এ দুদিন ছুটি পাবেন।
নভেম্বরে ফিরেছে আরও এক সরকারি ছুটি
বছরের বাকি ছুটির তালিকায় নতুন করে যুক্ত হয়েছে ৭ নভেম্বর। সরকার ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বরকে ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ হিসেবে পুনর্বহাল করে এ দিন সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে। মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি বছরই দিনটি সরকারি ছুটি হিসেবে পালিত হবে।
তবে ২০২৬ সালে ৭ নভেম্বর পড়েছে শনিবার। তাই এ ছুটিও সাপ্তাহিক ছুটির দিনের সঙ্গে মিলে গেছে। ফলে এ দিনটির জন্য অতিরিক্ত কোনো কর্মদিবসের ছুটি পাওয়া যাবে না।
ডিসেম্বরে দুই দিনের ছুটি
বছরের শেষ মাস ডিসেম্বরে রয়েছে দুটি সরকারি ছুটি। ১৬ ডিসেম্বর বুধবার মহান বিজয় দিবস এবং ২৫ ডিসেম্বর শুক্রবার যিশুখ্রিস্টের জন্মদিন (বড়দিন) উপলক্ষে ছুটি থাকবে। তবে ২৫ ডিসেম্বর শুক্রবার হওয়ায় এ ছুটি থেকেও অতিরিক্ত কোনো কর্মদিবসের ছুটি পাওয়া যাবে না। ১৬ ডিসেম্বর পড়েছে কর্মদিবসে।
কারা পাবেন না?
এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ‘সরকারি ছুটির তালিকা’ মূলত দেশের সব সরকারি ও আধা-সরকারি অফিস এবং সংবিধিবদ্ধ, স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার জন্য প্রযোজ্য। ২০২৬ সালের প্রজ্ঞাপনেই এই প্রতিষ্ঠানগুলোর ছুটির বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।
তাই সব বেসরকারি চাকরিজীবী স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই ছয় দিনের ছুটি পাবেন; এমন নয়। বেসরকারি শিল্প-কারখানা ও প্রতিষ্ঠানের ছুটি শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট প্রজ্ঞাপন, শ্রম আইন এবং প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ছুটির ক্যালেন্ডার অনুযায়ী নির্ধারিত হয়। উদাহরণ হিসেবে, ২০২৬ সালে ঈদুল আজহা উপলক্ষে সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিসের বন্ধ/খোলা থাকার বিষয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় আলাদা প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল।
অর্থাৎ সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সামনে থাকা ছয় দিনের ছুটি নিশ্চিত হলেও বেসরকারি চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও প্রযোজ্য বিধানের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।


