শুক্রবার
০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জাবি ছাত্রীর সঙ্গে আপত্তিকর ভিডিও ফাঁস, মাভাবিপ্রবির দুই বিভাগের সংঘর্ষ

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:০৯ এএম
সংগৃহীত ছবি
expand

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) এক ছাত্রীকে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাভাবিপ্রবি) এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় পেয়ে ভিডিও ধারণ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে মাভাবিপ্রবির দুই বিভাগের (সিপিএস ও মেকানিক্যাল বিভাগ) মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ঘটেছে।

ভিডিও প্রকাশের পরপর গত ১ সেপ্টেম্বর ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ এড়াতে প্রক্টর অফিসে পূর্ব লিখিত সমঝোতা হওয়া সত্ত্বেও গতকাল বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে পুনরায় সিপিএস এবং মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘাতের সৃষ্টি হয়।

ঘটনার বিবরণ থেকে জানা যায়, গত ১ই সেপ্টেম্বর, মঙ্গলবার জাবির এক ছাত্রীকে মাভাবিপ্রবির এক শিক্ষার্থীর সাথে আপত্তিকর অবস্থায় পেয়ে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের মরুফ নামের এক শিক্ষার্থী ভিডিও ধারণ করেন এবং তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। এতে ক্যাম্পাসে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

পরিস্থিতি সামাল দিতে ওই দিনই প্রক্টর কার্যালয়ে এক জরুরি বৈঠক ডাকা হয়। ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগ, সাংবাদিক প্রতিনিধি এবং ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ আলোচনা শেষে উপস্থিত সকলে সমঝোতাপত্রে স্বাক্ষর করে ঘটনাটির স্থায়ী নিষ্পত্তিতে একমত পোষণ করেন।

পূর্বের লিখিত চুক্তি সত্ত্বেও সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত পৌনে ১১টার দিকে ক্যাম্পাসে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দেয়। সিপিএস বিভাগের শিক্ষার্থীদের দাবি, ওই ভিডিও অন্য আরেকটি পেজে পুনরায় ছড়িয়ে যাওয়ার বিষয়ে, আর সেটিকে কেন্দ্র করে তারা মারুফের মোবাইল ফোন পুনরায় বাজেয়াপ্ত করে।

পরে মোবাইল ফোনটি পুনরায় উদ্ধার নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে সিপিএস বিভাগের শিক্ষার্থী ও মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থীরা মুখোমুখি অবস্থান নেয় এবং ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় লিপ্ত হয়। এমতাবস্থায় পরিস্থিতি সামাল দিতে বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি ও পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী ইশতিয়াক আহমেদ বাধা প্রদান করতে গেলে তার মাথায় আঘাত করা হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মুহূর্তের মধ্যেই ক্যাম্পাসে একটি রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ রূপ নেয়। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়ে টাঙ্গাইল জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি হন বলে জানা গেছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ঘটনার সময় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দ্রুত সাড়া প্রদান করেনিও আহতদের পাশে দাঁড়ায়নি। অন্যদিকে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে প্রক্টরিয়াল বডি কাজ করছেন বলে দাবি করেন।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর অধ্যাপক ড. মনির মোর্শেদ বলেন, আমরা ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। ইতোমধ্যে পরিসংখ্যান বিভাগের দুজন শিক্ষক আহতদের খোঁজ-খবর নিয়েছেন। আমরা এখন সবাইকে নিয়ে বৈঠকে বসব এবং সম্পূর্ণ বিষয়টি পুনরায় খতিয়ে দেখব। ইনভেস্টিগেশন শেষ হলে আলোচনার ভিত্তিতে এর সমাধান বা শাস্তি নিয়ে জানানো সম্ভব হবে। এর আগে সমঝোতায় আসার পরও পুনরায় এরূপ ঘটনা ন্যক্কারজনক।

‘শাস্তি হিসেবে কাউকে বহিষ্কার করা হতে পারে কিনা?’- এমন প্রশ্নের জবাবে প্রক্টর জানান, সম্পূর্ণ বিষয়টির ইনভেস্টিগেশন শেষে আলোচনা -পর্যালোচনার ভিত্তিতে এ বিষয়ে বলা জোর দিয়ে বলা সম্ভব হবে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
City bank
City bank